তেহরান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী পক্ষ দের ইউরেনিয়াম বিনিময় করার প্রস্তাব একেবারে নাকচ করে দিয়েছে ও নিজেদের পারমানবিক কাজ কারবার চালিয়েই যাবে. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এটা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা নিয়ে আলোচনায় রত রাশিয়া সহ আমেরিকা, চিন, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানী এই ছয় পক্ষের সিদ্ধান্তেই প্রভাব ফেলবে.

    ইরানের পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফেরৈদুন আব্বাসী ঘোষণা করেছেন যে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বন্ধ করা বা থামানোর প্রয়াস করবেই না. তার চেয়েও বেশী হল, ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের প্রয়োজনে বর্তমানে শতকরা কুড়ি শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উত্পাদন এমনকি বাড়ানো হবে. এই লক্ষ্যের জন্য আধুনিক প্রজন্মের ১৬৪টি সেন্ট্রিফিউজের ব্যবস্থা (এই ধরনের যন্ত্র দিয়েই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়ে থাকে) কুম শহরের কাছে নির্মীয়মাণ কারখানাতে লাগানো হবে, আর একই সঙ্গে নাথাঞ্জে বসানো হবে. এই উচ্চপদস্থ কর্মচারী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আজকের দিনে ইরানের পারমানবিক জ্বালানী উত্পাদনের বিষয়ে সাফল্য এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র থেকে তা অন্যান্য দেশে সরবরাহ করার বিষয় নিয়েই বর্তমানে কথা বলার দরকার, আমদানী করা নিয়ে নয়. এই কারণেই বিনিময় নিয়ে যাবতীয় আলোচনা যা ছয় পক্ষের মধ্যস্থতা কারী দেশেরা প্রস্তাব করেছে, তা বন্ধ করা হবে. ফেরৈদুন আব্বাসী একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অভিযোগ বিবেচনা করে দেখতে তৈরী আছেন বলে জানিয়েছেন, যদি তা সেই ধরনের প্রমাণ ও দলিল সমেত পেশ করা হয়.

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরে আপাততঃ মন্তব্য করা হয় নি যে, এই ধরনের ইরানের পক্ষ থেকে কাজ ছয় পক্ষের আলোচনাতে কি ধরনের প্রভাব ফেলবে, কিন্তু ভরসা দিয়েছে যে, সেখানে আব্বাসী যা বলেছেন তা মনোযোগ দিয়ে দেকা হবে. একই সময়ে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, তেহরানের সিদ্ধান্তে বাইরের বিষয় গুলিও প্রভাব ফেলেছে, তার মধ্যে লিবিয়ার সঙ্কটও রয়েছে. এই ধরনের মত রেডিও রাশিয়াকে দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক একাডেমীর প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন, তিনি বলেছেন:

    "তেহরান স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি, তারা – আলোচনার ক্ষেত্রে খুবই কঠিন সহকর্মী. কিন্তু ছয় দেশের আলোচনা চালিয়েও যাওয়া দরকার. ইরান যথেষ্ট ভাল করে নিজেদের সম্ভাবনা খুঁটিয়ে দেখেছে ও আন্তর্জাতিক সমাজের সম্ভাবনাও দেখেছে. রাশিয়া সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে তা হল, আমাদের খুবই ধৈর্য্য ধরে ইরানের সঙ্গে কাজ করতে হবে, মনে রেখে যে, বর্তমানের জটিল পরিস্থিতিতে আমরা ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পেরেছি".

    তেহরানের গবেষণার রিয়্যাক্টরের জন্য ইউরেনিয়াম বিনিময় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমের ভরসা যোগ্য সম্পর্ক পুনরায় বহাল হতে পারত. কিন্তু রাশিয়ার এই বিষয়ে মধ্যস্থতা কে অন্য দিক থেকেই দেখা উচিত হবে বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের সহ ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ, তিনি বলেছেন:

    "এই উদ্যোগ খুব অল্প কয়েকটির একটি, যা ইরানের জন্য বাস্তব মূল্য রাখে ও পশ্চিমের দেশ গুলির জন্যেও, যারা সঙ্কট সমাধানের জন্য কাজ করছে. গত কয়েকদিন আগের রাশিয়ার প্রস্তাব বহু দূর প্রসারিত ও তা স্থায়ী এক আলোচনার ব্যবস্থা করে দিতে পারতো এই পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে".

    রাশিয়ার পারস্পরিক ভাবে ও স্তর অনুযায়ী কাজের প্রস্তাব যা রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম বলেছিলেন ও ছয় পক্ষের সমস্ত পক্ষই যা সমর্থন করেছিলেন এবং যা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দাবী মেনে নিলে ইরানের প্রতি নিষেধাজ্ঞা ধীরে হলেও নরম করতে সক্ষম ছিল আর ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ নিজেও যা সমর্থন করেছিলেন, তা আন্তর্জাতিক সমাজকে যথেষ্ট আশা দিয়েছিল এই সমস্যা সমাধান হওয়ার বিষয়ে. কিন্তু বর্তমানে তেহরানের এই ঘোষণায় সমস্ত কিছুই আবার কুয়াশাবৃত হল. ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র আবার প্রমাণ করে দিল যে, তারা চুক্তি মানে না, আর আন্তর্জাতিক আইনের দলিল নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী মানে করে থাকে. আর এই ধনের রাজনীতি মনে তো হয় না যে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে কোন রকমের সহানুভূতি পাবে.