মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকভস্কি শহরে সদ্য শেষ হওয়া "ম্যাক্স – ২০১১" বিমান মহাকাশ প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার "সুখই অসামরিক বিমান নির্মাণ" কোম্পানী ১০০ ও বেশী বিমান সরবরাহ করার চুক্তি করেছে. এই সমস্ত চুক্তির মোট অর্থ মূল্য তিনশো কোটি ডলারেরও বেশী.

    বিশেষ করে উল্লেখ করা উচিত ইন্দোনেশিয়ার "স্কাই এভিয়েশন" কোম্পানীর সঙ্গে ১২ টি বিমান প্রায় চারশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশী দামের চুক্তির কথা আর "গাজপ্রম আভিয়া" কোম্পানীর সঙ্গে ১০টি সুপারজেট – ১০০ এর জন্য তিনশো কুড়ি মিলিয়ন ডলারের চুক্তি. "ম্যাক্স" হওয়ার আগে এই কোম্পানীর কাছে ১৭০টি বিমান সরবরাহের বাঁধা বায়না ছিল. এই ভাবেই প্রথম রুশ মধ্য দূরত্বের যাত্রী বাহী বিমান, যা ১০০ যাত্রী ও সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরী হয়েছে তা বিশ্বের বাজারে সাফল্যের সঙ্গে আত্মপ্রকাশ করেছে. "ম্যাক্স – ২০১১" প্রদর্শনীতে হওয়া চুক্তি – এই বিমানের প্রতিযোগিতায় উচ্চ মানের সাফল্যের প্রমাণ, এই কথা উল্লেখ করে "আভিয়া.রু" পোর্টালের প্রধান রমান গুসারভ বলেছেন:

    "এটা বোধহয় সবচেয়ে সফল প্রকল্প. কিন্তু সবচেয়ে দায়িত্ব পূর্ণ সময় এখনও সামনে পড়ে রয়েছে. এই বিমানকে ব্যবহারের সময়ে নিজের ক্ষমতা দেখাতে হবে. দুটি বিষয়ে তাকে ভাল হতেই হবে: একটা ভরসা যোগ্যতা, অন্যটি দাম. যদি "সুপারজেট" এই দুটি ক্ষেত্রে মান রাখতে সক্ষম হয়, তবে বিদেশী কোম্পানী গুলি লাইন দিয়ে দাঁড়াবে. এখন বেশী করে কাজ করা দরকার উত্পাদনের জন্য, যাতে অনেক বিমান একসাথে তৈরী হয়. এর ফলে বিমানের দাম কমবে ও তার প্রতিযোগিতার ক্ষমতাও বাড়বে".

    এখানে বলা দরকার যে, প্রতিযোগিতা বিশ্বে এই ধরনের বিমান নির্মাণ ক্ষেত্রে খুবই বেশী. আর প্রত্যেক এই ধরনের বিমান নির্মাণ কোম্পানীর রয়েছে নিজেদের ভাল ও খারাপ দুটো দিকই. এটা প্রাথমিক ভাবে "এমব্রায়ের" ও "বমবার্ডিয়ের" কোম্পানীর বিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য. রাশিয়ার "সুপারজেট" তৈরী করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে, সেই সমস্ত বিখ্যাত কোম্পানীর সহায়তায় যেমন, "স্নেকমা", "তালেস", "বোয়িং", "আলেনিয়া", "হনেভেল". এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে "সুখই অসামরিক বিমান নির্মাণ" কোম্পানী সঠিক পথেই গিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা. চেষ্টা করা হয়েছে বিশ্বের বিমান নির্মাণ শিল্পের সবচেয়ে ভাল প্রযুক্তি গুলিকে সমাকলন করার. এটা যেমন রুশ ফরাসী যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ইঞ্জিন, তেমনই এর অনেক যন্ত্রাংশই বিদেশী কোম্পানী তৈরী করেছে. ইতালির কোম্পানী "আলেনিয়া" এই বিমানকে এক বিশেষ গুণ সম্পন্ন করেছে, অংশতঃ ইউরোপীয় স্বীকৃতী পাওয়ার জন্য, এই কথা উল্লেখ করে রমান গুসারভ বলেছেন:

    "ইউরোপের বাজারে বেরোনোর জন্যও এটা প্রয়োজন ছিল, এর জন্য "সুপারজেট ইন্টারন্যাশনাল" নামে কোম্পানী তৈরী করা হয়েছে, যা ইউরোপে রয়েছে. আরও একটা বিষয় হল – "আলেনিয়া" প্রযুক্তির দিক থেকে খুবই উন্নত কোম্পানী. আর যদি বর্তমানের সহযোগিতা থেকে ইতালির সহকর্মীরা খুশী হন, তবে সরাসরি তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একেবারে প্রকল্প অবস্থা থেকে নতুন ধরনের যৌগ ব্যবহার করে একেবারে নতুন ধরনের কোন একটা বিমান তৈরী করা যাবে".

    আজ "সুখই সুপারজেট – ১০০" বিমান সর্বত্রই চাওয়া হয়েছে – ইউরোপে, এশিয়াতে, আমেরিকায়. তাই এই কোম্পানীর এখন পরিকল্পনাও বিশাল: ২০২০ সালের মধ্যে অন্ততঃ ৮০০ টি নতুন বিমান তৈরী করা.