মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকভস্কি শহরে দশম জয়ন্তী বর্ষের ম্যাক্স – ২০১১ বিমান – মহাকাশ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে. সমস্ত দিক থেকেই, তার মধ্যে প্রথম প্রদর্শনীও রয়েছে, ম্যাক্স – ২০১১ রেকর্ড করার আশ্বাস দিয়েছে. এই বছরে ২০০ টিরও বেশী বিমান, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য উড়ানের যন্ত্র দেখানো হয়েছে. তাদের মধ্যে একশো টিরও বেশী দর্শকেরা প্রথমবার দেখতে পাবেন.

    এবারের প্রদর্শনী হয়েছে ১৬ থেকে ২১ শে আগষ্ট. ফার্নবরো ও লে বুর্জের প্রদর্শনীর মতো ম্যাক্স প্রদর্শনীও আস্থার সঙ্গে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিমান প্রদর্শনীতে পরিনত হতে চলেছে. এবারে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ পঞ্চম প্রকল্পের যুদ্ধ বিমান, – যুদ্ধের প্রথম সারির বিমান আক্রমণের সম্ভাব্য বিমান ব্যবস্থা (পাক- ফা). জনতা এই বিমানটিকে প্রথম বার শুধু জমিতেই নয়, উড়ন্ত অবস্থায় ও দেখতে পেয়েছেন.

    চার বছরের বিরতির পরে এবারের বিমান প্রদর্শনীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান বাহিনী আবার অংশ নিয়েছে. ম্যাক্স – ২০১১ প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম দুটি যাত্রী বাহী বিমানকেই এয়ার বাস – ৩৮০ ও বোয়িং ড্রিম লাইনার – ৭৮৭. এই গুলিকে এমনকি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখাও গিয়েছে. ড্রিম লাইনার তার গঠনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একটানা ১৫ হাজার কিলোমিটার ২৫০ থেকে ৩৩০ জন যাত্রী নিয়ে পাড়ি দিতে পারে. আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রী বাহী বিমান এয়ারবাস এ ৩৮০ প্রত্যেক দিনই আকাশে প্রদর্শনী মূলক উড়ান করেছে.

    রাশিয়ার নতুন যন্ত্রের মধ্যে ম্যাক্স – ২০১১ তে আ এন – ১২৪ "রুসলান" -  বিশ্বের সবচেয়ে বড় মালবাহী বিমান আলাদা হয়ে আছে. উড়ান প্রদর্শনীতে সুখই কর্পোরেশনের অসামরিক বিমান সুপারজেট – ১০০ রয়েছে. এই বিমান আন্তর্জাতিক ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরী হয়েছে. সবচেয়ে বেশী দেখানো হয়েছে রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান. রুশ দেশে তৈরী সামরিক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ বিমান বর্তমানের বিশ্বে খুবই চাহিদা সৃষ্টি করেছে ও আমেরিকা ও ইউরোপের একই ধরনের বিমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে. এই ধরনের যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ও সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিময় উদাহরণ রসআবারোনএক্সপোর্ট কোম্পানী দর্শকদের সামনে উপস্থিত করেছে, এই কথা সংস্থার প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো উল্লেখ করে বলেছেন:

    "আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে বহুমুখী ও অতি দ্রুত উড়ানের সময়ে দিক পরিবর্তনে সক্ষম বিমান এস ইউ – ৩৫ যুদ্ধ বিমান রয়েছে, যা পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে. এই বিমানের রপ্তানী করার সম্ভাবনা প্রচুর, যেমন তা রয়েছে মিগ – ২৯ ধরনের বিমানের. বহু দেশই প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের উপযুক্ত ইয়াক – ১৩০ বিমান সম্বন্ধে আগ্রহ দেখিয়েছে. মি – ২৮ এন এ  - এটা একটা যুদ্ধের হেলিকপ্টার, যাতে এর আগের যুদ্ধ ও পরিবহনের উপযুক্ত মি – ২৪ হেলিকপ্টারের বহু যুদ্ধের ও দিনের অভিজ্ঞতা যোগ করে তৈরী করা হয়েছে. কা – ৫২ এ হেলিকপ্টার দিয়ে আমরা খুবই উচ্চ মানের উড়ান ক্ষমতার সঙ্গে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছি".

    রসআবারোনএক্সপোর্ট কর্পোরেশনের মণ্ডপে এক স্বয়ং সক্রিয় প্রদর্শন ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল. দর্শকেরা চওড়া পর্দায় দেখতে পেয়েছেন রুশ বিমান প্রযুক্তির ব্যবহারের উদাহরণ: যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধ ও পরিবহনের উপযুক্ত মি – ১৭১ শা হেলিকপ্টার, পরিবহনের হেলিকপ্টার মি – ২৬ টি. সব মিলিয়ে এই স্বয়ং সক্রিয় ব্যবস্থায় ১৫টি নমুনা দেখানো হয়েছে. যেহেতু এটা তৈরী হয়েছে নতুন প্রশিক্ষণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে, এই গুলির প্রদর্শনীতে ব্যবহার খুবই বিরল পরিস্থিতি তৈরী করতে সাহায্য করে ও তার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিও রয়েছে.

    বিমান প্রদর্শনী শুধু নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনেরই ও তার মধ্যে সেই সমস্ত গোপনীয় প্রযুক্তি, যা নিরাপত্তার কারণে দেশের ভিতরেই শুধু দেখানো হয়ে থাকে, শুধু তার জায়গা নয়, এখানে যোগাযোগও তৈরী হয়. ব্যবসার জন্য নতুন সহকর্মীও খুঁজে পাওয়া যায়. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী এই চুক্তি গুলির সর্ব মোট মূল্য, যা এই প্রদর্শনীর দিন গুলিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার অর্থ মূল্য এক হাজার কোটি ডলারের মতো. "সম্মিলিত বিমান নির্মাণ কর্পোরেশন" পরিকল্পনা করেছিল ম্যাক্স – ২০১১ প্রদর্শনীতেই প্রায় ১০০ টি অসামরিক বিমান সরবরাহ চুক্তি করার. প্রাথমিক ভাবে এটা এম সি – ২১ ও "সুপারজেট – ১০০". ঐতিহ্য অনুযায়ী রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান এখানে ভালই বিক্রী হয়ে থাকে. এই বছরের অস্ত্র রপ্তানীর মধ্যে তার পরিমান হবে অর্ধেকেরও বেশী.

    এই প্রদর্শনীর আহ্বায়কেরা আশা করেছিলেন যে, এখানে ছয় লক্ষেরও বেশী লোক আসবেন. মোট ৮০০ টিরও বেশী কোম্পানী এসেছে ৪২টি দেশ থেকে. এই বছরে দর্শকদের জন্য খুব ভাল উড়ানের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে. এই প্রদর্শনীর উড়ান অংশে দেশের পাঁচটি দল অংশ নিচ্ছে "রুশ ভিতিয়াজ", "স্ত্রিঝি", "রুশ ঈগল", "রুশ" ও "প্রথম উড়ান দল". এছাড়া, লাতভিয়ার "বাল্টিক মৌমাছি" দলও অংশ নেবে, তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পাইলটেরাও উড়বেন. "রুশ ঈগল" দলের প্রদর্শনীতে প্রথমবার "গ্রন্থি" ও "বাঁকা পাকের আক্রমণ" দেখানো হবে, যা সাধারণতঃ আধুনিক যুদ্ধে অত্যন্ত বেশী উচ্চতায় করা হয়ে থাকে, কিন্তু প্রদর্শনীতে দর্শকদের সুবিধার জন্য এই ধরনের কৌশল দেখানো হতে চলেছে অনেক বেশী ভূমির কাছাকাছি. সুতরাং দর্শকদের জন্য এখানে থাকছে ভোলা যায় না এমন প্রদর্শনী.

0    স্কোলকোভা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কেন্দ্রের সঙ্গে এখানে রাশিয়ার রকেট মহাকাশ কর্পোরেশন এনার্জি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. এর ফলে মহাকাশ গবেষণার সম্ভাব্য সমস্ত ব্যবসায়িক দিকটি স্কোলকোভা কেন্দ্রের মহাকাশ ক্লাস্টারের নেতৃত্ব দেখাশোনা করবে. এটা দূর থেকে পৃথিবীর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা, দিক নির্দেশ ব্যবস্থা, যোগাযোগ, খুবই হাল্কা রকেটের জন্য প্রকল্প তৈরী ও মহাকাশের অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহে চলাফেরার করার জন্য যান অথবা খুবই ছোট মাপের কৃত্রিম উপগ্রহ.