ব্রিকস সংস্থার দেশ গুলির পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে যুদ্ধ পরবর্তী লিবিয়াতে নতুন গঠনে অংশগ্রহণ করা উচিত্. এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ইয়ান স্জেচি তাঁর ব্রাজিলের সহকর্মী আন্তোনিও পাত্রিওতার সঙ্গে এক টেলিফোন আলোচনা করেছেন. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এই পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিত্ব মূলক সংস্থার, যেখানে এই দুটি দেশ ছাড়াও রয়েছে রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা, উচিত্ হবে নিজেদের রাজনীতিতে পরস্পরের সঙ্গে ঐক্যমতে করা, যাতে উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হয়.

    মন্ত্রীদের আলোচনা হয়েছে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের খনিজ তেল উত্পাদন কোম্পানী FGOCO তথ্য বিষয়ক ম্যানেজার আবদেল জলিল মায়ুফের ইঙ্গিতময় ঘোষণার অব্যবহিত পরেই, যেখানে সাবধান করা হয়েছে যে, চিন, ব্রাজিল, ভারতের কোম্পানী গুলির পক্ষে এবারে কিছু রাজনৈতিক সমস্যা উদ্ভব হতেই পারে. একই দিনে চিনের রাষ্ট্রীয় খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানী স্বীকার করেছে যে, তারা বেশ কিছু সম্ভাবনাময় ভূতাত্বিক অনুসন্ধান প্রকল্প লিবিয়াতে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে এই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হওয়ার পরে. এই পরিস্থিতিতে চিনের ব্রিকস সংস্থার প্রভাবের প্রতি আহ্বানকে রাজনৈতিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বোধগম্য বলে উল্লেখ করে বলেছেন:

    "মন্ত্রীর ঘোষণা প্রমাণ করে যে, ব্রিকস সংস্থার দেশ গুলি, অংশতঃ চিন নিজেদের জায়গা নিতে চেয়েছে নতুন লিবিয়াতে. পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তার করার প্রতি আগ্রহ অংশতঃ জড়িত চিনের এই দেশে জ্বালানী সংক্রান্ত স্বার্থের সঙ্গেই. ব্রিকস সংস্থার আশ্রয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করা সম্ভবতঃ সহজ হবে. তার ওপরে এই ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক প্রভাব ক্রমাগতই বাড়ছে".

    লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধের ফলে ও পশ্চিমের পক্ষ থেকে বিরোধীদের একতরফা রাজনৈতিক ও সামরিক সাহায্যের কারণে, ৭৫টি চিনের কোম্পানী, সেখান থেকে ৫০টিরও বেশী প্রকল্প গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে. এর ফলে ক্ষতির পরিমান প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার. এই অর্থ সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে অফেরতযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে. একই সঙ্গে আগে তৈরী করা জায়গা আপাততঃ কেউই দখল করে নি. নতুন লিবিয়াতে ফিরে আসার আগে, চিনের প্রয়োজন হবে শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের ঐতিহ্য অনুযায়ী মঞ্চই নয়, বরং ব্রিকস দেশ গুলির সহকর্মীদের কাছ থেকে একেবারেই বিশেষ করে সমর্থন.

    প্রসঙ্গতঃ ব্রিকস দেশ গুলির স্বাভাবিক ঐক্যের দিকে না নজর দিয়েই রাশিয়া, চিন, ভারত ও ব্রাজিল লিবিয়া সম্বন্ধে একক অবস্থানেই ছিল. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তে ভোট দেওয়া থেকে তারা বিরত ছিল, আগে থেকেই এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্বন্ধে বুঝতে পেরে. তাদের আশঙ্কা প্রমাণিত হয়েছে – পশ্চিম এই দলিলের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা করেছে ও লিবিয়াতে সামরিক অপারেশন শুরু করেছে. গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স সিদ্ধান্তের প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, যেখানে লিবিয়ার মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসনের সময়ে সঞ্চিত প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার নতুন প্রশাসনের প্রয়োজনে দেওয়া হবে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, সেই সমস্ত দেশ, যারা লিবিয়াতে নিজেদের মূলধন লাগিয়ে ছিল, তারা দাবী করবে নিজেদের ক্ষতিপূরণের জন্য এই সঞ্চিত লিবিয়ার অর্থ থেকে বিশেষ তহবিল গঠন করার.

    লিবিয়ার সঙ্কট ব্রিকস দেশ গুলির আন্তর্জাতিক বিষয়ে আরও সক্রিয় ভাবে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে. ব্রিকসের এই লক্ষণ, - বিশেষত চিনের পক্ষ থেকে আহ্বানের পরে একটা গতি পেতেই পারে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, যা আরব দেশ গুলিতে ও আফ্রিকাতে হয়ত সন্তোষ জনক ভাবেই গৃহীত হবে.