লিবিয়াতে যুদ্ধ পরবর্তী কালে গঠনের পরিকল্পনা ইন্টারনেটে উপচে পড়েছে. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ পরিষদ তৈরী করছে ব্রিটিশ নাগরিক ইয়ান মার্টিনের সভাপতিত্বে. এই দলিলে বিশদ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভূমিকা লিবিয়ার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য, নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ও আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোচনা সৃষ্টির জন্য বর্ণনা করা হয়েছে. একই সময়ে ন্যাটো জোটের সরকারি প্রতিনিধি ওয়ানা লুঙ্গেসকু যে ঘোষণা করেছেন, ন্যাটো জোট ততদিন পর্যন্ত লিবিয়াতে বোমা বাজি চালিয়ে যাবে, যতদিন তারা মনে করবে যে, "স্থানীয় জনগনের প্রতিরক্ষার জন্য" দরকার, তা প্রকাশিত হয়েছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এই দিয়ে পশ্চিম লিবিয়ার জনগনকে তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যত নিজেরাই ঠিক করার অধিকার থেকে বিরত করেছে.

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের দশ পাতার পরিকল্পনা বস্তুত: প্রতিটি আলাদা স্তরে আন্তর্জাতিক সমাজের ভূমিকা "গাদ্দাফি বিহীণ লিবিয়ার" জন্য ভাগ করে দিয়েছে. যেমন, সেখানে বলা হয়েছে বিনা শর্তে নতুন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকে সমর্থন করার কথা ও আরও এই বিষয়ে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সরাসরি নেতৃত্বে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে আলোচনা করা হবে. তাছাড়া তাঁরা নতুন সরকারকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে, আর তারই সঙ্গে লিবিয়াকে সাহায্য করবে প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করার জন্য. শান্তিপ্রিয় জনতার প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেবে ন্যাটো জোটও.

    পরিকল্পনা অনুযায়ী লিবিয়াতে পাঠানো হবে নিরস্ত্র ২০০ পর্যবেক্ষক ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৯০ জন পুলিশ. প্রসঙ্গতঃ, এর জন্য প্রয়োজন পড়বে নতুন সরকারের তরফ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ ও নিরাপত্তা পরিষদের সায়. আর লিবিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ কোন ছাড়ের দরকার পড়বে না. কোন বিতর্ক নেই যে, এটা আরব বিশেষজ্ঞরাও লক্ষ্য করেছেন যে, এই রকমের নির্দিষ্ট পরিকল্পনাতে প্রচুর ইতিবাচক বিষয়ও রয়েছে, যদি বর্তমানে এই দেশের সঙ্কটের কথা চিন্তা করে দেখা হয় তাহলে. কিন্তু তাদের অবাক করেছে অন্য একটি বিষয়: লিবিয়ার জনতার জন্য কোন বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই, কোন পথে তাঁরা নিজেরা এগিয়ে যেতে চান. তার ওপরে তৃতীয় পক্ষের তৈরী পরিকল্পনায় একেবারেই লিবিয়ার লোকেদের মতামতের ধার ধারে না. আর ন্যাটো যে, এই দেশ ছেড়ে যাবে না, তা একেবারেই সোজাসুজি উল্লেখ করে পশ্চিমের উদ্দেশ্য বলা হয়ে গিয়েছে, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার ফিলোনিক বলেছেন:

    "যেহেতু এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোট ও লিবিয়ার জঙ্গীরা জিতে গিয়েছে, আর ন্যাটো এর জন্য অর্থ ব্যয় করেছে, তাই জোটের দেশ গুলি এর পরেও তার দাম আদায় করে ছাড়বে. আর এই ভূমিকায় তাদের আর কোন রকমের রাষ্ট্রসঙ্ঘের বরাভয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে ঢালের প্রয়োজন পড়ছে না. তারা লিবিয়াকে এবারে গাদ্দাফির পরে নিজেদের ইচ্ছা মতই তৈরী করে নিতে চায়. আর এই ইচ্ছা প্রাথমিক ভাবে খনিজ তেলের সঙ্গেই যুক্ত. অন্যান্য দেশের চেয়ে এই ক্ষেত্রে তারা নিজেদের জন্য অনেক বড় ধরনের ছাড় আদায় করবে. স্বাভাবিক ভাবেই, এই প্রক্রিয়া লিবিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের নামে, জনতার স্বাধীনতার নামেই করা হবে. কিন্তু এই ধান্ধার ফলে বড় ধরনের সাফল্য তো দ্রুত মনে হয় না হবে".

    যদিও লিবিয়ার সঙ্কট পরবর্তী কালের পরিকল্পনা রাষ্ট্রসঙ্ঘের গভীরেই সৃষ্টি হয়েছে, তবুও বিশ্লেষকেরা মনে করেছেন যে ন্যাটো আরও একবার তা সফল ভাবেই পাল্টে নেবে. সমস্ত বিগত বছর গুলিতে জোট একের পর এক বার দেখিয়েছে যে, তাদের নেতৃত্ব তাদের দায়িত্বের এলাকার বাইরে গায়ের জোরে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য পথ করে নিয়েছে. তার ওপরে একেবারে শুরু থেকেই লিবিয়াতে পশ্চিমের জোটের নেতারা প্রায় গোপন করার কোন প্রচেষ্টাই করেন নি যে, তারা এই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে নিজেদের আয়ত্বে নিতে চান, যা তাদের মতে, সেই সমস্ত লোকের কাছে নেই. আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের কোন সায় তাদের এই কাজের জন্য প্রয়োজন নেই.

    এই কারণেই রাশিয়ার ও অন্যান্য কয়েকটি দেশের অবস্থান, এই সম্বন্ধে খোলাখুলি ভাবে বলে ফেলার জন্য, পশ্চিমে এত বিরক্তির কারণ হয়েছে ও চেষ্টা হয়েছে তাদের শান্তি প্রক্রিয়া থেকে বিরত করার.

    একই সঙ্গে লিবিয়ার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের মধ্যে ঐক্য যেমন আগেও ছিল না, তেমন এখনও নেই. দেশের পরিস্থিতি শান্ত করার বিষয়ে এই পরিষদের সম্ভাবনা বিশাল প্রশ্নের সম্মুখীণ. সব দিক দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধ এখনও শেষ হওয়ার থেকে অনেক দূরে. আজকের দিনে জঙ্গীদের যা ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে – তা হল গাদ্দাফিকে "ওপর ওলার কাছ থেকে বিচার" ও গুলি চালিয়ে মারার বিষয়ে অনন্ত কাল ধরে ভয় দেখানো.