ভারতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম, যা কয়েক মাস আগে প্রায় একলাই সামাজিক নেতা আন্না হাজারে শুরু করেছিলেন, তা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে. আজ এই বিষয় বিশ্বের সমস্ত সংবাদ মাধ্যমের একটি মুখ্য আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে. "নতুন মহাত্মা গান্ধী", "গণতান্ত্রিক দেশে "আরব্য বসন্তের পুনরাবৃত্তি"" – এই সবই খুব অল্প বিবরণ, কিন্তু অত্যন্ত উজ্জ্বল উদাহরণ, যা আজ বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে এই বিষয়ের সম্বন্ধে শিরোনাম হয়ে দাঁড়িয়েছে.

    সারা দেশে সংক্রামিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্না হাজারে যে সংগ্রাম শুরু করেছেন, তা আজ অনেক দিন ধরেই একক কোন বীরের যুদ্ধ নেই, বরং তার পক্ষে বহু সহস্র লোককে একত্র করতে পেরেছে ও তা আজ সরাসরিই মনমোহন সিংহের নেতৃত্বে ইউ পি এ সরকারের  কেন্দ্রে ভাল করে থাকার বিষয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে.

    কেন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন (তথাকথিত লোকপাল বিল, অথবা মানবাধিকার রক্ষা কর্মীর জন্য আইন) হঠাত্ করেই এই ধরনের মাত্রায় আগুণ জ্বালিয়ে দিয়েছে যে, সরকারের অবস্থানই টলিয়ে দেওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরী করেছে, এখন অবধি যা মনে হয়েছিল যে, খুবই অটল. তাছাড়া এই আইন দুর্নীতির প্রতিকারের জন্য তৈরী হচ্ছে ও সরকার একাধিকবার এই দোষের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে. মনে হতেই পারে যে, আন্না হাজারের পক্ষের থেকে এই আইনের খুব বেশী ধারাই গ্রহণের অযোগ্য নয়.

    এটা সত্য যে, তারা দাবী করেছে কোন একজনও ক্ষমতাসীন ব্যক্তি যেন বিচারের জন্য অনুসন্ধানের আওতার বাইরে না থাকতে পারে, যদি তাদের কোন দুর্নীতির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়. কিন্তু, বলা যাক, যদি বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে কখনও এই ধরনের অভিযোগ আনা হয় নি, তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় বাস্তবে অকলঙ্ক. তবে কেন আন্না হাজারে ও তাঁর পক্ষের লোকেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জ্বলন্ত বিরোধ তাঁর কাছ থেকেই এসেছে, যিনি এই বিষয় কে নাম দিয়েছেন "অসময়ে করা ও খুবই অল্প ভেবে করা".

    আর কেনই বা ক্ষমতাসীন জোটের অন্য নেতারা চুপ করে আছেন?

    ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বর্তমানে একটা মেনে নেওয়ার মত কারণ রয়েছে চুপ করে থাকার. তিনি কিছু দিন আগেই দেহে অস্ত্রোপচার করেছেন ও বর্তমানে তাঁর জন্য আগে স্বাস্থ্যই হওয়া উচিত. কিন্তু তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী কেন চুপ করে আছেন, যাকে অনেকেই মনে করেছেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বলে. তবে কি তিনি ও তাঁর কাছের লোকেরা, যাঁরা অনেকেই ভারতের প্রাক্তন ও বর্তমানের ক্ষমতাসীন লোকেদের সংসারের লোক, তাঁদের কোন কিছুতে ভয় পাওয়ার মতো কিছু রয়েছে. অথবা বিরোধী পক্ষ যারা বর্তমানে আন্না হাজারে ইশ্যুকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে চায়, তাদের নিজেদেরও আলমারিতে যে প্রচুর কঙ্কাল রয়েছে বলে মনে করা হয়ে থাকে.

    ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কিছু লোক এই ঘটনার পিছনে বিদেশী রাষ্ট্রের হাত বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতের কথা ভেবেছেন, কিন্তু আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও জনতা পার্টি দুই দলেরই বর্তমানের সম্পর্ক ভালই. তবে এই অদৃশ্য হাত কাদের? তাদের নয়তো, যারা আগে ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতায় অন্যতম জায়গা নিয়ে একাধিপত্য করতো?

    তবুও ভারতের বর্তমান ঘটনাকে "আরব বসন্তের" সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয়, কারণ ভারত গণতান্ত্রিক দেশ ও যে দলই হোক তাদের যদি আগে কোন গণ বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষমতা হারাতেও হয়, তাহলেও নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা পাবে অন্যরা.

    সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, এই বিষয় নিয়ে "কফির কাপে তুফান" তোলাই সম্ভব, কোন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি নয়. গণতন্ত্র হোক আর স্বৈর তন্ত্রই হোক, একবার ক্ষমতায় পৌঁছলে, কেউই তা হারাতে চায় না, আর এই ক্ষেত্রে এক প্রাক্তন সেনা, তাঁর জীবন প্রান্তে পৌঁছে জনতার উল্লাসের মধ্যে ক্ষমতার লোভে আত্মঘাতী না হয়ে বসেন.