মস্কো উপকণ্ঠের শহর ঝুকভস্কি তে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ম্যাক্স – ২০১১ তে এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. এই প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন যে, তার সম্ভাব্য পরিমান অর্থ মূল্যে প্রায় তিনশো কোটি ডলার ছাড়াবে. মনে হচ্ছে এই সংখ্যা পেরোবে.

    সুখই অসামরিক বিমান কোম্পানীর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার স্কাই এভিয়েশন কোম্পানী বারোটি "সুপারজেট – ১০০" কেনার জন্য চুক্তি করেছে. এই চুক্তির মূল্য প্রায় চল্লিশ কোটি ডলারের কাছাকাছি. রাশিয়ার "ভেএসএমপেও আভিসমা" কর্পোরেশন তিনটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ব্রিটেনের রোলস -রয়েস কোম্পানীর সঙ্গে করেছে. এই কোম্পানীকে রাশিয়ার লোকেরা ২৫ কোটি ডলারের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করবে.

    সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকর্ষণ ও প্রতিযোগীদের পেরিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার কোম্পানীরা এই প্রদর্শনীতে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি উপস্থিত করেছে. তাই ম্যাক্স – ২০১১ তে বহু নানা রকমের এই সব জিনিসের উদাহরণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. তার মধ্যে – বহু মুখী হেলিকপ্টার কা – ২৬ টি. এর জন্য বহু নিরাপত্তা ও শক্তি প্রয়োগ সংস্থার কাছ থেকেই প্রচুর বায়না পাওয়া গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে কামোভ কোম্পানীর প্রতিনিধি আলেকজান্ডার কুতকোভিচ বলেছেন:

    "ম্যাক্স প্রদর্শনীতে আমরা এই যন্ত্র একটা অ্যাম্বুলেন্স এর মত করে তৈরী করে দেখাচ্ছি, এটা উড়ন্ত অবস্থায় ত্রাণ কাজের সময়ে আহত বা মৃত প্রায় ব্যক্তিদের পুনর্জীবনের কাজ করার জন্য ব্যবহার করা যায়. এই হেলিকপ্টার ভারতে টেন্ডারে অংশ নিয়েছে ও খুবই সফল হয়েছে তার পরীক্ষা. আমরা এখন সেই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়. এই যন্ত্র বড় শহরের আকাশে উড়তে পারে ও তার এঞ্জিন খুবই শক্তিশালী, এমনকি প্রয়োজনে একটি এঞ্জিন দিয়েই তা উড়তে পারে".

    ম্যাক্স প্রদর্শনীতে খুবই বিস্তারিত ভাবে রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান দেখানো হচ্ছে – যুদ্ধের প্রথম সারির বিমান ও বোমা ফেলার বিমান. তা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই সরবরাহ করা হচ্ছে. বিগত সময়ে বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করছেন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিশেষত ট্যাঙ্ক বিরোধী ব্যবস্থার জন্য বেশী আগ্রহ. এই ক্ষেত্রে খুবই আগ্রহের হয়েছে তুলা শহরের "যন্ত্র নির্মাণ ব্যুরো" সংস্থার প্রদর্শনীতে নিয়ে আসা নতুন ব্যবস্থা. কথা হচ্ছে সর্বাধুনিক ও অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানার মতো রকেট কমপ্লেক্স "করনেট এ এম" সম্বন্ধে. এই ব্যবস্থা মাটিতে, জলে ও আকাশের লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, তাই এর সম্বন্ধে বিশেষ করে উল্লেখ করে সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর ইগর স্তেপানিচেভ বলেছেন:

    "এই "করনেট" ব্যবস্থা অনেকেই জানে, তা প্রায় তিরিশটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে স্বীকৃত. এই ব্যবস্থা তার সামরিক ক্ষমতার কারণে, ভরসা যোগ্যতা ও খুবই সহজ বলে প্রশংসা পেয়েছে. তাই এর নতুন মডেল তৈরীর সময়ে আমরা এর প্রধান ধর্ম বজায় রেখে তা আরও নতুন ক্ষমতার সঙ্গে যোগ করেছি. প্রথমতঃ এখন এটা দ্বিগুণ দূরত্ব – দশ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ফলদায়ক".

    এই ব্যবস্থা এমনকি সেই ধরনের ট্যাঙ্ক ও ধ্বংস করতে পারে, যাদের আবরণ তৈরী হয়েছে আধুনিক ডাইনামিক রেসিস্ট্যান্স সিস্টেম দিয়ে. তাছাড়া জলের উপরে ও আকাশের লক্ষ্যও ধ্বংস করতে সক্ষম. তার মধ্যে পাইলট বিহীণ বিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধ বিমান ও রয়েছে.

    এই বিমান প্রদর্শনীতে এসে "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর আনাতোলি ইসাইকিন জানিয়েছেন যে, বর্তমানে এই কোম্পানীর বায়না করা জিনিসের দাম তিন হাজার ছয় শো কোটি ডলারেরও বেশী. সবচেয়ে বেশী রপ্তানী করতে হবে বিমান সংক্রান্ত যন্ত্র. আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রপ্তানীর বিষয়ে ২০১১ সালের প্রথম অর্ধে অর্থ মূল্য ছিল প্রায় শতকরা ২০ শতাংশ.