সারা বিশ্ব জুড়ে এখন লিবিয়ার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের কাতারের আমীর শাহীর প্রশাসনকে ও আরব লীগের সাধারন সম্পাদককে লেখা চিঠি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে. এই বার্তা ফ্রান্সের "লিবেরাসিওন" সংবাদ পত্র প্রকাশ করেছে প্যারিসে লিবিয়ার বন্ধু নামে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কয়েক ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার. চিঠিতে লিবিয়ার জঙ্গীরা (আর বর্তমানে তারাই বহু দেশের পক্ষ থেকে লিবিয়ার প্রশাসক বলে স্বীকৃত) ফ্রান্সকে আশ্বাস দিচ্ছে যে, সামরিক কাজে সাহায্য করলে তারা দেশে উত্পাদনের শতকরা ৩৫ ভাগ খনিজ তেল ফ্রান্সকেই দেবে.

    ফ্রান্সের সাংবাদিকেরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে এই বার্তার তারিখ তেসরা এপ্রিল ২০১১ সাল. অর্থাত্ তা পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়ার আকাশে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার তিন সপ্তাহ পরেই, যার পরে তা বিদ্রোহীদের পক্ষ নিয়ে এক সম্পূর্ণ মাপের যুদ্ধেই পরিনত হয়েছিল. "লিবেরাসিওন" পত্রিকায় এই বার্তা প্রকাশের অব্যবহিত পরেই এই স্ক্যাণ্ডাল সৃষ্টি করা খবরের সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালেন জ্যুপ্পে, তিনি বলেছেন:

    "আমি এই চিঠি সম্বন্ধে কিছুই জানি না. আমি শুধু জানি যে, অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ সরকারি ভাবে ঘোষণা করেছে যে, লিবিয়ার পুনর্গঠনের জন্য তারা বিশেষ অধিকার তাদেরই দেবে, যারা তাদের সমর্থন করেছে. এটা একেবারেই যুক্তি সঙ্গত ও ন্যায় সঙ্গত. আমরা এই বিষয়ে একা নই. ইতালি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে রয়েছে. লিবিয়াতে কাজ করা দামী বিষয়, কিন্তু এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য. গণতান্ত্রিক দেশ স্থায়ী বন্দোবস্তের বিষয়, নিরাপদ ও উন্নতির ভিত্তি".

    পররাষ্ট্র মন্ত্রী একই সঙ্গে জানিয়েছেন যে, লিবিয়ার জনতাকে সাহায্য করার জন্য ফ্রান্স দেড়শ কোটি ইউরো লিবিয়ার আটকে রাখা অর্থ থেকে ছেড়েছে, যা আগে এখানের ব্যাঙ্ক গুলিতে আটক করা হয়েছিল. রয়টার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফরাসী দেশের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট গুলিতে লিবিয়ার সাতশো ষাট কোটি ইউরো আটক করা হয়েছিল.

    একই সময়ের মধ্যে ফরাসী টোটাল কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর ক্রিস্টফ দে মার্ঝেরি আজ অবধি লিবিয়াতে খনিজ তেল উত্পাদন নিয়ে নতুন কোন চুক্তি হয়েছে বলে স্বীকার করেন নি, তিনি আবার বলেছেন:

    "সেখানে লোকজন রয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন. আমরা কোন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করি নি, আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলি নি. আমি বেনগাজি বা ত্রিপোলি যাই নি. আমার কোন প্রদর্শনী করার ইচ্ছা নেই. আমরা লিবিয়ার সঙ্গে কাজ করতেই পারি, কিন্তু এটা হবে লিবিয়ার লোকেদের ইচ্ছা ও সহমত থাকলেই. আমাদের প্রাথমিক কাজ হল – সেই সমস্ত জায়গা গুলি আবার চালু করা, যার জন্য আমরা দায়িত্ব নিয়েছি. এখানে কোন রকমের যুদ্ধ বা কারও অংশ কেড়ে নেওয়ার কথা উঠছে না. আমরা আজ লিবিয়াকে ও লিবিয়ার জনগনকে সাহায্য করতে বাধ্য, যাতে তারা যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন".

    ফ্রান্সের শিল্প ও জ্বালানী শক্তি মন্ত্রী এরিক বেস্সোন একই সঙ্গে অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের সঙ্গে কোন রকমের চুক্তির কথা অস্বীকার করেছেন, কিন্তু একই সময়ে লিবিয়ার জ্বালানী শক্তি উত্পাদনের সবচেয়ে ভাল জায়গা গুলি ফরাসী কোম্পানী দেরই প্রাপ্য বলে মনে করে বলেছেন:

    "চলুন মনে করে দেখি যে, টোটাল কোম্পানী লিবিয়াতে বিপ্লবের আগেও সেখানে ছিল. কোম্পানী আশা করে যে, তারা লিবিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজে ও জ্বালানী শক্তি সেক্টরে অংশ নেবে. দ্বিতীয়তঃ, এটা গোপন নয় যে, যখন থেকে ফ্রান্স লিবিয়াতে যা হয়েছে, সেই বিষয়ে নেতৃত্ব নিয়েছে ও তার মধ্যে গাদ্দাফি এবং তার সরকারের পতনও রয়েছে, আমাদের দেশ – সব ঘটনার প্রথম সারিতেই রয়েছে. এটা অবশ্য না হলেও, যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত যে, ফ্রান্স পুনর্গঠনের কাজে পুরোধা হবে ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও হবে. ফরাসী কোম্পানীরা লিবিয়াতে কাজ করার বিষয়ে খুবই আগ্রহী".

    এখানে যোগ করবো যে, লিবিয়ার খনিজ তেলের ভাণ্ডার মূল্যায়ণ করা হয়েছে চার হাজার চারশো কোটি ব্যারেল তেল. ২০১১ সালের শুরুতে এই উত্তর আফ্রিকার দেশ থেকে দিনে প্রায় একশো ষাট লক্ষ ব্যারেল তেল উত্পাদন করা হত, যা বিশ্বে সপ্তদশ স্থান দিয়েছে এই দেশকে. যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্স লিবিয়া থেকে তাদের উত্পাদনের শতকরা পনেরো ভাগ আমদানী করত ও ইতালির পরে আমদানীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানেই ছিল.