মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা তাদের অনুমানে কিছু ভুল করে নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেমন ভয় পাওয়া হয়েছিল যে, তেমন করেই পাকিস্তান তাদের দেশে ওসামা বেন লাদেনকে ধ্বংস করার অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্থ মার্কিন হেলিকপ্টারটিকে চিনের জন্য খুলে দিয়েছে দেখতে. ওয়াশিংটনের একাধিকবার এটা করতে বারণ করায় কান দেয় নি ইসলামাবাদ. এই ভাবেই বিশ্বের "এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী" পরপার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার একটি ল্যাং মেরেছে, এমনিতেই যথেষ্ট টানটান পাক – মার্কিন সম্পর্ককে আরও জটিল করে.

    ইসলামাবাদ বেইজিং কে আমেরিকার গোপন তথ্য দিয়েছে ঠিক তার পরেই, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র অঞ্চলের সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের উপরে "রকেট হানা" দিয়েছে. এই ভাবেই পাকিস্তানের উকিলেরা গে ও লেসবিয়ান দের জন্য পাকিস্তানের মার্কিন রাজদূতাবাসে রাজদূত ক্যামেরন মান্তের আয়োজিত এক পার্টির নাম দিয়েছে. এই "যৌন সংখ্যালঘু দের প্রতিনিধিদের উত্সব", যা কূটনৈতিক মিশনের গর্বের বিষয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে, সব দিক থেকে বিচার করলে পাকিস্তানের ধৈর্য্যের পেয়ালায় একেবারে শেষ ফোঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে. এটা দুই দেশের সম্পর্ককে খুবই খারাপ করেছে, যা মে মাসে "আল- কায়দা" দলের নেতাকে এই দেশে ধ্বংস করার আমেরিকার অপারেশনের ফলে জটিল হয়েছিল.

    ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনের তথ্য অনুযায়ী চিনের বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার কর্মীদের সহমত পেয়ে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, কালো ঈগল নামের হেলিকপ্টারের নতুন গঠনের ধ্বংসাবশেষ থেকে লেজের অংশের ফোটো তুলতে পেরেছে, যা তৈরী হয়েছে এক গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার ফলে রাডারের বিকীরণ প্রতিফলিত হয়ে থাকে. আমেরিকার গোপনীয় প্রযুক্তি যে পাকিস্তান তার সবচেয়ে কাছের সহকর্মী দেশের লোককে দেখতে দিয়েছে, তা সামাজিক রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ এর জন্য আচমকা কোন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় নি, তাই তিনি বলেছেন:

    "পাকিস্তানের এই ধরনের পদক্ষেপ একেবারেই অনুমেয় ছিল. তা সম্পূর্ণ ভাবেই বর্তমানের চিন পাকিস্তানের জোটের প্রতিফলন করে. আর ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাকিস্তানের জন্য একেবারেই অতি প্রয়োজনীয় হয়েছে চিনের সঙ্গে ঘোঁট পাকানো, তা না হলে তাদের ভয় হয় পাছে আর দেশই না থাকে".

    মে মাসের শুরুতে পাকিস্তানে বেন লাদেনকে মারা থেকে শুরু করে পাশের ভারত বর্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক কি হচ্ছে, তা ভাল করেই দেখা হচ্ছে. প্রথমে ইসলামাবাদ এখানের সি আই এ সংস্থার প্রধানের নাম ফাঁস করে দিয়েছে, তার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত খবর দাতাদের ধরে ছিল, যারা এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী সম্বন্ধে খবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল. তার পরে পাকিস্তান একেবারে অভূতপূর্ব এক পদক্ষেপ নিয়েছিল, "শামসি" বিমান বন্দর, যেখান থেকে মার্কিন সেনারা গত ১০ বছর ধরে সমস্ত পাইলট বিহীণ বিমান বোমা পাঠাতো, তা ব্যবহার করতে দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিল. এই ধরনের কাজকর্ম দেখে নয়া দিল্লী বুঝতে পেরেছিল যে, এলাকাতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর ইচ্ছা হয়েছে. ইসলামাবাদের শেষ পদক্ষেপ, বেইজিং কে "স্টেলথ" প্রযুক্তি দেখবার সুযোগ করে দেওয়া, বোধহয়, নিজেদের দিক থেকে এমনকি সদ্য ভাল হতে যাওয়া ভারত – পাকিস্তান সহ্য সম্পর্ককেও আবার খারাপ করে দিতে পারে. এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ বাদ দেন নি যে, বেইজিং তাইওয়ান দেশের সঙ্গে নিজেদের সমস্যা সমাধান করার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, তাই তিনি বলেছেন:

    "দেখা যাচ্ছে যে, এই সবই চিনকে নিজেদের সামরিক প্রযুক্তিকে অদৃশ্য করার উপযুক্ত পদার্থ সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে. এটা চিনের খুবই দরকার, কারণ তাইওয়ানের সমস্যা এখনও সমাধান করা সম্ভব হয় নি. চিনের এমন সামরিক প্রযুক্তি চাই, যা তাইওয়ানের রাডার দিয়ে ধরা যাবে না. সুতরাং আমি সন্দেহ করছি না যে, "স্টেলথ" প্রযুক্তি বিষয়ে এমনকি এই ধরনের দেখার সুযোগ পেয়ে চিন তা ব্যবহার করতে চাইবে. বিশেষ করে তাদের যে বিশাল ক্ষমতা হয়েছে বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তি ও সেগুলি ব্যবহারের স্তর দেখে তা বোঝা সম্ভব".

    বোঝাই যাচ্ছে যে, চিনের গুপ্তচর দের জন্য আমেরিকার হেলিকপ্টারের ভাঙা অংশ পরীক্ষা করে দেখা খুবই জরুরী. কিন্তু – কিছু বিশেষজ্ঞ যেমন মনে করেছেন যে, এখানে মূখ্য হল – তা তৈরী করার মতো প্রযুক্তি থাকা. আর সেই গুলি পেতে হলে খুবই শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি নিয়ে গুপ্তচর থাকতে হবে. এটা ভাঙা টুকরো দেখার চেয়েও বেশী সম্ভাবনাময় বিষয়. এটা সত্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেক বছরেই এই ধরনের গুপ্তচর বৃত্তি নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল হচ্ছে, বিশেষত চিনকে নিয়ে. বেইজিং ভবিষ্যতেও যে কোন ধরনের সম্ভাবনাই চেষ্টা করে দেখবে, যাতে তাদের সামরিক সম্ভারকে আধুনিক করা সম্ভব হয় – এই বিষয়ে সমস্ত সামরিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞই একমত.