মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকভস্কি শহরে চলা মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি প্রদর্শনী ম্যাক্স – ২০১১ তে এবারে আগের চেয়ে অনেক বেশী সামরিক যুদ্ধ বিমান দেখানো হয়েছে. এটা শুধু বর্তমানের সামরিক বিমান বাহিনীতে কার্যরত যুদ্ধের প্রথম সারির ফাইটার বা বোমা ফেলার বিমানই নয়, বরং সেই সমস্ত বিমানের উদাহরণ, যে গুলি আগামীতে রাশিয়ার সামরিক বিমান বাহিনীতে থাকবে.

    বিশ্বের বাজারে যুদ্ধ বিমান নির্মাণ শিল্পের দেশ হিসাবে রাশিয়া স্বীকৃতী ও উপস্থিতি বেশী করে রয়েছে. সু – ৩০ কিম্বা মিগ – ২৯ ধরনের বিমান আজ বিশ্বের নানা দেশে ও অঞ্চলে খুবই ভাল করে পরিচিত, বিশেষত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে. স্বাভাবিক ভাবেই সমস্ত আধুনিক যুদ্ধ বিমানই প্রথমে রাশিয়ার সেনা বাহিনীতে যুক্ত হয়ে থাকে, আর শুধু কার পরেই রপ্তানীর জন্য এগিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে. রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণের কাঠামোর মধ্যে, নতুন ভাবে সামরিক বিমান বাহিনীর, পদাতিক বাহিনীর চেহারা পাল্টানোর জন্য এই বাহিনী গুলি নতুন ধরনের সমরাস্ত্র ও উড়ানের যন্ত্র পেতে চলেছে, যা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেই তৈরী করা হয়েছে. আগামী দশ বছরের জন্য ঐক্যবদ্ধ বিমান নির্মাণ কর্পোরেশনের অধীনস্থ সমস্ত কারখানার উত্পাদনের শতকরা পঞ্চাশ ভাগের বেশীই ব্যস্ত থাকবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বায়না অনুযায়ী সরবরাহ করার জন্য, এই কথা উল্লেখ করে ম্যাক্স প্রদর্শনীতে এই কর্পোরেশনের সভাপতি মিখাইল পগোসিয়ান বলেছেন

    আমরা এখানে সমস্ত ধরনের বিমানের প্রদর্শনীই করছি, যা আজ তৈরী করা হচ্ছে ও নতুন করে সৃষ্টি করা হচ্ছে আমাদের দেশের কর্পোরেশনের কারখানা গুলিতে, প্রাথমিক ভাবে এটা সেই সমস্ত কাজের বিষয়েই হয়েছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চেয়েছে. এখানে উড়ান ও জমিতে রাখা অবস্থায় বাস্তবে প্রায় সমস্ত সু, মিগ ও ইয়াক ধরনের বিমানের নমুনা রাখা হয়েছে: ইয়াক – ১৩০, সু – ৩৪, সু- ৩৫, সু- ২৭, মিগ- ২৯ কা, মিগ- ২৯ এম. এই সমস্ত যন্ত্রই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তরের জন্য বানানো হয়েছে ও আমাদের বিদেশী সহকর্মী দেশ গুলির জন্যেও তৈরী করা হয়েছে. আশা করছি – এই বছরেই – আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে বছরে কুড়িটিরও বেশী নতুন বিমান সরবরাহ করতে পারবো.

    ম্যাক্স – ২০১১ প্রদর্শনীতে সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন ভবিষ্যতের যুদ্ধ বিমান ব্যবস্থার উদাহরণ পাক ফা কে চাক্ষুষ দেখতে – রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান টি – ৫০, "সুখই" কোম্পানীর সৃষ্টি. প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে এই ভারী শ্রেণীর বিস্ময়কর যন্ত্র পাঁচ মিনিটের প্রদর্শনী উড়ান দেখিয়েছে. সাংবাদিকেরা সবচেয়ে বেশী আগ্রহ দেখিয়েছেন কবে এই যুদ্ধ জাহাজ দেশের সামরিক বাহিনীর হাতে আসবে তা জানতে. এই প্রসঙ্গে সন্দেহ দূর করার জন্য সম্পূর্ণ উত্তর দিয়েছেন রুশ সামরিক বিমান বাহিনীর প্রধান কম্যাণ্ডার আলেকজান্ডার জেলিন, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের কাছে এখন প্রাথমিক হয়েছে টি – ৫০ বিমান. রাশিয়ার জন্য, তার বিশাল এলাকা পার হয়ে যাওয়া, দ্রুত দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা ও কাজ সম্পূর্ণ করার মতো সম্ভাবনার জন্য এই বিমান সবচেয়ে উপযুক্ত. প্রথম পরীক্ষা মূলক বিমান সামরিক বাহিনী পাবে ২০১৩ সালে আর সারি বদ্ধ উত্পাদনের শুরু ২০১৪ – ২০১৫ সালে".

    পাক ফা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা এর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নির্ধারিত যে সময় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যেই হতে চলেছে. ম্যাক্স প্রদর্শনীতে জানা গিয়েছে যে, এই বছরের শেষের মধ্যেই আরও দুটি পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরী হয়ে যাবে, যে গুলি পরীক্ষা মূলক উড়ানের জন্য ব্যবহার করা হবে. আর টি – ৫০ যদি এখন শুধু পরীক্ষা পর্যায়েই মূলক পর্যায়েই থাকে তবে সু- ৩৪ এখনই রাশিয়ার বিমান বাহিনীতে সরবরাহ করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে আলেকজান্ডার জেলিন বলেছেন:

    "আমাদের ১২০টি সু- ৩৪ বিমান কেনা দরকার. অর্থাত্ তাহলে আমাদের পাঁচটির মত স্কোয়াড্রন থাকবে ২৪টি বিমান সহ. এই বিমান খুবই ভাল ফল দিয়েছে, আসলে এটা একটা বিমান ও সৈন্য একসাথে".

    সু- ৩৪ বহুমুখী যুদ্ধ বিমান, মস্কো থেকে ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় দুই বার জ্বালানী ভরে নিয়ে যেতে পারে. নিজের দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার জন্য ও যে সমস্ত কাজ করতে পারে, তা বহু দূরে উড়ে যাওয়া যুদ্ধ বিমানের উপযুক্ত. আর যদি এই বিমান ডানা ওয়ালা রকেট নিয়ে ওড়ে তবে, তা অন্য শ্রেণীর বিমান হয়ে যাবে.

    সামরিক বিমান বাহিনীর প্রধান কম্যাণ্ডার যেমন বলেছেন যে, খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পাইলট বিহীণ বিমান বাহিনী নিয়ে. এই বিমান বাহিনী পদাতিক বাহিনীর মধ্যেই যুক্ত হবে.

    ম্যাক্স – ২০১১ মহাকাশ বিমান প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মধ্যেই "সুখই অসামরিক বিমান নির্মাণ" কোম্পানী ভারতের বিমান লিজিং কোম্পানী "অ্যাভিওটেখ" এর সঙ্গে একটি বোঝাপড়ার চুক্তি করেছে ১০টি ভি আই পি শ্রেণীর উপযুক্ত "সুখই ব্যবসায়িক জেট বিমান" সরবরাহ করার.