রাশিয়া বিমান নির্মাণ শিল্পের একত্রীকরণ সম্পূর্ণ করেছে ও বর্তমানে খতিয়ে দেখছে বিমান মহাকাশ শিল্পকে নিজেদের উন্নতির প্রাথমিক বিষয় হিসাবে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন দশম আন্তর্জাতিক বিমান মহাকাশ প্রদর্শনী ম্যাক্স – ২০১১ দেখতে এসে ঝুকভস্কি শহরে. প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক গুচ্ছ রুশ ও বিদেশী সংস্থার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, আর জনগন প্রথমবার দেখতে পেয়েছেন রাশিয়ার নতুন পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের সম্ভাব্য ক্ষমতা.

    ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, বিমান নির্মাণ শিল্পের উন্নতি ও মহাকাশ গবেষণার বিষয়ে অগ্রগতি – এটা শুধু দেশের মর্যাদাই বৃদ্ধি করে না, বরং তার প্রতিরক্ষার ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে, আর পরিস্থিতি তৈরী করে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের. এছাড়া, এটা অর্থনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ – এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ নিজেকে মেলে ধরতে পারে, যার সম্বন্ধে রাশিয়ার প্রদর্শিত প্রযুক্তি প্রমাণ করে দেয়, যা প্রতিটি বছরের সঙ্গেই আরও প্রসারিত হচ্ছে.

    এই সবই আধুনিক রাশিয়ার সাফল্য, যা আমাদের বিশেষজ্ঞদের শ্রমের ফসল, যারা রাশিয়ার বিমান নির্মাণ ও মহাকাশ প্রযুক্তির সেরা ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন. সরকার এর আগেও করেছে ও ভবিষ্যতেও রাশিয়ার বিমান মহাকাশ শিল্পকে সহায়তা করবে. ২০০৯ – ২০১১ সালে রাশিয়ার বিমান নির্মাণ শিল্পের উন্নয়নের খাতে সরকার ২৭ হাজার কোটি রুবলেরও বেশী বরাদ্দ করেছে. মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বাত্সরিক খরচের হিসাবে আজ রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে সব মিলিয়ে অর্থ ব্যয় করার বিষয়ে. এমনকি রাশিয়া ও বিশ্ব অর্থনীতির সমস্যা থাকলেও আমরা আমাদের একটিও বিমান নির্মাণ বা মহাকাশ প্রকল্প কমতে দিই নি. সমস্ত কিছুই সময় মতো ও সম্পূর্ণ পরিমানে বিনিয়োগ করা হয়েছে. রাশিয়া সৌর মণ্ডলের গবেষণা পুনরারম্ভ করেছে, কক্ষপথে উপগ্রহের দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে ও তার মধ্যে গ্লোনাসস ব্যবস্থাও রয়েছে.

    প্রধানমন্ত্রী খুবই বিশদ করে এই প্রদর্শনীর বিষয় গুলিকে দেখেছেন, আর তারই সঙ্গে আকাশে পাইলটদের প্রদর্শনী উড়ানও লক্ষ্য করেছেন. এখানের প্রধান চাঞ্চল্যকর বিষয় হয়েছে জনগনের জন্য প্রথমবার রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান পাক – ফা এর উড়ান, যা ২০১৬ সালের মধ্যেই রাশিয়ার সমরাস্ত্রের মধ্যে যুক্ত হতে পারে. রাশিয়ার বিমানের নূতনতম উদাহরণ পুতিন বলা যেতে পারে যে, ঠিক করেছিলেন পরখ করে দেখার, যাকে বলে ছুঁয়ে দেখার. তিনি নতুন অসামরিক এম সি - ২১ বিমানের পাইলট কেবিনে ও ভিতরে ঢুকে দেখেছেন, সুখই কর্পোরেশনের প্রদর্শনীর প্যাভিলিয়নে গিয়েছেন ও অন্যান্য বৃহত্তম উত্পাদকদের মণ্ডপও পরিদর্শন করেছেন, রাশিয়ার পাইলটদের ও বিমান নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ও এমনকি শিশু – কিশোরদের সৃষ্টি দেখার প্যাভিলিয়নে যাওয়ারও সময় বার করেছেন, সেখানে অল্পবয়সী আবিষ্কারক বাচ্চারা তাঁকে নিজেদের তৈরী জিনিস দেখিয়েছে.

    পুতিনের উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. অংশতঃ রাষ্ট্রীয় সংস্থা রসটেকনোলজি ও ইরকুত কর্পোরেশন এম সি – ২১ বিমান সরবরাহ চুক্তিতে সই করেছে. আর ভে এ বে – লিজিং কোম্পানী, ইউ টি এয়ার বিমান পরিবহন কোম্পানীর সঙ্গে লিজিং এর মাধ্যমে ২৪টি নতুন সুখই সুপারজেট - ১০০ বিমান সরবরাহ করার চুক্তি করেছে. রাশিয়ার হেলিকপ্টার কোম্পানী নিজেদের তৈরী যন্ত্র গাজপ্রম আভিয়া কোম্পানীকে দেবে, রসটেকনোলজি ও আমেরিকার বোয়িং কর্পোরেশন টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরী যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি সহ বিমানের যন্ত্রাংশ ও বড় যন্ত্র সরবরাহের কোম্পানী খোলার চুক্তি করেছে.

    অসামরিক বিমানের মধ্যে ম্যাক্স – ২০১১ প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম দুটি যাত্রী বাহী বিমানকেই এয়ার বাস – ৩৮০ ও বোয়িং ড্রিম লাইনার – ৭৮৭. এই বিমান তৈরীর জন্য আমেরিকার কোম্পানী ২০২০ সালের মধ্যে চার লক্ষ কোটি ডলার খরচ করবে, তার মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার খরচ হবে রাশিয়া থেকে টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরী যন্ত্রাংশ কেনার জন্য. রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এখানে বহু নতুন জিনিস দেখানো হয়েছে. এই সব যন্ত্রের মধ্যে ম্যাক্স – ২০১১ তে আ এন – ১২৪ "রুসলান" -  বিশ্বের সবচেয়ে বড় মালবাহী বিমান আলাদা হয়ে আছে. উড়ান প্রদর্শনীতে সুখই কর্পোরেশনের অসামরিক বিমান সুপারজেট – ১০০ রয়েছে. এই বিমান আন্তর্জাতিক ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরী হয়েছে. সবচেয়ে বেশী দেখানো হয়েছে রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান. রুশ দেশে তৈরী সামরিক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ বিমান বর্তমানের বিশ্বে খুবই চাহিদা সৃষ্টি করেছে ও আমেরিকা ও ইউরোপের একই ধরনের বিমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে. আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে বহুমুখী ও অতি দ্রুত উড়ানের সময়ে দিক পরিবর্তনে সক্ষম বিমান এস ইউ – ৩৫ যুদ্ধ বিমান রয়েছে, যা পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে. এই বিমানের রপ্তানী করার সম্ভাবনা প্রচুর, যেমন তা রয়েছে মিগ – ২৯ ধরনের বিমানের. বহু দেশই প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের উপযুক্ত ইয়াক – ১৩০ বিমান সম্বন্ধে আগ্রহ দেখিয়েছে. মি – ২৮ এন এ  - এটা একটা যুদ্ধের হেলিকপ্টার, যাতে এর আগের যুদ্ধ ও পরিবহনের উপযুক্ত মি – ২৪ হেলিকপ্টারের বহু যুদ্ধের ও দিনের অভিজ্ঞতা যোগ করে তৈরী করা হয়েছে. কা – ৫২ এ হেলিকপ্টার দিয়ে আমরা খুবই উচ্চ মানের উড়ান ক্ষমতার সঙ্গে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতাও প্রদর্শন করছি.

    রসআবারোনএক্সপোর্ট কর্পোরেশনের মণ্ডপে এক স্বয়ং সক্রিয় প্রদর্শন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে. দর্শকেরা চওড়া পর্দায় দেখতে পাবেন রুশ বিমান প্রযুক্তির ব্যবহারের উদাহরণ: যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধ ও পরিবহনের উপযুক্ত মি – ১৭১ শা হেলিকপ্টার, পরিবহনের হেলিকপ্টার মি – ২৬ টি. সব মিলিয়ে এই স্বয়ং সক্রিয় ব্যবস্থায় ১৫টি নমুনা দেখানো হচ্ছে. যেহেতু এটা তৈরী হয়েছে নতুন প্রশিক্ষণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে, এই গুলির প্রদর্শনীতে ব্যবহার খুবই বিরল পরিস্থিতি তৈরী করতে সাহায্য করে ও তার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিও রয়েছে.

    প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক ভাবে রাষ্ট্র সামরিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ ও উত্পাদনের যন্ত্রকেই আধুনিক করতে চেয়েছে, বৈজ্ঞানিক সংস্থা ও রাশিয়ার কোম্পানীদের এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সুবিধা হবে.

    এখানে ঝুকভস্কি শহরে আমরা আমাদের দেশের বিমান নির্মাণ শিল্পের কেন্দ্র তৈরী করতে চেয়েছি, যেখানে সমস্ত নেতৃস্থানীয় বৈজ্ঞানিক নির্মাণ কেন্দ্র, ইনস্টিটিউট, পরীক্ষা মূলক উত্পাদনের কারখানা থাকবে. এই কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরী হবে দেশের বিমান শিল্পের উদ্ভাবনী কেন্দ্র বিন্দু. আমরা যেমন আশা করেছি – এটা হবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উত্পাদনের এক বিশ্বমানের এলাকা.

0এই প্রদর্শনীর আহ্বায়কেরা আশা করেছেন যে, এখানে ছয় লক্ষেরও বেশী লোক আসবেন. মোট ৮০০ টিরও বেশী কোম্পানী এসেছে ৪২টি দেশ থেকে. গত বছরে এসেছিল ৭৫৩টি কোম্পানী ২৪টি দেশ থেকে. এই বছরে দর্শকদের জন্য খুব ভাল উড়ানের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে. এই প্রদর্শনীর উড়ান অংশে ২০০ টিরও বেশী বিমান ও উড়ান যন্ত্র অংশ নিচ্ছে. দেশের পাঁচটি দল অংশ নিচ্ছে "রুশ ভিতিয়াজ", "স্ত্রিঝি", "রুশ ঈগল", "রুশ" ও "প্রথম উড়ান দল". এছাড়া, লাতভিয়ার "বাল্টিক মৌমাছি" দলও অংশ নেবে, তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পাইলটেরাও উড়বেন. "রুশ ঈগল" দলের প্রদর্শনীতে প্রথমবার "গ্রন্থি" ও "বাঁকা পাকের আক্রমণ" দেখানো হবে, যা সাধারণতঃ আধুনিক যুদ্ধে অত্যন্ত বেশী উচ্চতায় করা হয়ে থাকে, কিন্তু প্রদর্শনীতে দর্শকদের সুবিধার জন্য এই ধরনের কৌশল দেখানো হতে চলেছে অনেক বেশী ভূমির কাছাকাছি. সুতরাং দর্শকদের জন্য এখানে থাকছে ভোলা যায় না এমন প্রদর্শনী. চার বছরের বিরতির পরে এবারের বিমান প্রদর্শনীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান বাহিনী বিশেষ সম্মানিত অতিথি দেশের বাহিনী হিসাবে আবার অংশ নিচ্ছে.