লন্ডন শহরের সমস্ত বিচারকেরা বিশৃঙ্খলার সময়ে যোগ দেওয়া লোকেদের সম্বন্ধে অভিযোগ বিচার করে দেখে, তাদের বাড়ী ঘর দেখার জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট দেওয়ার সময় করে উঠতে পারছেন না. পুলিশ প্রায় তিন হাজারেরও বেশী ভাঙচুর করা লোকের পরিচয় বার করতে পেরেছে, আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের ঘোষণা অনুযায়ী তাদের সবাই শাস্তি পাবে.

গ্রেট ব্রিটেনের পুলিশ ঘোষণা করেছে যে, সামাজিক ও প্রজাতিগত ভাবে দেশের বড় শহর গুলিতে যারা ভাঙচুর লুঠপাট চালিয়েছে, তারা সবাই এক রকমের নয়. তথাকথিত ঘেটো তে বসবাস কারী লোকেদের মতই মধ্যবিত্ত লোকেরাও এই সব লুঠপাটে অংশ নিয়েছে. যারা বাটপাড়ী করেছে, তাদের মধ্যে ছিল লক্ষ পতির মেয়ে, অভিজাত স্কুল ছাত্রী. তাই ব্রিটেন ও বিশ্ব সমাজের এই ঘটনার সব দায় শুধু অভিবাসিত লোকেদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না, এই কথা মনে করে ধর্ম ও রাজনীতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আলেকজান্ডার ইগনাতেঙ্কো বলেছেন:

"এই সব ঘটনার বিশ্লেষণ করে এক নতুন বিভাজনে তা রাখতে হবে: সমাকলিত ও অসমাকলিত লোক. বর্তমানে ব্রিটেনের সমাজ, আর একই সাথে সারা ইউরোপের সমাজই সেই সব ভাগে বিভক্ত, যেখানে একদল লোক রয়েছে, যারা অভিবাসিত হলেও নতুন জায়গার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নিয়ম, ব্যবহারের ধারা মেনে চলে আর এই সমস্ত সমাজে সমাকলনের মাধ্যমে তার উত্কর্ষই বৃদ্ধি করে, আর অন্য দিকে রয়েছে যথেষ্ট বড় এক দল লোক, যারা এই সমাজে কোন না কোন কারণে মিশতে পারে না. এই ধরনের লোকেরা সংখ্যায় অনেক. এটা প্রাথমিক ভাবে তারাই, যারা অল্প কিছু দিন আগে গ্রেট ব্রিটেনে এসেছে, কিন্তু দেখা গিয়েছে যে, ব্রিটেনের লোকেদের মধ্যেও এই ধরনের লোক রয়েছে".

লন্ডনের ভাঙচুর ছিল একেবারেই গোলমেলে. ব্রিটেনের রাজধানীতে গোলমাল, আর তার পরে অন্যান্য বড় শহরেও যা হয়েছে, তা কোন ভাবেই কোন বিপ্লব, রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রতিবাদ মিছিলের সাথে মেলে না. এটা ছিল একটা সম্মিলিত গুণ্ডামি, এই কথা উল্লেখ করে মানসিক বিদ্যায় ডক্টরেট আলেকজান্ডার লেবেদেভ – লিউবিমভ বলেছেন:

"কোন দাবী নেই, কেউই কিছু বাড়িয়ে ধরছে না, কেউ কিছু বলছেও না. অর্থাত্ কোন কিছু দাবীই নেই. আমি মনে করি না যে, এর পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে খুবই গভীর কোন নিয়ামক ব্যবস্থা বা কারণ. বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার একটা মানসিক বৈশিষ্ট্য ও গতি প্রকৃতি থাকে. শুরু হওয়া উত্তেজনা কোন দাবী দিয়ে শেষ হয়, যা মানা হয় অথবা মেনে নেওয়া হয় না, অথবা সাধারন ভাবে মারামারি দিয়ে শেষ হয়ে থাকে. এই ক্ষেত্রে গুণ্ডা প্রকৃতির লোকেরাই বেশী থাকে".

একই সময়ে ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরা লন্ডনের বিশৃঙ্খলাকে বিগত গ্রেট ব্রিটেনের সরকারের অর্থনৈতিক রাজনীতির ব্যর্থতা ও বর্তমানের প্রশাসনের সংরক্ষণশীল দলের লোকেদের উপর থেকে জোর করে চাপানো নানা ধরনের বিধি বিধানের ফল বলেই মনে করেছেন, এই কথা রিয়া নোভস্তি সংস্থার লন্ডনের বিশেষ সংবাদদাতা আলেকজান্ডার স্মরতভ উল্লেখ করে বলেছেন:

"বিশৃঙ্খলার দিন গুলিতে পরিসংখ্যান নেওয়া হয়েছে, যার থেকে দেখা গিয়েছে যে, বর্তমানের গ্রেট ব্রিটেনের প্রতি ষষ্ঠ শিশু বড় হয়েছে এমন সব পরিবারে, যেখানে কেউ কোনদিনও কাজ করে নি, আর এদের সংখ্যা কুড়ি লক্ষ. এটা অলস লোকেদের সংস্কৃতি – এটা ব্রিটেনের সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টির এক বিশাল কুণ্ড, যার পক্ষে বলা যেতে পারে ছিল ও এমনকি উত্সাহ জুগিয়েছে লেবার পার্টি, যারা শুধু সামাজিক সহায়তা ও পরিমান দিয়ে প্রকল্প গুলিকে বড় আকার দিয়েছে, যেখানে প্রায়ই কিছুই পরিবর্তে চাওয়া হয় নি. আর যেই সরকারে এসেছে দক্ষিণ পন্থী সরকার, তারা তখনই এই সব বিষয়ে চাপ দেওয়া শুরু করেছে. যদি বিশৃঙ্খলার সময় গুলি মনে করা হয়, তবে দেখা যাবে যে, এই গুলি হয়েছিল সংরক্ষণশীল দক্ষিণ পন্থী দলের প্রশাসনের সময়েই, কারণ তারা চেয়েছিল সামাজিক ভাতা ও ছাড় ব্যবস্থাকে সংকুচিত করতে".

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সমস্যা গুলিকেও ভুললে চলবে না, যা হতে পারে যে, লন্ডনের গোলমালের সময়ে কারণ হয় নি ঠিকই, তবে শুরু হওয়ার পরেই দেখা দিয়েছে. গ্রেট ব্রিটেনের ঘটনা আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে বহু সংস্কৃতির রাজনীতির সঙ্কট ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইবার বিপদের বিষয়ে অক্ষমতা – কারণ এর অংশীদারেরা একে অপরের সঙ্গে অনায়াসে সামাজিক ইন্টারনেট সাইট ব্যবহার করে যোগাযোগ করেছে. এই সমস্যা সারা ইউরোপের জন্যই বাস্তব, যা বহু দিন ধরেই বলছে গণতন্ত্রের এক নতুন ধরনের কথা – পেশী শক্তি সম্পন্ন গণতন্ত্র – কিন্তু কিছুতেই এই ধারণাকে জীবনে রোপন করতে পারছে না. পাঠক, এখানে রুশ জনতার স্ট্যালিন প্রীতির কথা কি মনে পড়ছে না?