লিবিয়ার চলতি ঘটনায় রুশী জনগণ উদ্বিগ্ন

রুশী সমাজে লিবিয়ায় চলতি ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে. শুধুমাত্র রাজনীতিবিদরাই নয়, বা শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নয়, লিবিয়ার সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রচার মাধ্যম এবং ইন্টারনেট সাইটগুলি আলোচনা করছে.

ন্যাটো জোটের আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ, লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ এবং গোটা রাষ্ট্রের পতন রাশিয়ায় সাংঘাতিকভাবে আলোচনা করা হচ্ছে. জনমত সংগ্রহকারী সংস্থাগুলি প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ৮০ শতাংশ রুশী নাগরিক লিবিয়ার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন. সমাজবিদ বরিস কাগারলিত্স্কির মতে –

রাশিয়ার অধিকাংশ নাগরিকই যে লিবিয়ায় ন্যাটোর বোমাবর্ষণের নিন্দা করছেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা. রাশিয়ায় ন্যাটো জোটের কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে. গোটা বিশ্বও এর সাথে একমত. আরব দুনিয়াতেও গণ বিপ্লবের প্রতি সমর্থণ থাকলেও, ন্যাটো জোটের বোমাবাজির সমালোচনা করা হচ্ছে. লিবিয়ায় ন্যাটো জোটের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পরে রাশিয়ায় এ ঘটনাকে যুগোশ্লাভিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণের সাথে তুলনা করা হচ্ছে. রুশী ইন্টারনেট ব্লগগুলিতে একে আধুনিক বর্বরতা বলে অভিহিত করা হচ্ছে. রুশীরা সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিপক্ষে এবং লিবিয়ার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের কার্যকলাপকে প্রকাশ্য হামলা বলে বিবেচনা করে. বিশেষতঃ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ তম ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ন্যাটো জোটের বোমাবর্ষণ করার, বিশেষতঃ জনবসতির ওপর হামলা করার কোনো অধিকার ছিল না.

অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় পরিষদেও কোনো ঐক্যমত নেই. শুধু ঐ পরিষদই দেশে শৃঙ্খলা পুণর্স্থাপণ করতে পারে. কিন্তু রাশিয়ার অধিকাংশ নাগরিক মনে করেন, যে লিবিয়ায় দীর্ঘকাল গৃহযুদ্ধ চলবে এবং সে দেশে অদূর ভবিষ্যতে শান্তি ও স্থায়ীত্ব ফিরে আসবে না. বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ নির্বাকভাবে পাশ্চাত্যের লিবিয়ার খনিজতেল ভাগবাটোঁয়ারাকে মদত দিয়ে যাচ্ছে. একই সঙ্গে ঘোষণা করছে, যে রাশিয়া, ব্রাজিল ও চীনের কোম্পানিগুলির জ্বালানীর ব্যাপারে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে ভয়ানক সমস্যা হবে.

   রাশিয়া জার্মানী, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা বা চীনের মতোই সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি. তবে হাত গুটিয়েও থাকেনি. জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র মেনে লিবিয়া সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারী করেছিল.  সেই কারনেই ভবিষ্যতে লিবিয়ার খনিজতেল ভাগবাঁটোয়ারার ক্ষেত্রে রাশিয়া এবং উপরিউক্ত দেশগুলির স্বার্থ গ্রাহ্য না করা হবে মুর্খামী. তবে ন্যাটো জোটের তরফ থেকে সেরকম প্রচেস্টা চলছে নিয়মিতভাবে – বলে উল্লেখ করছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আজদার কুর্তোভ.

  গত দুবছর ধরে ন্যাটো জোট যে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তার দৌলতে তারা জাতিসংঘকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে. গদ্দাফিকে পর্যুদস্ত করে ন্যাটো জোট কাউকে গ্রাহ্য না করে বিজয়ের ফসল একা ভোগ করার চেষ্টা করবে. রাশিয়া ও চীন সহ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য দেশগূলির মতামত গ্রাহ্য করবে না.

সেই কারনেই মস্কো সব পক্ষকে সতর্ক করে দিচ্ছে, যে লিবিয়ায় সামরিক অভিযানের পরবর্তীকালীন পুণর্স্থাপণ শুধুমাত্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তত্ত্বাবধাণেই হওয়া সম্ভব. রাজনীতিজ্ঞ ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ মনে করেন, যে পাশ্চাত্য দুনিয়ার পক্ষে লিবিয়ায় রাশিয়ার স্বার্থ অগ্রাহ্য করা সম্ভব হবে না.

      - আমরা দৃঢ়ভাবে ঐ অঞ্চলে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করছি, আমাদের ঘোষণার মাধ্যমে, নিরাপত্তা পরিষদে প্রযুক্ত কৌশলের মাধ্যমে. একই সাথে আমরা ঘোষণা করছি, যে রাশিয়াকে ব্যতীরেকে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি লিবিয়ায় সমস্যা সমাধান করতে পারবে না.

 একই সঙ্গে লিবিয়ার সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে মস্কো জাতিসংঘের ভূমিকা মুখ্য বলে ঘোষণা করে ন্যাটো জোটের মান রক্ষার চেষ্টা করছে.