সিরিয়ার হামা শহরে কয়েক দিন আগের সশস্ত্র বিরোধীদের সাফাই অভিযানের পরে প্রথম বিদেশী সাংবাদিকের দল, যাদের মধ্যে রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকেরাও ছিলেন, তারা গিয়েছিলেন. এই কয়েক দিন আগেও বিদ্রোহী শহর কি রকম ভাবে সাংবাদিকদের সামনে দেখা দিয়েছে, তার সম্বন্ধে বলেছেন ওলেগ গ্রিবকোভ:

    "প্রায় পুরো জুলাই মাসই সরকারি সেনা বাহিনী হামা শহর ঘিরে রেখেছিল, শুধু আগষ্ট মাসের শুরুতেই তারা ধীরে এই সশস্ত্র বিরোধীদের শহর থেকে তাড়িয়ে দিতে পেরেছে. বিরোধীরা জানিয়েছিল যে, এই কাজের জন্য সেনা বাহিনী ভারী মেশিন গান ও ট্যাঙ্ক ব্যবহার করেছে, কিন্তু এর কোন প্রমাণ আমরা পাই নি".

    হামা শহরের পরিস্থিতি নিয়ে শোনা কথা ও বানানো কথা আজও যথেষ্ট রয়েছে. যেদিন এখানে সাংবাদিকেরা শহর পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, সেই দিনও বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেলে তথ্য জানানো হয়েছিল যে, গত রাতে হামা শহরে ১৫ জন নিহত হয়েছে. কিন্তু এই খবর বাস্তবের সঙ্গে একেবারেই মেলে না. শহরে আসা সাংবাদিকদের কেউই কোন রকম ভাবে বাধা দেয় নি, সারা শহরে ইচ্ছা মতো ঘুরে দেখতে ও রাস্তায় স্থানীয় লোকেদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে. আর একেক সময়ে এই কথাবার্তা ছিল খুবই উত্তেজিত. সকলেই মোটেও সরকারি সেনা বাহিনীর কাজে সন্তুষ্ট নন. কিন্তু গত রাতে যে গোলা গুলি চলেছে, তার সম্বন্ধে একটা কথাও বলা হয় নি.

    এই প্রসঙ্গে স্থানীয় জনতা বরং জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিদ্রোহে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল আগন্তুক সন্ত্রাসবাদীরা, তার মধ্যে অন্য আরব দেশের লোকজন এমনকি শুধু অন্য আরবই নয়, একেবারে অন্য বিদেশী রাষ্ট্রের লোকও ছিল, যেমন আফগানিস্তানের লোক. অবশ্যই স্থানীয় জনতার মধ্যে তাদের সঙ্গে হাত মেলাবার মতো লোকও ছিল, এই কথা হামা রাজ্যের রাজ্যপালও স্বীকার করেছেন. তিনি সেই সমস্ত নৈরাজ্য বাদী কাজকর্মের কথাও বলেছেন, যা এই সব বিরোধীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে, যখন তাদের দখলে শহর ছিল, তখন করেছে.

    রাজ্যপালের কথার সততা প্রমাণ হয় হামা শহরের সর্বত্র. জ্বালিয়ে দেওয়া পুলিশের থানা, আদালত ভবন সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস, সেনা বাহিনীর অফিসারদের ক্লাব কয়েক টুকরো করে দেওয়া. সেনা ও অফিসার, যারা এই শহরে অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিল, তাদের সন্ত্রাসবাদীরা কোন ভাবেই ক্ষমা করে নি. সাংবাদিকেরা সেই দুঃখজনক কারণে বিখ্যাত ওরন্ত (স্থানীয় আরবী ভাষায় এই নাম আল-আসী – "ঘূর্ণি পাকের নদী") নদীর উপরে সেতু দেখতে গিয়েছিলেন. এখান থেকেই যোদ্ধারা নদীতে তাদের হত্যা করা সেনা ও তাদের বাড়ীর লোকজনকে জলে ভাসিয়ে দিয়েছিল. তারপরে আবার এটা ভিডিও তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিল, সারা বিশ্ব জুড়ে দেখার জন্য.

    এখন শহরের ইতিহাসের এই ভারী পাতা পিছনে রয়ে গিয়েছে. আগষ্ট মাসে সরকারের সেনা বাহিনী আবার শহরের দখল নিতে পেরেছে. যুদ্ধ ছিল খুবই কঠিন. এমনও হয়েছে যে, সব দিক থেকে উড়ে আসা গুলিতে নিহত হয়েছেন শান্তিপ্রিয় মানুষ. বেদনা ও পারস্পরিক উষ্মা এখনও রয়ে গিয়েছে. কিন্তু হামা শহরে পরিস্থিতি ধীরে হলেও স্বাভাবিক শান্ত হচ্ছে.

    পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের এবারে সময় হয়েছে সিরিয়ার পরিস্থিতি সম্বন্ধে বাস্তব প্রকাশ করার. এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করেন প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিবিদ এডোয়ার্ড লায়োনেল পেক. গত তিরিশ বছরের সরকারি কাজকর্মের মধ্যে তিনি বহু আরব দেশে যেতে পেরেছিলেন, বহু জায়গায় রাজদূত হিসাবেও ছিলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরেও উচ্চ পদে আসীন ছিলেন. তিনি এখন হামা শহরে এসেছেন সব কিছু স্বচক্ষে দেখে যেতে – আর তারপরে দেশে ফিরে গিয়ে এই সম্বন্ধে বলতে. "রেডিও রাশিয়ার" প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এডোয়ার্ড লায়োনেল পেক বিশেষ করে বলেছেন যে, এবারের যাত্রায় তিনি কোন পক্ষের হয়ে আসেন নি, কোন সামাজিক দলেরও লোক নন, এটা একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, তিনি বলেছেন:

    "আমি জানি না, আমেরিকার লোকেদের আমার ঠিক ধারণা বোঝাতে পেরে উঠবো কি না. লোকের ধারণা পাল্টানো খুবই মুশকিল, কিন্তু আমি সমস্ত কিছুই করবো, যা করতে পারবো. এই রকমের একটা জটিল পরিস্থিতিতে, খুবই খারাপ হবে নিজের ধারণা কোন বানানো ইতিহাসের ভিত্তিতে করা".

    এর আগে শ্রী পেক – ব্যক্তি হিসাবে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন. আর আসাদ কে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল যে, একজন বুদ্ধিমান, যুক্তি সঙ্গত ভাবে বিচার করতে পারা লোক. একেবারেই সেই ধরনের নয়, যে রকম তাঁকে বর্তমানের পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা চলছে. প্রাক্তন রাজদূত যেমন মনে করেছেন যে, বর্তমানে সিরিয়ার প্রশাসনকে পরিস্থিতি শান্ত করার সুযোগ ও রাজনৈতিক সংশোধন করার সময় দেওয়া উচিত্. আর বর্তমানে কিছু লোক যে চেষ্টা করছে – পরিস্থিতিকে আরও টালমাটাল করা, তা ঠিক হচ্ছে না.

    সমস্ত সমস্যাই যে শান্তিপূর্ণ পথেই সমাধান করা দরকার, তা সিরিয়ার লোকেরাও বলছেন – তা যেমন ক্ষমতাসীন পক্ষের লোকেরা, তেমনই বিরোধী পক্ষের মধ্যে গঠন মূলক চিন্তার লোকেরা. আর এটাই বর্তমানের জটিল পরিস্থিতি থেকে নির্গত হওয়ার জন্য একমাত্র সঠিক সুযোগ.