সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের অভিভাবকত্বে ইয়ারোস্লাভল শহরে যে রাজনৈতিক সম্মেলন হতে চলেছে, তা সামাজিক বহুবিধ সমষ্টি পরিস্থিতিতে আধুনিক রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্বন্ধে আলোচনার মঞ্চ হতে চলেছে. বর্তমানের সম্মেলন এখানে উপস্থিতি অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য আধুনিক রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনার এক জায়গা হতে চলেছে.

তৃতীয় ইয়ারোস্লাভল সম্মেলনের কাজ তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে. এর মধ্যে প্রথম  - "বহু প্রজাতি বিশিষ্ট সমাজে গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউট গুলি" – যেখানে আলোচনা হবে বহু প্রজাতি, সভ্যতা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দল গুলির সমস্যা নিয়ে. অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করবেন সেই সমস্ত প্রশ্ন গুলি, যা গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় চরিত্রের ঐক্যের ভূমিকার গুরুত্ব উপলব্ধির জন্য প্রয়োজন, বর্তমানের বেআইনি অভিবাসন, প্রজাতিগত বহু রকম বিরোধ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামীর ক্ষেত্রে কি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ইনস্টিটিউট গুলির ফলপ্রসূ হওয়া সম্ভব. এই বিষয়ে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা আগ্রহের, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রথম বিভাগে অংশগ্রহণকারী রাজনীতিবিদ ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইয়ান শাপিরো বলেছেন:

"এখন রাশিয়ার রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করার সময়. আমি ইয়ারোস্লাভল শহরের আগের দুটি সম্মেলনেই ছিলাম, একেবারে শুরু থেকেই. আর প্রতি বারের সম্মেলন এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা দিয়েছে জানার যে, রাশিয়ার উচ্চ মহল ও রাজনীতিবিদেরা পশ্চিমের সম্বন্ধে কি ভাবেন ও পশ্চিমের প্রতিনিধিরাই বা রাশিয়া সম্বন্ধে কি মনে করেন".

দ্বিতীয় বিভাগের কাজের কেন্দ্রে থাকছে – "ধনী ও দরিদ্র লোকেরা: ন্যায্য ব্যবস্থা কোথায়?" – বাস্তব পরামর্শ তৈরী করা, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা ও বিরোধ এবং সঙ্কটের মোকাবিলা করতে কাজে লাগতে পারে. এই ধরনের বিষয়ের বিবিধ হওয়া প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকেই শুধু আলোচনার সাথী পেতে সাহায্যই করে না, বরং কি রকমের কথোপকথন হবে তারও একটা কাঠামো তৈরী করে, এই কথা মনে করে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গুয়ান গুইহাই বলেছেন:

 "প্রত্যেক বিশেষজ্ঞের জন্যই এই সম্মেলনের অর্থ বিভিন্ন রকমের মনে হয়. যাঁরা নিজেদের দেশে প্রশাসনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, তাঁদের কাছে এই সম্মেলন একটা বাস্তব কারণে প্রয়োজন. আর যাঁরা বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে জড়িত, তাঁদের কাছে সম্মেলন বৈজ্ঞানিক মত বিনিময়ের জন্যই মূল্যবান. আমি নিজে একটা মাঝামাঝি জায়গায় রয়েছি. আমি মনে করি যে, এই সম্মেলন আমাদের জীবনে খুবই বড় প্রভাব ফেলেছে ও তাতে একই সঙ্গে জ্ঞান ও বাস্তবের মৌল রয়েছে".

এখনই যথেষ্ট বিশেষ আগ্রহ উদ্দীপ্ত করেছে বিভাগ, যেটিকে নাম দেওয়া হয়েছে "বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থানীয় বিরোধ". এটা সেই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত যে, আধুনিক পৃথিবীতে খুবই বেশী সম্ভাবনা রয়েছে নতুন আঞ্চলিক বিরোধ তৈরী হওয়ার. সুতরাং, খুবই মনোযোগ দিয়ে সমস্ত প্রক্রিয়াকে দেখা দরকার, যা এই ধরনের উত্তেজনা প্রশমণ করতে পারে. এখানে একটি সবচেয়ে বাস্তব কাজ হল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গুলির উন্নতিতে সমস্ত রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য রাজনীতি তৈরী করা.

সম্মেলন – খুবই ভাল সুযোগ আলোচনা শুরু করার ও বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক প্রশ্ন ও বিপদ নিয়ে আলোচনা করার, যা বিংশ শতাব্দীতে উদ্ভূত হয়েছে. এখনই ইয়ারোস্লাভল শহরের রাজনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রায় ৪০০ ব্যক্তি – এঁরা সকলেই নামী বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, বিশ্বের ব্যবসায়ের উঁচু মহলের প্রতিনিধি. নিজেদের এই সম্মেলনে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা গ্যুল.