রাশিয়া লিবিয়ার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদকে বর্তমানে সক্রিয় প্রশাসন হিসাবে স্বীকৃতী দিয়েছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে.

    লিবিয়ার বিরোধের সমস্ত সময় জুড়ে রাশিয়া বেনগাজি শহরে ঘাঁটি গেড়ে বসা বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছিল. এটা এই সমস্যার সময়ে রাশিয়ার অবস্থানের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই করা হয়েছিল – অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধ করা ও বিরোধকে রাজনৈতিক প্রবাহে সামিল করা. দুই মাস আগেই রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মুহম্মর গাদ্দাফি কে "রাজনৈতিক মৃতদেহ" আখ্যা দিয়েছিলেন, আজ তাঁর শাসনের উপরে সমস্ত রকমের ভরসা হারিয়ে গিয়েছে. তার উপরে পশ্চিম এর মধ্যেই লিবিয়ার "হরির লুঠের ভাগ" নিতে শুরু করেছে ও সব রকম ভাবেই চেষ্টা করছে রাশিয়াকে লিবিয়া থেকে বার করে দিতে, এই বলে যে, এটা "তাদের জয়". একই সঙ্গে রাশিয়ার রাজনৈতিক মহল থেকে আরও বেশী করে এই মত জানানো হয়েছে যে, রাশিয়া স্রেফ নিজের পক্ষ থেকে লিবিয়ার নতুন প্রশাসনকে নিজেদের ইচ্ছা ও বিগত অর্থনৈতিক ভাবে অধিকৃত অঞ্চল গুলিতে কাজের উত্সাহ সম্বন্ধে অভিপ্রায় প্রকাশ করে দেরী করতে পারে. আর রাশিয়ার সেখানে অবস্থান যথেষ্ট জায়গা নিয়েই ছিল, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" বলেছেন বর্তমানে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বিশেষজ্ঞ ও লিবিয়াতে প্রাক্তন রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই পদ্তসেরাব, তিনি বলেছেন:

    "এই বিদ্রোহের ও গৃহযুদ্ধ শুরুর আগেই আমরা লিবিয়ার সঙ্গে খুবই সক্রিয়ভাবে অর্থনৈতিক যোগ রেখেছিলাম. সেখানে আমাদের দেশের খনিজ তেলের কোম্পানী গুলি কাজ করেছে খনিজ তেল উত্পাদন করেছে ও পাইপ লাইন বসিয়েছে. সেখানে "রুশ রেল পথ কোম্পানী" কাজ করছিল, যাদের চুক্তির অর্থ মূল্য দুই শত চল্লিশ কোটি ইউরো. এছাড়া আমাদের অন্যান্য কোম্পানীরাও কাজ করছিল. আর এহ বাহ্য যে, আমাদের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতাও চলছিল".

    আফ্রিকা মহাদেশে রুশ রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ ঘোষণা করেছেন যে, অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ আশ্বাস দিচ্ছে যে, তারা সেই সমস্ত চুক্তি অনুসরণ করবে, যা রাশিয়া গাদ্দাফি প্রশাসনের সঙ্গে করেছিল. রাশিয়ার রাজনীতিবিদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত না হয়ে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বিচার করে চুক্তি পালন করবে. মস্কো ও ত্রিপোলি শহরের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে নতুন কাঠামোয় সম্পর্ক – মিখাইল মার্গেলভের বক্তৃতার মূখ্য বিষয় হবে আজকে প্যারিস শহরের "লিবিয়ার বন্ধু" সম্মেলনে. রাশিয়া এই ধরনের বৈঠকে প্রথমবার অংশ নিতে চলেছে, যা একই সঙ্গে প্রমাণ করেছে দেশের লিবিয়ার সঙ্কট মোচনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্য.

    মস্কোর পক্ষ থেকে এই প্রশ্নে সবসময়েই নিজস্ব অবস্থান ছিল. তা পরম্পরাগত ভাবে রক্ষাও করা হয়েছে, যদিও ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে খুবই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল. রাশিয়া, অংশতঃ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী গাদ্দাফি প্রশাসনকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেছিল, রাশিয়ার সমস্ত কোম্পানীকেই লিবিয়ার সঙ্গে এই সময়ে কোন রকমের কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছিল. মস্কো একেবারে শুরু থেকেই ন্যাটো জোটের নেতৃত্বে কোন এক পক্ষের হয়ে সামরিক অপারেশনের বিপক্ষে ছিল, যা আদতে এক পক্ষের জন্য সমর্থনে পরিনত হয়েছিল.

    অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক সেই সম্ভাবনার উপরে নির্ভর করেই বাড়বে, যা আগের যোগাযোগ গুলি থেকে অর্জিত হয়েছে. অংশতঃ মে মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ মস্কো শহরে এই পরিষদের প্রতিনিধি আবদেল রহমান শাল্কের সঙ্গে দেখা করেছিলেন. বেনগাজি শহরে মিখাইল মার্গেলভ এই পরিষদের নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, আর মালাবো শহরে আফ্রিকা সঙ্ঘের শীর্ষ বৈঠকেও যোগাযোগ হয়েছিল.

    একই সময়ে মস্কোর সঙ্গে ত্রিপোলির নয়া সম্পর্কের শুরুতে খুঁটিয়ে দেখা দরকার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের কার সঙ্গে কাজ করতে হবে. এই পরিষদের ২৭ ফেব্রুয়ারী গঠিত সভা খুবই বিভিন্ন রকমের লোকে তৈরী, বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব মূলক ভাবে, যার মধ্যে প্রায়ই খুব কঠোর বিরোধ উত্পন্ন হয়ে থাকে, যাঁরা অস্থায়ী জাতীয় পরিষদকে বিভাজনের সামনে উপস্থিত করে থাকে. আর এটাই নির্দিষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করে, এই কথা উল্লেখ করেছেন লিবিয়াতে প্রাক্তন রুশ রাষ্ট্রদূত ভেনিয়ামিন পাপোভ, তিনি বলেছেন:

    "এই পরিষদে বহু বিভিন্ন মাপের লোক রয়েছে. তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা সোজা কাজ হবে না. তার ওপরে এই পরিষদের কিছু নেতা আবার রাশিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে লিবিয়াতে বোমা বর্ষণের নিন্দা করার জন্য".

0    আজ অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের সংযোগের মূল শক্তি হয়েছে গাদ্দাফি প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ. যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি শেষ অবধি পতিত না হচ্ছেন – ততক্ষণ পরিস্কার নয় যে, এই নতুন প্রশাসন কি ভাবে নিজের সংগঠন ও অবস্থান দিয়ে নতুন শক্তি বলে আত্মপ্রকাশ করবে. তার উপরে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী তাদের দলে আরও বেশী করে সক্রিয়ভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে চরমপন্থী ঐস্লামিক দলের লোকেরা, যাদের সঙ্গে "আল- কায়দা" দলের যোগাযোগ রয়েছে সরাসরি অথবা ঘুর পথে. একই সময়ে অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ – একমাত্র সংস্থা, যা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে কাজ করছে ও তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে. তাই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি হওয়া দরকার.