ইয়ারোস্লাভলের তৃতীয় বিশ্ব রাজনৈতিক সম্মেলনের বিষয় হয়েছে জাতিগত দ্বন্দ্ব, বহু সংস্কৃতির ঐক্যের রাজনীতি ও অভিবাসনের সমস্যা. এবারে এটা ৭- ৮ সেপ্টেম্বর হবে. আয়োজকেরা উল্লেখ করেছেন যে এই বছরে বিষয়ের নির্বাচন হয়েছে খুবই বাস্তব সম্মত.

ইয়ারোস্লাভল তৃতীয় বার রাজনৈতিক সম্মেলনের অতিথিদের স্বাগত জানাবে. প্রতি বছরেই এই বিতর্কের মঞ্চ, যা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির অভিভাবকত্বে আজ হচ্ছে, তা ৫০০ বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতি বিদকে বিশ্বের কুড়িটিরও বেশী দেশ থেকে জমা করবে. এই সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ছিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস সাপাতেরো, ফ্রান্সের মন্ত্রীসভার প্রধান ফ্রান্সুয়া ফিওন, দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লী মেন বাক, ইতালির সিলভিও বেরলুসকোনি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হায়াতোমা.

এই বছরে ইয়ারোস্লাভলে রাশিয়া ও বিদেশী রাজনীতিবিদেরা সবচেয়ে বিপ্লবী ধারণা গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সবই একেবারে নতুন প্রস্তাব ও ধারণা. তাঁদের প্রজাতিগত, জাতিগত ও ধর্মীয় বিভিন্নতা নিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে কথা বলতে প্রস্তাব করা হয়েছে. ২০১০ সালের শীতে এই বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে এই সম্মেলনের আয়োজক পরিষদের প্রধান ভ্লাদিস্লাভ ইনোজেমত্সেভ বলেছেন:

"আমি এই বিষয় নির্বাচন নিয়ে অবাক হয়েছি, কিন্তু আজই সময় হয়েছে বলার যে, আমরা সঠিক ছিলাম. সারা বছর ধরেই ২০০৮ সালের সঙ্কটের সমস্যার প্রতিধ্বনি হিসাবে অর্থনৈতিক সমস্যা বাদ দিলে সাংস্কৃতিক বিরোধ, অভিবাসনের সমস্যা, উন্নত দেশ গুলির নাগরিক ও আগন্তুক লোকেদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, ধর্মীয় সমস্যা, প্রজাতিগত সহ্য ক্ষমতা আলোচনার প্রথম সারিতে এসেছে. নরওয়ে দেশের ট্র্যাজেডি, গ্রেট ব্রিটেনের বিদ্রোহ ও ডিসেম্বর মাসের রাশিয়াতে সংঘর্ষ – এই সবই দেখিয়েছে যে, রাষ্ট্র সেই কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে, যার পরে প্রয়োজন বাস্তব, কোন আবেগ প্রবণতা থেকে উদ্ভূত বহু সংস্কৃতি সংক্রান্ত ধারণা নয়, এক সমন্বয়ের রাজনীতি".

আন্তর্প্রজাতিগত সমস্যা, আন্তর্ধর্মীয় আলোচনায় শুধু রাশিয়ারই প্রয়োজন নেই. নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে অভিবাসিত লোকেদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এই বিষয় আজ প্রাচীন বিশ্বের জন্য আরও বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে. বহু সংস্কৃতি নিয়ে রাজনীতির সঙ্কট – আধুনিক সময়ে সবচেয়ে বড় বিপদ, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিস্লাভ ইনোজেমত্সেভ বলেছেন:

"সমস্যা পুরনো, আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য তা কি হতে পারে প্রযোজ্য - সেটাই, যা এক সময়ে নাম দেওয়া হয়েছিল "ফুটন্ত কড়াই" বলে, অথবা এমন কোন সমাজ তৈরী করার দরকার যেখানে নীতিগত ভাবে বিভিন্নতাকে অতিক্রম করার চেষ্টা হচ্ছে না, সব কিছুকেই একটা ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে না, বরং একটা সমাজ তৈরীর চেষ্টা হচ্ছে, যেখানে বহু রকমের সমাজ সংস্কৃতির দল রয়েছে".

দেখাই যাচ্ছে যে, বর্তমানের সমাজ আরও বেশী করে জাতীয়, প্রজাতিগত ও ধর্মীয় নীতিতে তৈরী হচ্ছে. এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজি ও পদ্ধতি কি হবে?  এই সব প্রশ্নের আলোচনার জন্যই রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা থেকে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা গ্যুলের সঙ্গে যোগ দেবেন.