২২শে আগষ্ট রাশিয়াতে জাতীয় পতাকা দিবস পালিত হয়. ঐতিহ্যবাহী ত্রিবর্ণ পতাকার ইতিহাস বহু যুগের. এই পতাকা সপ্তদশ শতকে প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময়েই ছিল নিষিদ্ধ – যখন সোভিয়েত দেশ ছিল. ২২ শে আগষ্ট জরুরী অবস্থায় জাতীয় পরিষদের পতনের পরে এই সাদা- নীল- লাল পতাকা নতুন রাশিয়ার এক প্রধান প্রতীক হয়েছিল.

    রাশিয়ার পতাকা একটি আয়তক্ষেত্র, যেটি সমান তিনটি ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে উপর থেকে নীচে সাদা, নীল ও লাল ভাগে বিভক্ত. বিভিন্ন সময়ে এর অর্থ করা হয়েছে বিভিন্ন ও এর সমস্তই লোক সংস্কৃতির অংশ, একই সময়ে এর জন্য কোন সরকারি ব্যাখ্যা কখনোই দেওয়া হয় নি. একটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বজন বিদিত ব্যাখ্যাতে বলা হয়েছে যে, সাদা রঙের অর্থ হল মহানত্ব, নীল – বিশ্বস্ততা ও লাল – পুরুষকার. রাষ্ট্রীয় প্রতীকের সঙ্গে তেরঙ্গা পতাকার আবির্ভাবকে ঐতিহ্য মেনেই রাশিয়ার জার পিটার দ্য গ্রেটের শাসন কালের সঙ্গে জড়িত করা হয়ে থাকে, এই ব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রথম উপ সভাপতি আলেক্সেই মাকারকিন বলেছেন:

    "আমি মনে করি এইটি আমাদের ইতিহাসের অঙ্গ, প্রসঙ্গতঃ তা পিটার দ্য গ্রেটের সঙ্গে জড়িত, যার শাসন কালে এই রঙ আমাদের দেশে আবির্ভাব হয়েছিল ও একটি সরকারি চরিত্র নিয়েছিল. এই পতাকা বহুল প্রসারিত সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত, সেই সমস্ত পরিবর্তন, যা রাশিয়াকে ইউরোপের একটি নেতৃ স্থানীয় দেশে পরিবর্তন করেছে. পরবর্তী কালে এই পতাকা জাতির মনে জায়গা করে নিয়েছিল ও তা জনগনের জাতীয় পতাকা হিসাবেই মানা হত. অর্থাত্ সেই পতাকা যা বিভিন্ন ঘটনা ও উত্সবে ব্যবহার করা হত. প্রসঙ্গতঃ এই পতাকার রঙ দিয়ে রাশিয়ার লোকেরা উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কোন রকমের উপর থেকে নির্দেশ ছাড়াই নিজেদের সেই সমস্ত জায়গা সজ্জিত করতেন, যেখানে কোন গণ উত্সব পালিত হত".

    ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পরে ও সোভিয়েত দেশ তৈরী হওয়ার পরে এই তেরঙ্গা পতাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল. আর তা আবার ফিরেছিল শুধু ১৯৯১ সালের আগষ্ট মাসে.১৯শে আগষ্ট, সোভিয়েত দেশের সংযুক্ত সার্বভৌম দেশ হিসাবে পুনর্গঠনের আগে, যখন ধারণা করা হয়েছিল যে, সোভিয়েত দেশের রাজ্য গুলি আরও বেশী করে স্বায়ত্ব শাসনের অধিকার পাবে, কিছু সামরিক ও পার্টি নেতা দেশের ক্ষমতা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন. দেশে গঠিত জরুরী পরিস্থিতি কালীণ পরিষদ ক্ষমতা থেকে তত্কালীণ সোভিয়েত রাষ্ট্রপতি মিখাইল গরবাচভ কে বরখাস্ত করে ও দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি কে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা করে, যারা এই ক্যুদেতার বিপক্ষে গিয়ে জাতীয় ভবনের সাদা বাড়িতে জমা হয়েছিল. কিন্তু সামরিক বাহিনীর এক অংশ গণতন্ত্রের পক্ষের লোকেদের দলে চলে এসে এই বাড়ী আক্রমণ করতে অস্বীকার করে. এই জরুরী পরিষদের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ও গণতান্ত্রিক দলের লোকেরা বিজয় ঘোষণা করেছিল, আর ২২শে আগষ্ট এই ভবনের উপরে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল. এই দিন তেরঙ্গা পতাকা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি বরিস মাকারেঙ্কো বলেছেন:

    "এই দিনকে শুধুশুধুই বাছা হয় নি. এই দিনে মস্কোর বাসিন্দাদের এক বিরাট দল শহরে রাস্তা দিয়ে এক বিশাল তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে মিছিল করেছিল, এটা ছিল এই পরিষদের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক ও এক দলীয় কমিউনিস্ট নাম ধারী প্রশাসনের পতনের প্রতীক. আমার আনন্দ হয় এই ভেবে যে, রাশিয়ার লোকেরা এই পতাকাতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন. শতকরা ৮৫ ভাগ রুশ লোকই সঠিক ভাবে বলতে পারেন এই পতাকায় রঙ গুলির অবস্থান নিয়ে – আসলে তাঁরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন. পতাকা – এটা জাতির প্রতীক ও তা নিয়ে প্রত্যেকেরই গর্ব থাকা উচিত্, যাঁরা নিজেদের রুশ লোক বলে মনে করেন".

    ১৯৯৪ সাল থেকে সরকারি ভাবে রুশ জাতীয় পতাকা দিবস পালিত হচ্ছে, যখন রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি সেই উদ্দেশ্যে তৈরী নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন. সারা রাশিয়া সামাজিক মতামত পরিসংখ্যাণ কেন্দ্র আয়োজিত শেষ পরিসংখ্যানে দেখতে পাওয়া গিয়েছে যে, জাতীয় পতাকা গর্ব ও উল্লাসের অনুভূতি জাগায় শতকরা ৫২ শতাংশ জনগণের, সহমর্মীতা শতকরা ২৯ ভাগের. পতাকার প্রতি নির্মোহ – শতকরা ১৫ ভাগ রুশ লোক ও মাত্র দুই শতাংশ লোকের মনে এটা রাগ তৈরী করে. এই সংখ্যা থেকেই বোঝা যায় যে, বিগত কুড়ি বছরে, গণতান্ত্রিক রাশিয়া তৈরী হওয়ার পর থেকে মত দ্বন্দ্বের অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে. লোকে সত্যই নিজেদের এক নতুন দেশের নাগরিক বলে মনে করে থাকেন ও নতুন প্রতীক গুলিকে মর্যাদা দেন.