ঐতিহ্যবাহী এয়ারো- কসমিক প্রদর্শনী মাক্স - ২০১১’ আজ শেষ হচ্ছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উপকন্ঠের জুকোবস্কে এই প্রদর্শনির আয়োজন করা হয়।এবার কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে।রাশিয়ার উদ্ভাবিত নতুন নতুন বিমান প্রদর্শনী যা স্বভাবতই জানিয়ে দিচ্ছে যে,রাশিয়ার বিমান প্রযু্ক্তির ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রয়েছে।তাছাড়া মাক্সে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহনও একই সাথে বহির্বিশ্বে বিমান নির্মাণ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে।

ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে প্রতিবছর গ্রোমোভা গবেষনা ইন্সটিটিউটে মাক্স প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।প্রসঙ্গত,এটি ইউরোপের অন্যতম বিমান নির্মাণ বিষয়ক গবেষনা ইনসটিটিউট।এ বছর মাক্সে প্রদর্শন করা হয় ড্রিমলাইনার 'বোয়িং'-৭৮৭ ও বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত যাত্রী পরিবহনকারী বিমান আ-৩৮০।এয়ারবাস কোম্পানীর নির্মিত বিমান যা মস্কোর জুকোবস্কী আকাশে উড্ডয়ন করেছে তা ৫০০ এরও অধিক  যাত্রী নিয়ে কোন প্রকার ট্রানজিট বিরতি ছাড়াই ১৫ হাজার কিলোমিটার দুরত্ব অতিক্রম করতে পারবে।রাশিয়াতেও ঠিক এ ধরনের বিমানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেই ক্ষেত্রে কাজও এগিয়ে চলছে।এমনটি বলছেন সংযুক্ত বিমান নির্মাণ কর্পারেশনের মহাপরিচালক মিখাইল পাগাসিয়ান।তিনি বলছেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে অনুরুপ ক্যাটাগরীর বিমান তৈরী করা।এ ধরনের বিমান আঞ্চলিক বিমানগুলো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।এসব বিমানের মধ্যে রয়েছে সুপারজেট ১০০ ও আন-১৪৮।এই মডেলের বিমানের আরও উন্নয়ন করাই হচ্ছে এই কর্মসূচির অন্যতম একটি কাজ; যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি।তবে বিশ্ব বাজারে বিমান প্রযুক্তিতে নিজেদের ভাল অবস্থানে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন বড় আকারের বিমান।আমরা এই  কর্মসূচির কথা চিন্তা করেই ‘প্রকল্প ২০২০’ নিয়ে কাজ করছি।এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে আমি ‘মাক্স ২০১৩’ তে বলব’ । বিশ্বে বর্তমানে বিমান নির্মাণে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তি ও উপকরন।এটি মূলত কম্পোজিশনের কারণেই ঘটছে এবং যা যোগান দিচ্ছে ইস্পাত।সঙ্গত কারণেই মাক্সে রাশিয়ার বিমান নির্মাণ কোম্পানীর সাথে ইস্পাত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।নতুন উদ্ভাবিত এই উপকরন ব্যবহারের ফলে বিমানে ভর অন্তত ৩ গুন কমে আসবে।এমনি বলছেন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া সর্বরাশিয়া বিমান উপকরন ইন্সটিটিউটের পরিচালক ইভগেনি কাবলভ।তিনি বলছেন, ‘ওই ধরনের উপকরন দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০-র মত বিমান তৈরীর একটি প্রকল্প তৈরী করেছে।আগামী দিনের বিমান প্রযুক্তিতে এই ইস্পাত ছাড়া বিমান তৈরীর কথা চিন্তাও করা যাবে না।তবে শুধুমাত্র উপকরন তৈরী করাই শিখলে হবে না বরং তা ব্যবহারের প্রকিয়াও জানতে হবে।আমাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাত্রীবাহি বিমান ওআকে-এমএস-২১ ও সুপারজেট নির্মান করা হবে।

এবারের মাক্স ২০১১ এয়ারো- কসমিক প্রদর্শনীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিনের একটি ঘোষণা।প্রধানমন্ত্রী মস্কোর  জুকোবস্কে একটি জাতীয় বিমান নির্মাণ কেন্দ্র গড়ে তোলার আশ্বাষ দেন। এখানে দেশের স্বনামধন্য গবেষনামূলক ইন্সটিটিউট ও বিমান নির্মাণ কারখানার শাখা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এ বছর মাক্স ২০১১ তে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বিভিন্ন চুক্তি সই হয়েছে।তাছাড়া জুকোবস্কে অনুষ্ঠিত এয়্যারো ফোরামে ভবিষ্যতে আরও কিছু চুক্তি পত্রের স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।পরবর্তী মাক্স এয়ারো- কসমিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ২ বছর পর।