ভারত ও বাংলাদেশ ছিটমহল নিয়ে চুক্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. এই দলিল সম্ভবতঃ আগামী মাসে ঢাকায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে. এই বিষয় নিয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

দুই দেশের সীমান্ত বরাবর বেশীর ভাগ ছিটমহল রয়েছে. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে কিছু বাংলাদেশী লোক রয়ে গিয়েছেন ভারতের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়, যেমন কিছু ভারতীয় রয়েছেন বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে. এর সংখ্যা শতাধিক. সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ অনেক সময়েই এই ছিটমহল গুলি হয়েছে. যে কারণে দুই দেশের সম্পর্কও খারাপ হয়েছে. যদি দিল্লী ও ঢাকা সত্যই এই এলাকা গুলি বদল করে নেয়, তবে তা খুবই বেদনা দায়ক সমস্যার সমাধান করতে পারবে.

এই খবর প্রায় একই সময়ে অন্য একটি আরও চাঞ্চল্যকর খবরের সঙ্গে এসেছে. পাকিস্তান ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যে, ভারতকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল সুযোগ দিতে চায়. এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ও বিজ্ঞানী ইভগেনি সাতানোভস্কি নাম দিয়েছেন তথ্য বোমা বলে, তিনি তাই যোগ করেছেন:

"এর মানে হল, দুই দেশ ঠাণ্ডা শান্তি অবস্থা থেকে, যা যুদ্ধ কালীণ অবস্থার পর থেকে হয়েছে আর চলে এসেছে প্রায় এক বছরের তফাতে আরব ইজরায়েলের মধ্যে বিরোধের সময় থেকে, তা অবশেষে স্বাভাবিক সম্পর্কের দিকে চলল, প্রসঙ্গতঃ রাজনীতির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হওয়া নয়, যা খুবই ভঙ্গুর ও কোন না কোন রাজনীতিবিদের অবসর নেওয়ার পরেই মূহুর্ত মধ্যে পাল্টে যেতে পারে, বরং সত্যিকারের, দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী".

রাশিয়ার বিজ্ঞানী মনে করেন যে, খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া. ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বাধা গুলি দূর হলে কথা হতে পারে এক সময়ের ঐক্যবদ্ধ এক অর্থনীতিকে নিয়ে, তাই ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

"ভারত আজ বিনিয়োগের জন্য প্রচুর ক্ষমতা রাখে, উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নতিতেও সক্ষম. সেই দেশ পশ্চিমের সঙ্গে সমাকলন করতে পেরেছে. ভারত আধুনিক অর্থনীতির সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জোর দিয়ে প্রবেশ করতে পেরে পাকিস্তানের জন্য দাতা ও বিনিয়োগকারীর ভূমিকা নিতেই পারে. এর ফলে নতুন কাজের জায়গা তৈরী হবে. ভারত থেকে কৃষি কাজে প্রযুক্তি সিন্ধ নদীর তীরের থাকা লোকেদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেবে. যদি এটা হয়, তবে এর অর্থ হবে বিস্তীর্ণ এক অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর পূণর্সৃষ্টি, যেখানে প্রায় দেড়শ কোটি লোক থাকেন. প্রসঙ্গতঃ ভারতের জন্য এটা পাকিস্তানের মতই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়".

ভারত দাবী তুলেছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার মর্যাদা পাওয়ার জন্য. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের উচ্চাশা দেশ খুবই সক্রিয়ভাবে শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য দিয়েই প্রমাণ করতে আসে নি, বরং এই অঞ্চলে ও সমগ্র বিশ্বের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল শান্তিপ্রিয় রাজনীতি দিয়েও প্রমাণ করতে চেয়েছে.