পশ্চিমের নেতৃস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম গুলি পূর্ব নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী সিরিয়ার ঘটনা পরম্পরা নিয়ে ভুল তথ্য প্রসার করছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন এই দেশের তথ্যমন্ত্রী আদনান মাহমুদ. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়াতে বর্তমানে বিস্তৃত ভাবে গণতান্ত্রিক পরিশোধন করা হচ্ছে. কিন্তু পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম, তাদের দেশ গুলির রাজনীতিবিদদের মতই, সেগুলির প্রতি জোর করে অবহেলা করছে.

মন্ত্রী রাশিয়া থেকে যাওয়া একদল সামাজিক কর্মী, বিজ্ঞানী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন, যাঁরা সিরিয়াতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবার এই দেশে সফর করতে পরেছেন. রাশিয়ার প্রতিনিধি দল, যাঁদের মধ্যে রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকেরাও ছিলেন, তাঁরা শুধু দামাস্কাসেই নয়, বরং হামা শহরেও গিয়েছিলেন. রাজধানী থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরের এই শহর বাস্তবে বেশ কিছু দিন সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের অধীনস্থ ছিল. শুধু আগষ্ট মাসের প্রথমার্ধেই সম্ভবপর হয়েছে এই জায়গা থেকে জঙ্গী দের তাড়িয়ে দেওয়া. রাশিয়ার অতিথিরা নিজেরাই বিশ্বাস করতে পেরেছেন যে, এই শহর বর্তমানে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে শুরু করতে পেরেছে.

কিন্তু হামা, লাতাকি, দেরা ও তুরস্কের কাছের জনপদ গুলিকে এই ধরনের জঙ্গী মুক্ত করতে গিয়ে সিরিয়াকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে. আমাদের বিশেষ সংবাদদাতারা এক হাসপাতালে গিয়েছিলেন, যেখানে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সেনারা এখন চিকিত্সাধীন রয়েছেন. প্রচুর আঘাত পাওয়া মুহাম্মাদ আতী সালেখ নামের জনৈক সেনা আমাদের বলেছেন:

"আমরা গ্রামের পথ দিয়ে বিদ্রোহীদের ফাঁদ পাতা জায়গায় যাচ্ছিলাম. তারা সেই সময়ে গুলি বর্ষণ শুরু করেছিল. আমার বহু কমরেড নিহত হয়েছিল. আমি নিজেও আহত হয়েছিলাম, কিন্তু এখন, আল্লার কৃপায়, শরীর ভাল হতেই চলেছে".

    সিরিয়া দেশও এখন আঘাত ও ক্ষত সারাতে ব্যস্ত, যা সশস্ত্র বিদ্রোহীরা এই দেশকে দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রী আদনান মাহমুদ বলেছেন যে, পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম গুলি জোর করে এই বিষয় গুলিকে উল্লেখ করতে চাইছে না. পশ্চিমে বর্তমানে সিরিয়াতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের যে জোয়ার লেগেছে, সেই বিষয়কেও, নতুন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, রাজনৈতিক দল গুলির সম্বন্ধে ও নির্বাচন সংক্রান্ত আইন নিয়েও কোন কথা বলা হচ্ছে না. অর্থাত্ মন্ত্রী মনে করেছেন যে, তাঁর দেশের বিরুদ্ধে বাস্তবে চলছে তথ্য যুদ্ধ. এর উত্তরে দামাস্কাস কি করতে পারে? নিজেদের আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল – কাতারের আল- জাজিরা চ্যানেলের মত তৈরী করতে পারে, যার সম্প্রচার থেকে পশ্চিমে ও পার্শ্ববর্তী আরব দেশ গুলিতেও  দেখা যেতে পারে, এই মন্তব্য করে মন্ত্রী যোগ করেছেন:

    "বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারে প্রায় ৫০০টি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে. সেই গুলির প্রচার থেকে এক নির্দিষ্ট তথ্যের চিত্র তৈরী হয়, আর অনেক সময়েই বাস্তব হয় না. উদাহরণ হিসাবে বড় পশ্চিমের চ্যানেল গুলি থেকে আমাদের দেশ সম্বন্ধে প্রচার. এখন আমরা সিরিয়াতে পরিকল্পনা করেছি, কয়েকটি নতুন টেলিভিশন চ্যানেল তৈরী করার, তার মধ্যে সংবাদ দেওয়ার চ্যানেলও থাকবে. এই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম তৈরী করা সম্বন্ধেও, তার মধ্যে রেডিও প্রচার ও থাকবে. এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারলে তা সিরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে এক উল্লেখ যোগ্য উন্নতি করতে পারবে, আর তারই সঙ্গে সিরিয়ার প্রশাসন, যেমন সিরিয়ার দেশের ভিতরে, তেমনই দেশের বাইরেও এই অপ প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে".

    সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রী, মনে হয়েছে, খুবই স্থির প্রতিজ্ঞ. কিন্তু বিশ্বের প্রচার মাধ্যমে নতুন, প্রতিযোগিতায় সক্ষম সংবাদ মাধ্যম তৈরী করতে যথেষ্ট অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন. আর কখন দামাস্কাস যথেষ্ট শক্তি অর্জন করতে পারবে আত্মরক্ষা থেকে আক্রমণে যেত, তা বলতে অবশ্য মন্ত্রী দ্বিধা করেছেন.