সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় সঙ্ঘ নতুন নিষেধাজ্ঞা নিতে চলেছে. যদি বাশার আসাদ বিরোধী পক্ষের বিদ্রোহকে কড়া হাতে দমন করা বন্ধ না করেন ও নিজে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তবে সিরিয়া থেকে খনিজ তেল আমদানী করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে. এই বিষয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালেন জ্যুপ্পে ঘোষণা করেছেন. বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন যে, ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের অংশগ্রহণ ছাড়াই সিরিয়াতে আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি একেবারে বিস্ফোরক হয়ে উঠবে, কারণ রমজান মাস শেষ হয়েছে.

    বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, সিরিয়াতে ঘটনা, নীতিগত ভাবে লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারে না ও করা উচিত্ ও নয় – এই অঞ্চলে পরিস্থিতি ভূ রাজনৈতিক ভাবেই যথেষ্ট জটিল ও তা মনে করিয়ে দেয় ফুটন্ত কটাহের কথা. সিরিয়া লেবানন, ইরাক, ইরান, ইজরায়েল ও তুরস্কের সঙ্গে একই গ্রন্থিতে বাঁধা. শুধু মাত্র এই দেশ গুলির নাম নেওয়াতেই সম্ভাব্য পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেয়. বাশার আসাদ নিজে অন্যান্য আরব দেশ গুলি, যেখানে এই বছরের বসন্ত থেকে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জোয়ার লেগেছে, তাদের সমস্ত নেতাদের মধ্যে যথেষ্ট আলাদা হয়ে আছেন. তিনি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে শক্তি প্রয়োগ করে রুখে দাঁড়ানোর বিষয়ে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছেন ও চেষ্টা করছেন দেশে রাজনৈতিক সংশোধন করার, এই গুলির মধ্যে মুখ্য হল – দেশের সংবিধানের অষ্টম অনুচ্ছেদের পরিবর্তন, যা দেশের ক্ষমতায় থাকা দল "বাস" কেই একমাত্র শাসক দল হিসাবে স্বীকৃতি দেয়. তাই বাইরের দেশ থেকে যে কোন ধরনের অনুপ্রবেশই এই বিরোধে ইন্ধন যোগাতে পারে ও এই এলাকায় সম্পূর্ণ ভাবেই যুদ্ধ শুরু করাতে পারে.

    তার উপরে, যদি এই ধরনের বিরোধের আগুণ ছড়িয়ে পড়ে, তবে এমনকি বিভিন্ন ধর্ম মতের মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হতে পারে. আর তাতে তুরস্ক ও ইরান ছাড়া ইরাকও দলে পড়তে পারে. এই কারণেই পশ্চিমের দেশগুলি তাই সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন. কিন্তু সমস্যা হল যে, তাদের প্রত্যেকেই নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ভাবছে আলাদা করে. ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই এলাকার জ্বালানী সম্পদ নিয়ে যুদ্ধ শুরু করল বলে – কিন্তু সব থেকে বিপজ্জনক হল যে, কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্যই বাশার আসাদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রয়োজনীয় নন. পশ্চিমের দুনিয়ার তাঁর প্রতি বিরাগ শুধু রাজনীতিবিদদের মন্তব্যেই প্রকাশিত হয় নি, বরং তার মধ্যেও, যখন পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে লিবিয়ার বিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছে. তার ওপরে বোঝা যাচ্ছে না, পশ্চিমের নেতারা বাশার আসাদকে সরিয়ে দেওয়া হলে, ক্ষমতায় আসা বিরোধী পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে কি না.

    যথেষ্ট ভারসাম্য রেখে সিরিয়ার সমস্যাকে দেখছে শুধু রাশিয়া ও চিন, এই কথা মনে করেছেন নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি. মস্কো বা বেইজিং, কেউই চায় না যে, সেখানে লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক. লিবিয়ার ঘটনা রাশিয়া ও চিনের এই উত্তর আফ্রিকার দেশে অর্থনৈতিক আগ্রহকে শূণ্যে পরিনত করেছে. মনে করিয়ে দিই যে, রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী মিখাইল বগদানোভ দামাস্কাসে গিয়ে সিরিয়ার প্রধান বাশার আসাদকে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন. রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তাকে সমর্থন করা হয়েছে. সেই দেশের সরকার এই সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বাধ্য. আর বিরোধী পক্ষ সরকারের প্রস্তাবিত আলোচনা থেকে বিরত যেন না থাকে. শুধুমাত্র এই ভাবেই দেশে নাগরিক শান্তি ও সহমতে পৌঁছনো যেতে পারে. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, বাশার আসাদ রাশিয়ার পদক্ষেপকে পশ্চিমের কাজকর্মের সঙ্গে তুলনায় একমাত্র ভারসাম্য যুক্ত বলে মনে করে বলেছেন ও পশ্চিমের অবস্থান যে শুধু সিরিয়ার প্রশাসনের উপরে চাপ সৃষ্টি করার জন্যই করা হয়েছে, তা উল্লেখ করেছেন.

    দিমিত্রি মেদভেদেভের বার্তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রস্তাবের ভিত্তি হয়েছে. এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে সহকর্মী ব্রিকস দেশ গুলি – ব্রাজিল, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা প্রকাশ করেছে. মস্কোর কূটনৈতিক উদ্যোগ পশ্চিমের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ব্যতিক্রম হয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিনের কথা অনুযায়ী, যা একেবারেই বাস্তব বিমুখ ও একদেশ দর্শী. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, একমাত্র রাশিয়ার প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের খসড়াই সিরিয়াতে ভারসাম্য বজায় রেখে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে. একই সময়ে এই বিরোধের বিষয়ে যে কোন ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধিই সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু করতে পারে, যার মধ্যে বহু দেশই যুক্ত হয়ে যাবে – তা যেমন আরব দেশ গুলি, তেমনই ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ.