পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট বিচার করে দেখছে করাচী শহরে সামরিক বাহিনী নামানোর প্রয়োজন রয়েছে কি না, যাতে দেশের এই অন্যতম বৃহত্তম শহরের পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করা যায়. সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে পাকিস্তানের করাচী শহরের এক প্রধান রাজনৈতিক দল – পুস্তুন প্রজাতির আওয়ামী জাতীয় আন্দোলন, তাদের দাবী যে, সামরিক বাহিনী প্রয়োগ করে শহরে সমস্ত চরমপন্থীকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা দরকার. সুপ্রীম কোর্টের প্রথম অধিবেশন হয়েছে. শুক্রবারে দ্বিতীয় অধিবেশন বসবে. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    করাচী বর্তমানে অপেক্ষায় রয়েছে সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তের. পাকিস্তানের এই বহু লক্ষ মানুষের শহরের লোকেরা নিজেদের জীবনকে বিপন্ন মনে করেছেন, তাঁদের নিকট জনের জন্যও উদ্বিগ্ন. এই শহরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ কমার লক্ষণই নেই, ফলে গত তিন মাসে বহু শত লোক প্রাণ হারিয়েছেন, আর গত কয়েক সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা সহস্র ছাড়িয়েছে. এই বড় শহর এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কুরুক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে, সেখানে চলছে গুণ্ডা দলগুলির সশস্ত্র সংঘর্ষ. এমনকি মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসেও এই লড়াই তামার কোন লক্ষণই দেখা যায় নি. শহরের অধিবাসীরা বাধ্য হয়েছেন সরকারের কাছে সামরিক বাহিনী নামানোর আবেদন নিয়ে উপস্থিতি হতে. এখানে ভুললে চলবে না, পাকিস্তানের মুসলমান মানুষেরা উগ্র পন্থার স্বপক্ষেই বেশীর ভাগ সময়ে মত দিয়ে এসেছেন ও রক্তপাত বিহীণ আলোচনা তাদের কাছে অনেক সময়েই বৃথা সময় খরচ বলে মনে হয়েছে. মুসলমান দুনিয়ার মক্কা থেকে দূরবর্তী লোকেরাই বেশী ধর্ম পালন করছি বলে ঢং দেখিয়ে থাকেন ও তাঁদের হাল পাকিস্তান, রাশিয়ার ককেশাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ সর্বত্রই একই. করাচী এই বিষয়েরই এক প্রত্যক্ষ প্রমাণ.

    তার উপরে এখানে একটা আবার কিন্তু আছে, পাকিস্তান এক বিশেষ দেশ, চিনের পুতুল. সেখানে যেই মুহূর্তে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা ব্যবহার করার ডাক পায়, তখনই সাধারণতঃ এই দেশে সামরিক অভ্যুত্থান হয়ে যায়, এটা আগেও বহু বার দেখা গিয়েছে. প্রত্যেক বারই সামরিক বাহিনী দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার ছুতোয় ক্ষমতা দখল করেছে, তাই এবারেও একই রকম হতে পারে. তার ওপরে জানা গিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের মোটেও বর্তমানের অসামরিক সরকার আর পছন্দ হচ্ছে না ও তাদের পতন হলে ওয়াশিংটন কিছুই বলতে যাবে না. পাকিস্তানে এমনকি অনেকেই ভাবছেন যে, করাচীর বর্তমানের দশা আমেরিকার বড় খেলার পরিকল্পনারই ফল. আমেরিকা ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমানে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে. আমেরিকার "আল- কায়দা" জুজু পাকিস্তানে পোষার খবর বর্তমানের সরকার সারা বিশ্বের কাছে ফাঁস করে দেওয়াতে. এই বিষয়ে পাকিস্তানের সামাজিক কর্মী ফারুক আরশাদ বলেছেন:

    "মনে করিয়ে দিই যে, রবিবারে ২৮শে আগষ্ট করাচী শহরের সাংবাদিক কেন্দ্রে বক্তৃতা করতে গিয়ে জুলফিকার মির্জা কোরানে হলফ করে বলেছেন যে, দেশের সিন্ধ রাজ্যের দ্বিতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ জাতীয় আন্দোলন (মুতাহিদা কৌমি আন্দোলন) এর নেতা আলতাফ হুসেইন দোষী কারণ তাঁর দলই করাচী শহরের লুঠপাট ও হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছে – প্রথমতঃ পুস্তুন ও বেলুচিস্থানের লোকদের উপরে. আর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রেহমান মালিক কে জুলফিকার মির্জা অভিযোগ করেছেন এই সব অপরাধ ঘটতে দেওয়ার জন্য সহায়তা করার. তার উপরে মির্জার কথা অনুযায়ী আলতাফ হুসেইন নিজে তাঁর কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানকে খণ্ডিত করার জন্য কাজ করছেন. তিনি পুস্তুনদের ধ্বংস করার আগে পর্যন্ত থামবেন না. তাই এবারে বাদ দেওয়া যায় না যে, দলাদলির এই রাজনীতির সুযোগ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নেবে না ও ক্ষমতা আবারও আত্মসাত্ করবে না".

    অন্য একটি দিকও রয়েছে, যেখান থেকে দেখা যাচ্ছে যে, রুশ প্রাচ্য বিশারদ নাতালিয়া জামারোয়েভা ঠিকই বলছেন:

    "আমি মনে করি যে, ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, কারণ উগ্র পন্থী মুসলিম জনতা ধীরে হলেও বুঝতে পারছে যে, আল্লার নাম করে মানুষ খুন করলেই ধর্ম পালন করা হয় না, তার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য্য, শিক্ষা, অধ্যবসায়, যা প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকে শেখা যেতে পারে, তাই এখানের মুসলমানেরা সঠিক শিক্ষা নিতে বাধ্য হবেন ও গণ্ডগোলও থামবে. তবে রাজনীতিবিদেরা এখনও বহুদিন এই ঘটনা গুলিকে অবলম্বন করে সাধারন মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে, সময় হয়েছে সমস্ত ধরনের রাজনীতিকেই দূরে ছুঁড়ে ফেলার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাওয়ার".

    চিন অবশ্য এই পথে এখনও বহু দিন বাধা দিতে চাইবে. তবে তাদেরও উগ্র ভারত বিরোধিতার দিন শেষ হল বলে.