আসন্ন কিছু কালের মধ্যেই লিবিয়ার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের জন্য মুহম্মর গাদ্দাফির বিদেশী মুদ্রার আটক করা তহবিল থেকে পনেরো শো কোটি ডলার দোওয়া হতে পারে. এটাই প্যারিসের "লিবিয়ার বন্ধু" নামের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কাজের প্রধান ফল হয়েছে. আশা করা হয়েছে যে, এই অর্থ ছয় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পরে লিবিয়ার দেশ উন্নয়নের কাজে লাগানো হবে.

    নিরাপত্তা রক্ষা, পরিকাঠামোর নব নির্মান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন – এই গুলিই প্রাথমিক ভাবে লিবিয়ার প্রশাসনের লক্ষ্য হয়েছে. বহু রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের জন্যও অর্থের প্রয়োজন, কারণ ১৯৬৯ সাল থেকে এই দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয় নি. এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে আজ এক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হচ্ছে. রাশিয়া ও ইউক্রেন এর আগে অস্থায়ী জাতীয় পরিষদকে একমাত্র আইন সঙ্গত প্রশাসন বলে স্বীকার করেছে.

    সবচেয়ে বড় পরিমানে অর্থ অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ পাবে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে. লিবিয়ার প্রাক্তন স্বৈরাচারী নেতার তহবিলের দুশো কোটি ডলার ছাড়বে ফ্রান্স ও হল্যান্ড, আরও নরওয়ে থেকে ৩৭ কোটি ডলার রাষ্ট্রসঙ্ঘের অনুমোদন সাপেক্ষ ভাবে আসবে. এর আগে সংস্থার নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত দপ্তর গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে লিবিয়ার অর্থ আটক মুক্ত করার বিষয়ে আবেদনে সম্মতি দিয়েছে. ওয়াশিংটন থেকে ত্রিপোলি এখন অপেক্ষা করছে দেড় শো কোটি ডলার পাওয়ার. লন্ডন এর আগে তাদের বিমান বাহিনী ব্যবহার করে ত্রিপোলিতে ৪০ টন সদ্য ছাপা লিবিয়ার দীনার পাঠিয়েছে. এর আর্থিক মূল্য ২৩ কোটি মার্কিন ডলারের সমান, আশা করা হয়েছে, এই অর্থ সরকারি কর্মচারী ও দেশের টেলারিং মেশিন গুলি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হবে. বৃহস্পতিবারে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে লিবিয়ার বেশ কিছু খনিজ তেল কোম্পানী, ব্যাঙ্ক পরিকাঠামো ব্যবস্থা ও বন্দরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রাজনীতি বিষয়ে সর্ব্বোচ্চ সভার প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টন যেমন ঘোষণা করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত লিবিয়ার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের প্রশাসনের জন্য নেওয়া হয়েছে যাতে দেশের অর্থনৈতিক কাজ কারবার শুরু হতে পারে.

    অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের নেতা মুস্তাফা আবদেল জলিল বৃহস্পতিবারে আন্তর্জাতিক সমাজকে আগামী দেড় বছরের জন্য এক "পথ নির্দেশ" প্রস্তাব করেছেন. তার প্রধান বক্তব্য হল দেশের নতুন সংবিধান সৃষ্টি ও নির্বাচন সম্পন্ন করা. আসন্ন কালে লিবিয়া এক মিলিয়ন টন পর্যন্ত গম ও ময়দা আমদানীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. লিবিয়া রাশিয়া থেকে পঞ্চাশ হাজার টন গম ইতিমধ্যেই কিনেছে. মস্কোর সঙ্গে অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ আগে হওয়া অন্যান্য চুক্তিও পালন করবে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আফ্রিকা মহাদেশে বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ উল্লেখ করেছেন যে, "রাশিয়া আরব মৈত্রী ও রাশিয়া আরব সহযোগিতা – এটা ততটাই আধুনিক পরিভাষা, যা আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও ছিল. তাই তারা ভুল করছে, যারা মনে করে যে, এই ধারণা গুলি স্বৈরাচারী ও একনায়কতন্ত্রী প্রশাসনের সঙ্গেই জড়িত". তিনি এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন. মস্কো প্যারিসে এই বিশ্বাস নিয়েই এসেছে যে, বর্তমানের সাক্ষাত্কারে যোগাযোগ রক্ষাকারী দলের কাজের ইতি করা উচিত্, যা এই বিপ্লবের সময়ে করা হয়েছে. রাশিয়া এই দলগত ভাবে বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, এই বলে যে, লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে করা উচিত্, অন্য কোনও "অস্পষ্ট কাঠামো" দিয়ে নয়. এই কারণেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বর্তমানের সম্মেলনকে দেখা হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে লিবিয়ার ভবিষ্যত নিয়ন্ত্রণের জন্য সহযোগিতার কাজে এক বৈঠক বলে, তাই রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

    "আমাদের যেমন বলা হয়েছে যে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের জন্য সূচক নির্ণয়, যাতে পরবর্তী কালে আন্তর্জাতিক সমাজের লিবিয়াতে সমস্ত পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নির্ণয় করা সম্ভব হয়. যেহেতু রাশিয়া সবসময়েই আহ্বান করেছে যে, একমাত্র রাষ্ট্রসঙ্ঘ সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করে, যা লিবিয়াকে সঙ্কট মুক্ত হওয়ার জন্য বাইরের থেকে সমর্থন ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে করা প্রয়োজন, তাই আমরা এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলাম".

    তা স্বত্ত্বেও পশ্চিম আপাততঃ লিবিয়াতে সামরিক কাজ কারবার বন্ধ করছে না. প্যারিসে যেমন ঘোষণা করা হয়েছে যে, ন্যাটো জোটের সামরিক অপারেশন এই দেশে ততদিন পর্যন্ত চলা উচিত্, যতক্ষণ পর্যন্ত শান্তিপ্রিয় জনগনের কোনও আশঙ্কা থাকতে পারে.