লিবিয়ার অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ ত্রিপোলি শহরে উঠে এসেছে. বিরোধীদের প্রতিনিধিরা ঘোষণা করেছে যে, আজ থেকে সমস্ত নেতৃত্ব সরকারী ভাবে স্বীকৃত রাজধানী থেকেই করা হবে, যা বিরোধীদের সামরিক নেতৃত্বের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে সরাসরি সহায়তা না পেলে দখল নেওয়া সম্ভব হত না. এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা, বিশেষজ্ঞদের মতে, জোটের সম্মানের উপরে বড় আঘাত করতে পারে ও জোটের ভিতরেই বড় ধরনের রাজনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে.

অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের সামরিক বাহিনীর সরকারি প্রতিনিধি ফাদলালাখ হারুন ঘোষণা করেছেন যে, অংশতঃ, ন্যাটো জোটের ভূমিকা ছিল যোদ্ধা দলের গঠনে. তাদের গোপনে ত্রিপোলি শহরে পাঠানো হয়েছিল. এছাড়া ন্যাটো জোটের লিবিয়ার যুদ্ধ ক্ষেত্রে উপস্থিতি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সংবাদ মাধ্যম গুলির সাংবাদিকেরা প্রমাণ করে দিয়েছেন. ঘটনার এই ধরনের পরিণতি হতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আফ্রিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী ডিরেক্টর লিওনিদ ফিতুনি বলেছেন:

"যদি তিন সপ্তাহ আগে ন্যাটো ঘোষণা করেছিল যে, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করছে ও এই বিরোধী কোন পক্ষের হয়ে সরাসরি লড়াই করছে না. তবে আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সমস্ত শর্ত ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে ও এই বিরোধে শুধু দুটিই পক্ষ নেই, ন্যাটো জোট সমেত আছে তিনটি, যারা বিরোধীদের সহায়তা করছে. ত্রিপোলি আক্রমণের আগেই এটা দেখা যাচ্ছিল, যখন ন্যাটো জোটের দেশ গুলি থেকে প্রশিক্ষকরা বিরোধীদের মধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছিল. ত্রিপোলি শুধু বিরোধী শক্তিই দখল করে নি, যতটা করেছে ন্যাটো জোটের দেশ গুলির বিশেষ সেনা বাহিনীর কর্মীরা আরবদের মত পোষাক পরে. আর যখন তারা রাস্তা পরিস্কার করে দিয়েছে, বিরোধী পক্ষ তখনই শুধু গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর সামনে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে. আর এখন যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কর্নেলের খোঁজে লেগে পড়ে, তাহলে এটা হবে পদাতিক আক্রমণে সরাসরি লেগে যাওয়া".

অস্থায়ী জাতীয় পরিষদের সরকারি ঘোষণা স্বত্ত্বেও ও ফোটো এবং ভিডিও প্রমাণ থাকলেও, জোটের নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলে যাচ্ছে যে, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছে. অংশতঃ, সরকারি প্রতিনিধি ওয়ানা লুঙ্গেসকু ২৩ আগষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, ন্যাটো জোট পদাতিক বাহিনী কাজে লাগায় নি ও তাদের সাহায্য নেবে না.

এই ধরনের ঘটনার পরিবর্তন জোটের মধ্যেই নেতিবাচক হতে পারে. বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য দেশ এর কঠোর সমালোচনা করতে পারে. একই সঙ্গে জোটের মধ্যে এই কারণে বিভাজন দেখা দিতে পারে. এর ফলে ন্যাটো জোটকে লিবিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়ে বাদ দেওয়া হতে পারে, আর এটাই হবে বিরোধীদের অসংগঠিত করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ. তার ওপরে তাদের মধ্যেই অখন যথেষ্ট পরিমানে বিবাদ ফুটে উঠতে দেখা গিয়েছে, এই কথা মনে করে লিওনিদ ফিতুনি বলেছেন:

"বিরোধীরা ঘোষণা করেছে যে, ক্ষমতা এখন তাদের হাতে. কিন্তু এটা আদর্শ হতে পারে, যদিও বাস্তবে – যেকোন বিপ্লবের পরেই যখন সকলের জন্য একক বিরোধী পক্ষ হঠে যায় – শুরু হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ রকমের সম্পর্ক নির্ণয়: কে প্রধান, কে আগে ঠিক বলেছিল, কার জোর বেশী. আর কোন একটা দল, ওখানে এই রকমের অনেক দল, নির্দিষ্ট সময়ে অন্যদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায়. আর বাকিদের প্রতি নিজের পছন্দ মতো ভাবে ব্যবস্থা করে থাকে".

একদল বিশেষজ্ঞের মতে, ত্রিপোলি দখল করে ন্যাটো ও বিরোধীরা নিজেদেরই এখন ফাঁদে ফেলেছে. প্রথমতঃ, এখন অবধি গাদ্দাফি কোথায় ও তার কতটা ক্ষমতা তা জানা নেই. ত্রিপোলি শহরের বহু জায়গাতেই এখনও তার পক্ষের লোকেরা ক্ষমতায় রয়েছে. আর বিশ্লেষকেরা বলেছেন যে, রাজধানী ছেড়ে দেওয়া একটা কৌশল হতেও পারে. দ্বিতীয়তঃ, অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ এর আগে স্বীকার করেছে যে, তাদের নিজেদের সেনা বাহিনীর মধ্যেই লুঠপাট বন্ধ করতে তারা অক্ষম. আর এর ফলে স্থানীয় জনতার কাছ থেকে জবাবী প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যেতে পারে, যাদের এখনও অবধি গাদ্দাফির পক্ষ বলে মনে করা হয়. সুতরাং এই ভাবে লিবিয়াতে বিরোধ এখনও শেষ হওয়া থেকে অনেক দূরে. আর নতুন পরিস্থিতি হিসাবের মধ্যে নিলে – তা বহু মাস ধরেই চলতে পারে বলে মনে হচ্ছে.