ভারত ইরানকে খনিজ তেলের দাম হিসাবে পাঁচশ কোটি ডলার সম্পূর্ণ ভাবে দিয়ে দিয়েছে. এই অর্থ দেওয়া হয়েছে নগদ ডলারে. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পরিচালক মাহমুদ বাহমাতি কে উল্লেখ করে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই ধরনের অবাক করার মতো পদ্ধতি বর্তমানের অতি উন্নত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থা থাকা স্বত্ত্বেও হঠাত্ করে হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে. কিন্তু এটা বাধ্য হয়ে করা. ইরান ও ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে করা রাজনীতির কাছে বন্দী হয়েছে, যাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের কাছ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোর করে নেওয়ানোর. বিগত সময়ে ভারত খনিজ তেলের জন্য হামবুর্গ শহরে ইরানের ব্যাঙ্ক অইরোপীশ- ইরানিশে হান্ডেলসব্যাঙ্ক ব্যবহার করে ইরানকে দাম দিয়েছে. কয়েক মাস আগে পশ্চিমের রাজনীতিবিদদের নিষেধাজ্ঞার কাঠামোর চাপে পড়ে জার্মানীর সরকার এই ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল. মার্কিন সরকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ইরানের তেলের জন্য দাম এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন ব্যবহার করে দেওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে. এই ভাবে ইরানের খনিজ তেলের জন্য ভারতের বাজারকে প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল. মস্কোর বিনিয়োগ ও জ্বালানী ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ফেইগিন বর্তমানের পরিস্থিতিকে এই ভাবে একটা চরিত্র চিত্রণ করেছেন:

    "অবশ্যই এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ প্রভাবের ফল, যা তারা আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউট গুলির উপরে সৃষ্টি করেছে. ভারত সেই গুলির সঙ্গে যুক্ত আর অবশ্যই আগ্রহী যে, নিজেদের প্রতি এই গুলির ভাল সম্পর্ক বজায় রাখার. এখানে শুধু কোন একটি নিষেধাজ্ঞার কথাই হচ্ছে না. সেই গুলি বর্তমানে একটা নির্দিষ্ট স্তরে গিয়ে আটকা পড়ে রয়েছে ও কোন ফলই দিচ্ছে না. তাই বেঁকা পথে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ইরানের কোম্পানী গুলির সেই সমস্ত দেশে, যাদের সাথে তাদের ব্যবসা, স্বার্থ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে".

    এই ধরনের পরিস্থিতিতে দিল্লীকে খুবই ব্যতিক্রমী উপায় বের করতে হয়েছে – এর মধ্যেই পাওয়া তেলের দামের জন্য ঋণ নগদ অর্থে মিটিয়ে. চিনেরও অনেক খনিজ তেলের জন্য ঋণ হয়েছে.

    বেইজিং সমস্যা সমাধান করেতে চেয়েছে, ইরানের সঙ্গে খনিজ তেলের বদলে, তাদের দেশে উত্পন্ন দ্রব্য ও পরিষেবা দিয়ে বিনিময় করে দাম মেটানোর. কিন্তু তেহরান ভয় পেয়েছে যে, তাদের দেশে সস্তা দরে চিনে জিনিস পৌঁছবে ও তার প্লাবনে স্থানীয় উত্পাদন মার খাবে. আর খনিজ তেলের বিনিময়ে সাধারন লোকের ব্যবহার্য জিনিস বিনিময়, মনে তো হয় না যে, ইরানের পক্ষেই লাভজনক.

    ভারত চিনের পরে ইরানের থেকে খনিজ তেল আমদানী করার বিষয়ে দ্বিতীয় বড় দেশ. এই সরবরাহ থেকে ভারতের প্রয়োজনের শতকরা বারো শতাংশ পাওয়া হয়ে তাকে. তাই ভারত খুবই আগ্রহী যে, ইরানের থেকে তেল পাওয়া চলুক. এমনকি তার জন্য যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত ইরান বাণিজ্যের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, তাহলেও.