আরব লীগ লিবিয়ার বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশানাল ট্রানসিশনাল কাউন্সিলকে(এনটিসি) লিবিয়ারবৈধ সরকার হিসেবে গণ্য করেছে।তবে আফ্রিকান ইউনিয়ন এখনই  এনটিসি'কে লিবিয়ার বৈধ সরকার মানতে রাজি হয় নি।সংগঠনটি বলছে যে,লিবিয়ায় সামরিক অভিযান বন্ধ হলে এবং সরকার গঠনের পরই তারা এনটিকে স্বীকৃতি দিবে।

পৃথিবীর প্রায় ১৫০ টি দেশে অবস্থিত লিবিয়ার দুতাবাস থেকে ইতিমধ্যে তিন রং বিশিষ্টি সবুজ পতাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি দেশ লিবিয়ার নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।সর্বশেষ যে দেশগুলো লিবিয়ার বিদ্রোহী সংগঠন এনটিকে মেনে নিয়েছে তা হচ্ছে-বাহারাইন,ইরাক,মরোক্ক,নাইজেরিয়া ও সুদান।রাশিয়াও লিবিয়ার নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ভাবছে।প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ গতকাল এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন।তবে এর জন্য লিবিয়ার সবাইকে একত্রিত হতে হবে।মেদভেদেভ বলছেন, ‘আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭০ ও ১৯৭৩ এই দুইটি রেজুলেশন থেকে সরে যাচ্ছি।তবে ওই রেজুলেশন অনুসারনের মধ্য দিয়েই হয়ত লিবিয়ার মাটিতে শান্তি নেমে আসতে পারে।এটি হচ্ছে প্রথম।২য় যে বিষয়টি তা হচ্ছে,আমরা চাচ্ছিলাম যে লিবীয়রা নিজেদের মাঝে আলোচনা স্বাপেক্ষে যেন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।যদি বিদ্রোহীরা সত্যিকার অর্থেই শান্তি চায় এবং গনতান্ত্রিক ধারায় নতুন করে দেশ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে তাহলে অবশ্যই তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরীর বিষয়টি আমরা ভেবে দেখব।তবে এখন পর্যন্ত লিবিয়ায় আমরা ২টি সরকার দেখতে পাচ্ছি।যদিও লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি বর্তমানে বিদ্রোহীদের দখলে কিন্তু তা স্বত্তেও গাদ্দাফির অনুসারিদের সাথে বিদ্রোহীদের সংগ্রাম চলছে’।

এখনও লিবিয়ায় একনায়কতন্ত্র ও দেশের অভ্যন্তরে চরম বিশৃঙ্খলার যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে।অনেকটা আস্থার সাথেই বললেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইউরি জিনিন।তিনি বলছেন, ‘বিদ্রোহীরা রাজনৈতিক ধারায় কাজ করছে না।প্রায় পুরো দেশেই এখন সরকারবিহীন অবস্থায় চলছে ।রাস্তাঘাটে  কোন পুলিশ নেই।তাই যে কোন সময় সরকারি সম্পদ লুটতরাজ হবার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।আঞ্চলিক ও রেশারেশির মনোভাবের কারণে এনটিসি- এর অনেক নেতাই এক টেবিলে কখনও আলোচনায় বসবেন না।সবকিছু এখন লিবিয়ার ভবিষ্যতকে আরও বিপদের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।ইতিমধ্যে মৃত্যের সংখ্যা  ৫ হাজার এ উন্নীত হয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই এ সংখ্যা আরও বাড়ছে’।

এই সপ্তাহে জানা যায় যে, সরাসরি বিদেশিদের সহযোগিতাই বিদ্রোহীদের ত্রিপলি দখলের বিষয়ে উপযুক্তভাবে তৈরী করা হয়।বিবিসির যুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিক রবার্ট ফক্স বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র,ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতায় অনেক দিন ধরেই ত্রিপলিতে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোয়েন্দা কর্মীরা কাজ করেছেন।এই বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন খোদ গাদ্দাফির জ্যেষ্ঠ পুত্র মোহাম্মেদ।

গত কয়েক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সহযোগিতায় লিবিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরধার করা হয়েছে।দেশটি থেকে অর্থ,স্বর্ণ ও অস্ত্র যেন পাচার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।পশ্চিমা নেতারা একই সাথে উত্কন্ঠা প্রকাশ করছেন এই ভেবে যে,লিবিয়ার সম্পদ আল-কায়দার হাতেও চলে যেতে পারে।বিভিন্ন খবরে বলা হয়, বর্তমানে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বিদ্রোহীদের দলে আল-কায়দার সদস্যও রয়েছে।