এই বছরের শেষে ২৫ – ৩০ টি কোম্পানী "স্কোলকোভা" উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কেন্দ্রের পারমানবিক ক্লাস্টারের অংশীদার হওয়ার মর্যাদা পেতে চলেছে. এদের মধ্যে একাংশ, যাদের প্রকল্প সবচেয়ে বেশী আগ্রহজনক হতে পারবে, তারা তহবিলের কাছ থেকে গ্র্যান্ট পেতে পারে. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে পারমানবিক ক্লাস্টারের ডিরেক্টর দেনিস কভালিয়েভিচ বিশদ করে বলেছেন.

পারমানবিক প্রযুক্তি ক্লাস্টারের উন্নয়ন করা হচ্ছে পাঁচটি ভাগে, সেখানে পারমানবিক বিজ্ঞান, তেজস্ক্রিয় বিকীরণ প্রযুক্তি, নতুন পদার্থের সৃষ্টি, অতি নিঃখূত ও বিশেষ যন্ত্র নির্মাণ, আর তারই সঙ্গে পারমানবিক পদার্থের আবর্তনের নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, অংশতঃ, জটিল প্রযুক্তি বিষয় ও ব্যবস্থার মডেল তৈরী করা. স্কোলকোভা কেন্দ্রের অন্যান্য ক্লাস্টারের মতই পারমানবিক বিভাগও সমান ভাবে বৈজ্ঞানিক ও ব্যবসায়িক প্রকল্প কার্যকর করতে চায়. স্কোলকোভা কেন্দ্রের পারমানবিক ক্লাস্টারের কাজ যেমন পারমানবিক শক্তির উন্নয়নের জন্য করা হচ্ছে, তেমনই পারমানবিক প্রযুক্তিকে অন্যান্য শিল্পে ব্যবহারের জন্যও করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে দেনিস কভালিয়েভিচ বলেছেন:

"স্কোলকোভা কেন্দ্রে যেহেতু আমরা বলেছি যে, খুব কম সংখ্যক লোকের দল অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যে যে সমস্ত কাজ সমাধান করতে পারে ও যথেষ্ট কম খরচ করে, তাই আমাদের কাছে আগ্রহের হল শুধু সেই সমস্ত প্রযুক্তিই, যা বাজারের বিভিন্ন সেক্টরে ব্যবহার করা যেতে পারে ও পারমানবিক প্রযুক্তির বিষয়ে বিভিন্ন বড় কোম্পানীর যেই বিষয় গুলিতে একচেটিয়া দখল নেই".

বিশেষ করে মনোযোগ বিগত সময়ে দেওয়া হয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে সেই সমস্ত প্রযুক্তির প্রতি, যে গুলি পারমানবিক জ্বালানী ও চুল্লির শেষ পর্যায়ে কাজে লাগে. জাপানে ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ট্র্যাজেডির পরে সারা বিশ্বেই নতুন গুণগত ভাবে উত্কৃষ্ট পদ্ধতি, যা পারমানবিক জ্বালানীর বর্জ্য পদার্থ ও যন্ত্রপাতি সঠিক ভাবে তেজস্ক্রিয়তার বিপদ থেকে রক্ষা করে ব্যবহার করা যায়, তার প্রয়োজন পড়েছে.

এছাড়া খুবই সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে তেজস্ক্রিয় বিকীরণ প্রযুক্তি, এই সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করে দেনিস কভালিয়েভিচ বলেছেন:

"তেজস্ক্রিয় বিকীরণ প্রযুক্তি – এটা প্রযুক্তি বিকীরণ নিয়ে কাজ করার জন্য প্রযুক্তি. এই বিভাগের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হল – পারমানবিক ঔষধি নির্মাণ, এই সব ওষুধের জন্য আইসোটোপ তৈরী করা, ক্যানসার ও হৃদরোগের নির্ণয় করার জন্য প্রযুক্তি. এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা রক্ষার কাজেও লাগে, বিস্ফোরক নির্ণয়, অস্ত্র নির্মাণ. পরিবেশ সংরক্ষণের কাজেও লাগে – গ্যাস শুদ্ধি করণ, বর্জ্য পদার্থ শুদ্ধিকরণ – তার মধ্যে চিকিত্সার সময়ের বর্জ্য পদার্থও রয়েছে. বর্তমানের বিশ্বে তেজস্ক্রিয় বিকীরণ প্রযুক্তির বাজার বছরে ২০ থেকে ২৫ শো কোটি ডলারের সমান, এটা যথেষ্ট বড় পরিমান, যাতে তার ভিতরেই প্রযুক্তির উন্নয়ন চলতে পারে ও নতুন প্রকল্প উন্নতি করে. রাশিয়াতে এর জন্য ইতিমধ্যেই কাজ হয়েছে – স্কোলকোভা কেন্দ্রেই বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে".

অন্যান্য আগ্রহোদ্দীপক ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প গুলির মধ্যে – নতুন ধরনের আগে থেকে জানা গুণ মান সম্পন্ন যৌগের বা পদার্থের সৃষ্টি. বেশীর ভাগ এই ধরনের জিনিসই একই সঙ্গে বহু শিল্পের আওতায় পড়ে. মহাকাশ, পারমানবিক, চিকিত্সা, যোগাযোগ সমস্ত বিজ্ঞানেই এই গুলি কাজে লাগে. এই ক্লাস্টারের সঙ্গে বর্তমানে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে এই বিজ্ঞান নিয়ে যথেষ্ট উন্নতি করা দেশ গুলি – যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ. ইউরোপের জার্মানীর সিমেন্স কোম্পানী নভসিবিরস্ক শহরের রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অন্তর্গত পারমানবিক পদার্থ বিদ্যা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে এক ধরনের বিশেষ শক্ত অবস্থার ডায়োড তৈরীর প্রকল্পের জন্য সহযোগিতা করছে, এরাও বর্তমানে স্কোলকোভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে. আশা করা হচ্ছে বছর শেষ হওয়ার আগেই একই ধরনের নানা প্রকল্প শুরু হবে ফরাসী, জাপানী ও কোরিয়ার কোম্পানী গুলির সঙ্গে.