সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিস্তৃত হতে বাধ্য ও তার ফল হবে সার্থকতা বৃদ্ধি. এই বিষয়ে সংস্থার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে চিনে রাশিয়ার রাজদূত সের্গেই রাজভ. চিনের বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ও বক্তৃতা দিয়েছেন, তাঁরা কিন্তু মনে করেন যে, আসন্ন কিছু কালের মধ্যে এই সংস্থায় নতুন সদস্য বোধহয় যুক্ত হবে না. সব দিক বিচার করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রসার সম্বন্ধে প্রশ্নে ঐক্যমত এখনও কিন্তু আগের মতই পাওয়া সম্ভব হয় নি.

    রাশিয়ার অবস্থান সম্বন্ধে যুক্তি দিয়ে, সের্গেই রাজভ এই সংস্থার উন্মুক্ত দ্বার চরিত্রের কথাই উল্লেখ করেছেন. এটা রাশিয়ার কূটনীতিবিদের কথামতো, এই সংস্থার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পক্ষেই. রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন যে, এর ফলে সংস্থার ভিতরে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব ভাল পরিবর্তন ও সার্বিক সার্থকতা বাড়বেই. তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১০ সালে তাশখন্দ শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিয়ম তৈরীর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল ও এই বছরের জুন মাসে আস্তানা শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য হওয়ার জন্য প্রার্থী দেশের বাধ্য বাধকতা সম্বন্ধে সদিচ্ছা পত্র স্থির করা হয়েছিল. সুতরাং, রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মনে করেন যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বিস্তারের প্রশ্ন আলোচনার তালিকায় নেওয়া যেতেই পারে ও অবশ্যই তা উপযুক্ত ভাবে তৈরী করার পরে.

    চিনের বিশেষজ্ঞরা আলোচনার সময়ে বেশী সংরক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছেন. তাঁরা মনে করেন যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিস্তার করার সময় এখনও আসে নি. চিনের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সংক্রান্ত অনুসন্ধান কেন্দ্রের কার্যকরী সমিতির সভাপতি শেন শিল্যান স্বীকার করেছেন যে, এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মধ্যে এই বিষয়েও মত দ্বন্দ্ব রয়েছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রসারের কোনও প্রয়োজন বর্তমানে আছে কি না ও কোন দেশ এই সংস্থায় যোগ দেওয়ার উপযুক্ত, তা নিয়ে.

    এখানে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, চারটি পর্যবেক্ষক দেশের মধ্যে - তিনটি দেশ (ভারত, পাকিস্তান ও ইরান) এই সংস্থায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট করে মত দিয়েছে. যদি তাদের এই ইচ্ছার গভীরতা অনুযায়ী দেশ গুলিকে সাজানো হয়, তবে প্রথমে ইরান থাকবে, দ্বিতীয় পাকিস্তান হবে ও তৃতীয় ভারত. কিন্তু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার গঠন তন্ত্রের নীতি সংক্রান্ত নিয়ম ও আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তবতা প্রথমেই ইরানকে এই তালিকা থেকে বাদ পড়তে বাধ্য করে, কারণ তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, তাই তারা এই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হতে পারে না. জটিল জোড় ভারত – পাকিস্তান থেকে যাচ্ছে, যারা আগামী পাঁচ সাত বছর এখনও এই ছয় দেশের সমিতিতে প্রবেশ করার জন্য লড়াই করবে. এখানেই সত্যিকারের মত বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে এক সাক্ষাত্কারে সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

    "চিনের বিশেষজ্ঞদের অভিগমন এই বিষয়েই সীমাবদ্ধ যে, এই সংস্থার বিস্তার এখন ও আগামী স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজন নেই, যাতে সংস্থা নিজে থেকেই তার রূপ নেয়. নতুন সদস্য দেশ গুলি শুধু এই সংস্থার সমস্যাই বাড়াবে, আর এটা আজ লক্ষ্য সাধনের উপযুক্ত নয়. এই মতের পিছনে খুবই গভীর কারণ রয়েছে – রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চরিত্রের. বেইজিং ইচ্ছুক নয় যে, ভারত এই সংস্থার স্থায়ী সদস্য হিসাবে যুক্ত হোক, কারণ এটা চিনকে কিছুটা দমিয়ে দেবে. ভারতবর্ষ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য প্রাপ্তির পরে বহু বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় চিনের বদলী শক্তি হিসাবে কাজ করতে পারে".

    এই ভাবে, বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, চিন যত বেশী দিন পারে ভারতের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানের রাস্তা আটকে রাখবে. ভারত ও পাকিস্তানের একই সময়ে এই সংস্থার সদস্য হওয়াও সাহায্য করবে না. বহু বিশেষজ্ঞই উল্লেখ করেছেন যে, এই রকম হলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা নিজেদের অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলবে, কারণ ভারত পাকিস্থানের বিরোধ আগে হোক বা পরেই হোক এই সংস্থাকে ভিতর থেকেই বিস্ফোরিত করবে. এই যুক্তি দিয়েই চিনের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সংক্রান্ত অনুসন্ধান কেন্দ্রের কার্যকরী সমিতির সভাপতি শেন শিল্যান এর বক্তব্যের ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, যিনি উল্লেখ করেছেন যে, আপাততঃ কোন দেশই নেই, যারা সম্পূর্ণ ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নিয়ম মাফিক হতে পারে. একই সময়ে চিনের বিশেষজ্ঞ ঘোষণা করেছেন যে, বেইজিং প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকায় রাশিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো জায়গা দখল করতে পারেও না এবং চায়ও না.