উত্তর কোরিয়া পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছে, আর তার সঙ্গে রাশিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন নিজের দেশের এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে রাজী হয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ইর এর উলান উদে শহরে বৈঠকের পরে এই ফল জানানো হয়েছে.

    এই বৈঠক দুই ঘন্টার বেশী সময় নিয়ে হয়েছে. কিম চেন ইর দিমিত্রি মেদভেদেভকে রাশিয়া আমন্ত্রণের জন্য ধন্য বাদ দিয়েছেন, তিনি প্রথমে রাশিয়ার প্রশাসনকে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রতি মনোযোগ ও সহযোগিতার জন্য বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন ও বলেছেন যে, বহু জরুরী প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়েছে, ব্যবসা অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়েছে ও ভবিষ্যতে জ্বালানী শক্তি সহযোগিতা সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে. একই সঙ্গে হয়েছে পারমানবিক সমস্যা সমাধান নিয়েও. কিম চেন ইর ছয় পক্ষের কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে একমত হওয়া নিয়ে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন. এই আলোচনা শুরু হলে পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ ও পারমানবিক অস্ত্র উত্পাদন বন্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী হতে পারে.

কিম চেন ইর বলেছেন, "আমি আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি এই কারণে যে, আপনি আমার জন্য এমনকি এখানে উড়ে এসেছেন. এটাতো অনেক দূর. আপনার পক্ষ থেকে বিসেষ মনোযোগ ও যত্ন পেয়ে আমরা খুবই মনোরঞ্জক এক সফর করছি".

    যেমন ভাবা হয়েছিল, একটি প্রধান বিষয় হয়েছে গ্যাস সংক্রান্ত প্রশ্ন. মূল আলোচনা হয়েছে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সময়ে. রাশিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কথা রাশিয়া প্রস্তাব করেছে উত্তর কোরিয়ার এলাকা দিয়ে. মস্কো এই ভাবেই চাইছে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে.

    "গ্যাস সংক্রান্ত সহযোগিতা সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল ফল পাওয়া গিয়েছে" – উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:

    "আমরা আমাদের দপ্তর গুলিকে দায়িত্ব দিয়েছি এক বিশেষ পরিষদ তৈরী করার জন্য, যাতে তা উত্তর কোরিয়ার এলাকা দিয়ে গ্যাস পাইপ লাইন বানানোর নির্দিষ্ট সূচক তৈরী করে ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও এর সঙ্গে যুক্ত করে, কারণ সেখানেই প্রধান গ্রাহকেরা রয়েছেন. আমি যতটা বুঝতে পারি, উত্তর কোরিয়া রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এই ধরনের ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার বাস্তব রূপায়নে আগ্রহী. এখন প্রযুক্তি গত প্রশ্ন গুলি নিয়ে কাজ করা হবে. কিছু দিন আগে উত্তর কোরিয়াতে রাশিয়ার "গাজপ্রম" কোম্পানীর প্রতিনিধিদল গিয়েছিল, আর গতকাল আমি "গাজপ্রম" কোম্পানীর সভাপতি আলেক্সেই মিলার কে এই সমস্যা নিয়ে সক্রিয় ভাবে কাজ করতে বলেছি. সুতরাং আশা করবো যে, ভাল প্রকল্পই তৈরী হবে. বছরে মোট সরবরাহের পরিমান হবে এক হাজার কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস, আর যদি আরও চাহিদা থাকে, আমরা তৈরী আছি ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে. পাইপ লাইনটি দৈর্ঘ্যে ১১০০ কিলোমিটারেরও বেশী, আর এর অধিকাংশই যাবে উত্তর কোরিয়ার এলাকা দিয়ে".

    এখানে উল্লেখ করার যেতে পারে যে, দুই রাষ্ট্রের নেতাদের বৈঠক উলান উদে শহরের বাইরে সেনা বাহিনীর ঘাঁটিতে হয়েছে. কিম চেন ইর তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে কতখানি উদ্বিগ্ন, তা জানা থাকায়, রুশ পক্ষ থেকে এই জায়গাটিকেই প্রস্তাব করা হয়েছিল. আলোচনার আগে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার প্রধানেরা প্যারাট্রুপার বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ঘাঁটিতে অবতরণের যৌথ মহড়া দেখেছেন. উত্তর কোরিয়ার নেতা ও যিনি একই সঙ্গে সেই দেশের জাতীয় সামরিক বাহিনীর পরিষদের প্রধান, খুবই আগ্রহ নিয়ে রাশিয়ার সেনা বাহিনীর জায়গা বদল লক্ষ্য করেছেন. জানাই আছে যে, কিম চেন ইর কখনও বিমানে পরিক্রমা করেন না, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত এক বিশেষ সাঁজোয়া ট্রেনেই যাতায়াত করে থাকেন. উত্তর কোরিয়ার নেতার সফর তাই তৈরী করা হয়েছিল খুবই গোপনীয় পরিস্থিতিতে, আর তাঁর প্রহরা বিভাগ একেবারেই বারণ করেছে কোন রকমের ফোটো বা ভিডিও কিম চেন ইর কে নিয়ে তুলতে. কোরিয়ার পক্ষ থেকে ঐতিহ্য মেনেই নিজেদের সিনেমা তোলার ক্যামেরা নিয়ে আসা হয়েছে – ছবি তোলা হয়েছে রাশিয়া সফর নিয়ে.