চিনের শেনজেন থেকে কাজান শহরে ইউনিভার্সিয়াডের পতাকা এসেছে. প্রায় ৪০ বছর পরে বিশ্বের একটি প্রধান ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতীক রাশিয়াতে ফিরেছে – ১৯৭৩ সালের মস্কো ইউনিভার্সিয়াডের পরে. কাজানে এই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার বাকী দুই বছর ও তার জন্য প্রস্তুতি প্রায় দৌড়ের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে.

ইউনিভার্সিয়াডের পতাকা কাজান নিয়ে এসেছেন এই শহরের মেয়র নিজে. শেনজেন শহরে ২৩ শে আগষ্ট আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপ্তির সময়ে ইলসুর মেতশিন তাঁর চিনের সহকর্মীর হাত থেকে এই পতাকা নিজে নিয়েছেন. শহর প্রধানের কথামতো, খুব শীঘ্রই এই প্রতিযোগিতার প্রতীক কাজানের জনগন ও সারা রাশিয়ার লোকেরা দেখতে পাবেন.

"৩০শে আগষ্ট থেকে শুরু করে এই পতাকা সারা রাশিয়া জুড়ে ঘুরিয়ে আনা হবে, সমস্ত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে তা আত্ম বিশ্বাসী ভাবে মস্কোতে পৌঁছবে. ভ্লাদিভস্তক, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও মস্কো – আমরা চাই, যাতে এটা সারা রাশিয়ার জন্যই উত্সবে পরিনত হয়".

ইউনিভার্সিয়াডের পতাকা হস্তান্তর করার মানে হল এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতির শুরু. আয়োজনের দিক থেকে শেনজেন শহরের ২৬ তম ইউনিভার্সিয়াড বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যেই আদর্শ বলে মূল্যায়ণ করেছেন. কিন্তু কাজানের প্রশাসনের লোকেরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁরা এর স্তরকে আরও উন্নত করতে পারবেন. চিনে আমরা অসম্ভব এমন কিছুই দেখি নি – উল্লেখ করে মেয়র বলেছেন:

"পতাকা নিয়ে আসা হয়েছে, এখন শুধু ভাবছি যে, কি করতে হবে. চিনে এত কিছু দেখেছি, মাত্র দুই বছর রয়েছে, যাতে সব করতে পারা যায়. অনেক ভাবনা রয়েছে, একই সঙ্গে খুবই প্রসারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করতে চাই".

প্রযুক্তিগত নতুনত্বের একটি এর মধ্যেই কাজানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে – তথাকথিত ট্যাগ – কোড সঙ্কেত ব্যবস্থা. এই রঙীণ কোড ফোটো ক্যামেরা দিয়ে চিনতে পারা যাবে, যা মোবাইল টেলিফোনের সঙ্গেই থাকে. এই কোড ব্যবস্থায় ডিজিট্যাল ভাবে ইন্টারনেটের নির্দিষ্ট পাতার উল্লেখ থাকবে, যাতে নিজে থেকে সেই পাতার ঠিকানা লিখতে না হয় ও শুধু মোবাইল ফোনের ক্যামেরা এই কোডের কাছে নিয়ে এলেই, ফোনে এই জায়গা সম্বন্ধে তথ্য নিজে থেকেই ভেসে উঠবে. এই তথ্য সাধারণতঃ বেশ কয়েকটি ভাষাতে দেওয়া থাকবে, আর ২০১৩ সালের মধ্যে শহরের সমস্ত ক্রীড়াঙ্গনই এই ট্যাগ কোড দিয়ে রাখা হবে. কাজান শহরের পর্যটনের জায়গা গুলিতে এই কোড দেওয়া হয়েছে. শহরের খেলার জায়গা এর মধ্যেই প্রায় তৈরী, আপাততঃ যন্ত্র বসানো ও ভিতরের পরিসজ্জার কাজ চলছে. এই কথা সাংবাদিকদের জানিয়ে ২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডের আয়োজক ও পরিচালক পরিষদের সভাপতি ইগর শুভালভ বলেছেন:

"বাস্তবে প্রায় সমস্ত ক্রীড়াঙ্গনই তৈরী, অনেক গুলিতেই এখন খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে. শুধু প্রধান ফুটবল স্টেডিয়াম এখনও নেই, ২৭তম ইউনিভার্সিয়াডের জন্য তা উদ্বোধনী ও সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হবে, এই স্টেডিয়াম আগামী বছরে তৈরী হয়ে যাবে. সবই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে".

কাজানের পরিকাঠামোতেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে. আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে শহরের উন্নতিতে ইউনিভার্সিয়াড এক বড় প্রভাব ফেলেছে, উল্লেখ করেছেন ইগর শুভালভ. বিশেষজ্ঞরা অন্য আর একটি কম গুরুত্বপূর্ণ দিকে লক্ষ্য করেছেন: গত দুই বছরে কাজানের পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে.