ব্রিটেনের কাগজ ফাইনান্সিয়াল টাইমস লিখছে যে, মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসনের পতনের পরে লিবিয়া অশান্তই থাকবে. একটা বিষয় হল রাজাকে মেরে ফেলে তার পুরনো শাসনকে ভেঙে ফেলা – কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য ও কঠিন বিষয় হল, তার বদলে কিছু একটা ভাল দেওয়া ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখা. এই কথা মার্কিন পররাষ্ট্র পরিষদের প্রধান রিচার্ড হাস কে উত্স বলে প্রকাশ করা হয়েছে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা একই ধরনের ধারণা নিয়ে রয়েছেন. নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি মনে করেন যে, লিবিয়া, খুব সম্ভবতঃ একক দেশ হিসাবে আর থাকবে না, যদি মুহম্মর গাদ্দাফি সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত হয়ে, ক্ষমতা থেকে অপসৃত হন. বিরোধী পক্ষে বহু স্বৈর তন্ত্রী নায়কের উদ্ভব হবে ও তারা দেশকে বহুধা বিভক্ত করবে. লিবিয়া দ্বিতীয় ইরাক বা সোমালি হবে. মস্কো চেষ্টা করে চলেছে যাতে এই দেশে ঐক্য বজায় থাকে ও আলোচনাতে এক সঙ্গে গাদ্দাফির শক্তি, অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ, দেশের নেতার সম্পর্কে ভাই, আহমেদ গাদ্দাফি আদ -দাম এর জোটের লোকেরা, আর তারই সঙ্গে লিবিয়ার রাজতন্ত্রের প্রতিনিধিরা, যারা গাদ্দাফির দ্বারা বিতাড়িত হয়েছিল ও বর্তমানে ইউরোপে প্রবাসী হয়ে রয়েছেন, তারা সকলেই বসেন.

    লিবিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লব এই বছরের ছয় মাস ধরে চলছে. এই বিরোধে বহু সহস্র লোক নিহত হয়েছেন. ২২শে আগষ্ট রাত্রে ত্রিপোলি শহরে বিরোধীরা ঢুকেছে ও এখন শহরে বেশীর ভাগ অঞ্চলেই নিয়ন্ত্রণ বজায় করেছে. লিবিয়ার নেতার ভাগ্য সম্বন্ধে বর্তমানে কিছু ভাল করে জানা নেই. ১৫ই জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ তিরিশটিরও বেশী দেশ লিবিয়ার বিরোধী পক্ষকে আইন সঙ্গত বলে স্বীকার করেছে. সোমবারে ইজিপ্ট ও কুয়েইত এই পক্ষকে স্বীকার করেছে. চেখ ও আলজিরিয়া সহ বহু দেশেই লিবিয়ার রাজদূতাবাস গুলিতে বিরোধী পক্ষের পতাকা তোলা হয়েছে.