আজ (২৬শে আগষ্ট) আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়া তৃতীয় স্বাধীনতা দিবস পালন করছে. প্রথম এই প্রজাতন্ত্র দুটির সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেছিল রাশিয়া, ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সেনা বাহিনীর দক্ষিণ অসেতিয়া আক্রমণের প্রত্যুত্তর দেওয়ার পরে. তখন জর্জিয়ার কাজের ফলে বহু শত মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সহস্র হয়েছিলেন আহত. কিন্তু তবিলিসি শক্তি দেখানোর রাজনীতি করায় ফল হয়েছিল: বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র গুলির উদ্ভব.

    ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসকে অনেক রাজনীতিবিদই মনে করেছেন আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার দ্বিতীয় জন্ম ক্ষণ. এর আগে যেমন বহুবার দিমিত্রি মেদভেদেভ ও এই প্রজাতন্ত্র গুলির নেতৃত্ব বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, তিন বছর আগে রাশিয়া স্বল্প সংখ্যক মানুষের প্রজাতি দুটিকে নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থায় গ্রহণ করেছিল, যাদের জর্জিয়া সোভিয়েত দেশ পতনের পরে প্রায় দুই দশক ধরে জোর করে নিজেদের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিল ও স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, এর আগে দক্ষিণ অসেতিয়ার নেতার সঙ্গে দেখা করে এডোয়ার্ড ককোইতার সঙ্গে সার্বভৌমত্ব ঘোষণার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বাগত জানিয়েছেন. তিনি বলেছেন:

    "এটা দক্ষিণ অসেতিয়ার লোকেদের জন্য খুবই বড় ঘটনা ছিল. তার পর থেকে প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে, প্রজাতন্ত্র উন্নতি করেছে, সাফল্য পাওয়া গিয়েছে, সমস্যাও রয়েছে, যা সব সময়েই উন্নতির সঙ্গেই থাকে".

    এডোয়ার্ড ককোইতার নিজের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে রাশিয়ার তাঁর প্রজাতন্ত্রকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে ও রাশিয়ার প্রশাসনের সুদৃঢ় সিদ্ধান্তকে পুরুষকারের লক্ষণ বলে প্রশংসা করে বলেছেন যে, এই ঘটনা তাঁর প্রজাতন্ত্রের মানুষদের জন্য ভাগ্য নিয়ন্ত্রক হয়েছিল. রাশিয়া ছাড়া স্খিনভাল ও সুখুমের স্বাধীনতা মেনে নিয়েছে নিকারাগুয়া, ভেনেজুয়েলা ও কয়েকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ. এই প্রজাতন্ত্র গুলির নিরাপত্তার গ্যারান্টি হয়েছে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ.

    আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার স্বাধীনতার মর্ম প্রাথমিক ভাবে অনুভব করতে পেরেছেন এই দুই দেশের লোকেরাই, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সের্গেই মার্কভ বলেছেন:

    "তাঁদের জন্য স্বাধীনতার স্বীকৃতি হয়েছে এক আইন সঙ্গত ভিত্তি, নিরাপদ জীবনের ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রাথমিক স্তর. এই দেশ গুলির ভাগ্য ভাল ছিল না. তারা সোভিয়েত দেশ পতনের পরে সাময়িক ভাবে জর্জিয়ার সীমান্তে মধ্যে ছিল, যাদের দেশে ক্ষমতায় এসেছে জাতীয়তাবাদী শক্তি. আর আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার সঙ্গে মিলে স্বাভাবিক সংযুক্ত রাষ্ট্র গঠনের বদলে, সাকাশভিলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল একক রাষ্ট্র নির্মাণের, আবখাজ ও অসেতিন মানুষদের নত হতে বাধ্য করেছিল. খুব বড় বিরোধ শুরু হয়েছিল, যার ফলে তারা একঘরে হয়ে গিয়েছিল, সেখানে প্রজাতি নিশ্চিহ্ণ করা ও নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার লড়াই শুরু করা হয়েছিল. এই আশঙ্কা ছিল এক টানা কুড়ি বছর ধরেই. আর রাশিয়ার নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া কাজ করার ফলে ২০০৮ সালে আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়া স্বীকৃত হয়েছে, আইনের ভিত্তি তৈরী হয়েছে, যাতে রাশিয়া তাদের নিজেদের জমিতে গৃহকর্তা হওয়ার মতো ক্ষমতাকে রক্ষা করতে পারে".

    ২৬শে আগষ্ট আবখাজিয়াতে শুধু স্বাধীনতা দিবসই পালন করা হচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনও বটে. সার্বভৌমত্ব ঘোষণা এই প্রজাতন্ত্রের মানুষদের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক ঘটনা হয়েছে. তার ফলে নিজেদের রাষ্ট্র তৈরী হয়েছে, অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে. আর প্রধান হল: আবখাজিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করার মধ্যে দিয়ে সেখানের জনগনের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে.

    জর্জিয়া আগের মতই এহ বাহ্য বিষয়কে গ্রহণ করতে পারে নি ও মামুলি প্ররোচনা দেওয়ার কৌশলই নিয়েছে. তবিলিসি যদিও এই দুই দেশের লোকেদের স্বাধীনতার অধিকার মেনে নিতে পারে নি ও সমস্ত বিরোধকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করতে চায় নি, তাও আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার লোকেরা আলোচনা করতে তৈরী রয়েছে. সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও শেষমেষ দুই প্রতিবেশী জনগনের মধ্যে সাধারন মানবিক সম্পর্কও খুবই শক্তিশালী. শুধু জর্জিয়া মেনে নিতে হবে যে, স্খিনভাল ও সুখুমি স্বাধীন হয়েছে ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে প্রত্যাহার অযোগ্য ভাবেই. আর ২৬শে আগষ্ট তাদের স্বাধীনতা দিবস. তাদের উত্সব এবং বহু দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষের প্রতীক.