আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার প্রধান কাজ হবে চাঁদকে জুড়ে নেওয়া. এই ধরনের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজস্ব মন্তব্য সের্গেই করোলিয়ভের এক নিকটতম সহকর্মী ও বিখ্যাত সোভিয়েত ও রুশ বিজ্ঞানী – মহাকাশ যান নির্মাতা বরিস চেরতোক প্রকাশ করেছেন.

    আমাদের যেমন ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ রয়েছে, তেমন ভাবেই পৃথিবীর আরও একটা অংশ হওয়া উচিত্ – চাঁদ, এই কথা বলেছেন বরিস চেরতোক, আজ (৫ই সেপ্টেম্বর) মস্কো শহরে শুরু হওয়া বিশ্ব মহাকাশ উড়ান সম্মেলনে যোগ দিতে এসে. বিজ্ঞানী মনে করেছেন যে, পৃথিবীর সঙ্গে অবশ্যই মহাকাশ বিজ্ঞানের ব্যবস্থা দিয়ে চাঁদকে যুক্ত করে নেওয়া এক প্রধান কাজ. তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের গবেষণা সংক্রান্ত সম্ভাবনা অধিকাংশ অর্থেই এর মধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে. আজ চাঁদের সম্বন্ধে নিজেদের উচ্চাকাঙ্খার কথা অনেক দেশই বলেছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনও রয়েছে. আর রাশিয়ার যদি স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহ অভিযান হয়েও থাকে, তাহলেও চাঁদকে দিয়েই সে দিকে যাওয়া ঠিক হবে, এই কথা মনে করে কেন্দ্রীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউট ও একক যন্ত্র প্রযুক্তি উত্পাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রধান নিকোলাই পানিচকিন বলেছেন:

    "যখন স্থির করা হয়েছিল যে, প্রথমে কোনটা চাঁদ না মঙ্গল, তখন বিভিন্ন মত ছিল. আমাদের ইনস্টিটিউট মনে করে যে, মঙ্গল গ্রহের মত দূরের লক্ষ্য স্থির রেখেও আমাদের উচিত্ চাঁদের মধ্যে দিয়েই যাওয়া. সেখানে এখনও অনেক কিছুই ভাল করে গবেষণা করে দেখা হয় নি. চাঁদে দূরের মহাকাশের জন্য গবেষণা কেন্দ্র খোলা যেতে পারে, প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য. তাই, ২০৪৫ সালে এই গ্রহে পাইলট সহ মহাকাশ যান পাঠানোর আগে আমাদের ২০৩০ সালের মধ্যেই অগ্রবর্তী স্তর তৈরী করা দরকার. আর তিরিশ থেকে চল্লিশ সালের মধ্যে চাঁদের বিস্তৃত ভাবে ব্যবহার করার জন্য মহাকাশ কেন্দ্র ও গবেষণাগারের তৈরী করা দরকার".

    নিকোলাই পানিচকিন মনে করেন যে, চাঁদে প্রকল্প তৈরীর করার সময়ে মনোযোগ দেওয়া দরকার হবে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে খাবার জিনিস ও জ্বালানীর ভাণ্ডার তৈরী করার বিষয়ে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এই কাজ বোধহয় করা যাবে না, কারণ এই স্টেশন ২০২০ সালে কাজ করা বন্ধ করবে. আর চাঁদে যাওয়ার জন্য বড় ধরনের অভিযান শুরু হবে ২০২০ সালের পরেই. মঙ্গল গ্রহ যাত্রা নিয়ে যা ভাবা হয়েছে, তার মধ্যে আপাততঃ মহাকাশ অভিযাত্রীদের মহাকাশের বিচ্ছুরণ থেকে রক্ষা করার সমস্যা রয়েই গিয়েছে. এর জন্য যা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা মঙ্গল গ্রহে যাতায়াতের পথে নিজে থেকেই রক্ষা করার বদলে যাত্রীদের স্বাস্থ্যের উপরে প্রবল প্রভাব বিস্তার করার মতো উত্স হয়ে উঠতে পারে. আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথাও রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করে বলেছেন:

    "যখন আমাদের ইনস্টিটিউট এই ধরনের স্ট্র্যাটেজির কথা বলছে, তখন আমরা একই ধরনের পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের তরফ থেকেও দেখেছি. আর দেখতে পাচ্ছি যে, বর্তমানে আগামী দশ পনেরো বছরের জন্য মহাকাশ গবেষণার পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না. দূরের মহাকাশে গবেষণার প্রকল্প গুলি এতই বড় যে, চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহ নিয়ে পরিকল্পনা থাকা দরকার কম করে হলেও আগামী পঞ্চাশ বছরের জন্য. চিনে দেখতে চাওয়া হয়েছে আজ থেকে একশ বছর পরের সম্ভাবনা. সুতরাং সঠিক দিকের নির্বাচন খুবই খুঁটিয়ে দেখা দরকার. যদিও যে কোন ধরনের পরিকল্পনাতেই অনেক প্রযুক্তি রয়েছে, যা আধুনিক জীবনে ব্যবহার করা যেতে পারে".

0    এই কথা এহ বাহ্য যে, চাঁদের দিকে দৌড় হওয়া উচিত্, একেবারেই শান্তির. মহাকাশে, যেমন জানা আছে যে, কোন রকমের পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা বা রাখা চলতে পারে না. যদি অদূর ভবিষ্যতে চাঁদে সব দেশের মহাকাশ যাত্রীরা তাঁদের স্টেশন তৈরী করতে চান, তবে সেখানে তৈরী হওয়া দরকার থাকার জায়গা, বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার, মূল্যবান ব্যবহার্য খনিজ উত্পাদনের কারখানা, কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়.