"রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বৈজ্ঞানিক উত্পাদন জোট যন্ত্র নির্মাণ (এন পে ও "মাশিনোস্ত্রইয়েনিয়া") কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টরের সহকারী আন্তন দেগতিয়ারেভ জানিয়েছেন যে, বর্তমানে রুশ ভারত রকেট "ব্রামোস" ডুবোজাহাজের জলের গভীর থেকে ছোঁড়ার পরীক্ষার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে.

    জাহাজ বিরোধী ডানা ওয়ালা রকেট "ব্রামোস" হল "ব্রামোস এরোস্পেস" নামের যৌথ মালিকানা কোম্পানীর উত্পাদন. গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষে রুশ যন্ত্র নির্মাণ কোম্পানী ও ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উত্পাদন সংস্থা এই যৌথ উদ্যোগ স্থাপন করেছিল. আর তার নামকরণ করা হয়েছিল ব্রক্ষ্মপুত্র ও মস্কভা নদীর নাম থেকে. খুবই কম সময়ের মধ্যে মাত্র তিন বছর পরেই প্রথম যৌথ ভাবে তৈরী রকেটের পরীক্ষা করা হয়েছিল. প্রাথমিক ভাবে সেটি রাশিয়ার "ইয়াহন্ত" নামের রকেটের প্রকল্পে ছিল. ভারতীয় পক্ষ থেকে সেটির নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র যোগ করা হয়েছিল. দুই দেশের নির্মাতাদের যৌথ কাজের ফল এই "ব্রামোস" রকেটকে শব্দাতীত গতি পেতে সাহায্য করেছিল. আধুনিক "ব্রামোস" রকেট শব্দের গতির চেয়ে তিন গুণ বেশী গতিতে উড়তে পারে. এই ধরনের রকেট আধুনিক যুদ্ধ জাহাজের আকাশ প্রতিরোধ ব্যবস্থার রাডারের জন্য দেখার বাইরে থেকে যায় ও তা প্রতিহত করা সম্ভব নয়. আন্তন দেগতিয়ারেভ উল্লেখ করেছেন যে, এর মধ্যেই ২৫টি এই রকমের রকেট পরীক্ষা করা হয়েছে – আর সব কটিই সফল হয়েছে.

    "রুশ ভারত রকেট "ব্রামোস", ভারতীয় সেনা বাহিনী গ্রহণ করেছে. এখন সেই গুলি ভারতের নৌবাহিনী ও পদাতিক বাহিনীর কাছে রয়েছে. এই ধরনের বাহিনীতে বর্তমানে আরও রকেট দিয়ে পূর্ণ করার কাজ চলছে. ভারত রাশিয়ার থেকে যে সু – ৩৫ এম কা ই ধরনের যুদ্ধ বিমান কিনেছে, তাতেও এই রকেট লাগানো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে. ভারতীয় প্রতিরক্ষা দপ্তরের বায়না অনুযায়ী সমস্ত প্রতিরক্ষা বাহিনীকেই এই ধরনের রকেট দেওয়া হবে. রাশিয়া নিজেও এই জাতের রকেট নিজেদের নতুন প্রকল্পের নির্মীয়মাণ যুদ্ধ জাহাজ গুলিতে লাগাতে চায়. আর তার পরেই কথা হতে পারে তৃতীয় কোন দেশে "ব্রামোস" ধরনের রকেট সরবরাহ করার. এই প্রশ্ন গুলি বর্তমানে আলোচিত হয়েছে. শুধুশুধুই সদ্য সমাপ্ত হওয়া "ম্যাক্স – ২০১১" এ আসা বিদেশী বিশেষজ্ঞরা এই রুশ ভারত যৌথ উদ্যোগ "ব্রামোস এরোস্পেস" কোম্পানীর তৈরী রকেট সম্বন্ধে আগ্রহ প্রকাশ করেন নি". এই কথা বলেছেন আন্তন দেগতিয়ারেভ.

    রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদে জাহাজ তৈরী কারখানা "ইয়ানতার" (অম্বর) এ ভারতের জন্য তিনটি ফ্রিগেট তৈরী হচ্ছে. এই গুলি সোজা উপরে ছোঁড়ার মতো ব্যবস্থা দিয়ে "ব্রামোস" রকেট দিয়ে সজ্জিত করা হবে.

    আন্তন দেগতিয়ারেভ বলেছেন, "ব্রামোস এরোস্পেস" ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে একশো কোটি ডলারেরও বেশী দামের কয়েক শ রকেট বিক্রী করার. এই কাজের জন্য উপযুক্ত ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানা আছে. এই কোম্পানী ২০১৮ সাল অবধি বায়না পেয়েছে.

    "ব্রামোস" রকেটের আগামী পরীক্ষা ডুবোজাহাজে জলের তলা থেকে করা হলে এই রকেটের আরও উন্নতি করা সম্ভব হবে. এই কোম্পানীর নিযুক্ত রাশিয়া ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে এই ধরনের রকেটের নতুন প্রজন্ম নিয়ে কাজ করছেন. "ব্রামোস" বর্তমানের দ্বিগুণ গতি সম্পন্ন হয়ে সমস্ত রকমের চলমান যন্ত্রের উপর থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে, তা জাহাজ, যুদ্ধ জাহাজ, বিমান যাই হোক না কেন.