মার্ক ডুগ্যান সেই সোয়ান লেক ব্যালের "কালো রাজহংসই" হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাকে ভয় করতে বলেছে সমস্ত অর্থনীতিবিদরাই. কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর ইতিহাস শুধু ব্রিটেনের রাজনীতি বিদদেরই শক্ত হওয়ার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায় নি, শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সমগ্র ব্যবস্থার জন্যেই পরীক্ষা হয়েছে. গ্রেট ব্রিটেনের ঘটনা সমস্ত ইউরোপের সামনেই প্রশ্ন তুলেছে: আমাদের ছেলে মেয়েরা কোথায় থাকবে – যদি কাল আবার ভাঙচুর শুরু হয়?

    ব্রিটেন নিয়ে উত্তেজনা সরব হয়েছে, আর অনেকেই বুঝতে পেরেছেন যে, সেখানের সামাজিক প্রতিবাদের খুবই নির্দিষ্ট একটা ভিত্তি রয়েছে. অবশ্যই ভাতা কমিয়ে দেওয়া একটা ভূমিকা নিয়েছে ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা কারণ হয়েছে, কিন্তু মূখ্য ভূমিকা নিয়েছে তথাকথিত ঘেটো বাসিন্দাদের বর্তমানের বিশ্বে নিজেদের জায়গা নিতে না চাওয়া. অথবা, যদি সঠিক ভাবে বলতে হয়, এই জায়গা না নেওয়ার জন্য একটা চিন্তা করে বেছে নেওয়া পথ, এই ধারণা নিয়ে রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ম্যাক্সিম কিসিলিয়েভ বলেছেন:

    "তারা নিজেদের খুঁজে পেতে চায় নি. তারা সমাজ বিতাড়িত ও সীমান্তবর্তী হয়েছে নিজেদেরই ইচ্ছায়. সেই রকমের একটা পরিস্থিতি চিন্তা করে দেখুন একটা দেশ, এই ক্ষেত্রে গ্রেট ব্রিটেন, তাদের রক্ষা করে, তাদের তলায় "বিছানা" করে দেয়. যদি আপনি বৃহত্তর লন্ডনের সামাজিক প্রকল্প গুলি দেখেন, তবে আপনি চমকে যাবেন. আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না, সেখানে কত রকমের সামাজিক প্রকল্প ও কিচ্ছু না করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে. কোন লোককেই সেখানে অনাহারে রাস্তায় পড়ে মরে যেতে দেওয়া হয় না".

    কিন্তু নিয়মিত জীবনে প্রয়োজন পড়ে ঝড়ের. আর এর জন্য স্ফুলিঙ্গ হয়েছে মার্ক ডুগ্যানের মৃত্যু. প্রতিক্রিয়া হয়েছে খুবই নৃশংস ও কড়া. ফলে সমস্ত লোকের মধ্যেই থাকা নিষ্ঠুরতা, তাদের আর্থিক অবস্থানের উপর নির্ভর না করেই ছড়িয়ে পড়েছে বাইরে, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" বিশ্ব সমাজ গবেষণা সংস্থার প্রধান মিশেল ভিয়েভোরকা বলেছেন:

    "যখন কোন সামাজিক আন্দোলন বা সামাজিক পরিস্থিতি ব্যক্তির সামনে একটা প্রশ্ন নিয়ে আসে, তখন তার আচরণ প্রায়ই হয়ে পড়ে নিষ্ঠুর ও বিশ্রী. মানুষ একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়. আর এটা শুধু গরীব মানুষদের মধ্যেই নেই. শুধু গরীবরাই চুরি করতে পারে এমন নয়, শুধু তারাই পিছল পথে গিয়ে দাঁড়াতে পারে তাও নয়, সুখে থাকা লোকেরাও নিজেদের বলতে পারে: "ও এটা করা যায়. তার মনে আমিও এটার সুযোগ নেবো". আরও যাদের জন্য অর্থনৈতিক সমস্যা নেই, তাদের জন্যও এই ধরনের ব্যাপার একটা খেলার মতো মজার".

    ফলে এই খেলায় যোগ দিয়েছে এমনকি ভাল পরিবারের ছেলে মেয়েরাও. ১৮ বছরের মেয়ে চেলসি আইভস – ২০১২ সালের অলিম্পিকের দূত, যে হাতে পাথর নিয়ে পুলিশের গাড়ী আক্রমণ করে বলেছে, এটা নাকি তার জীবনের সবচেয়ে খুশীর দিন. তার থেকে খুব একটা ভাল দেখা যায় নি ১৯ বছরের লোরা জনসনকে – এক লক্ষ পতির কন্যা ও এক নাম করা বেসরকারী স্কুলের ছাত্রী, যে দুটো টেলিভিশন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন আর কয়েকটা   সেল ফোন হাতিয়ে নিয়ে পালাচ্ছিল. তার থেকে কিছুটা বিনীত দেখিয়েছে এক আপাততঃ নাম না জানা ব্যালে নাচ করা মেয়েকে: পাতলা চেহারার কারণে সে শুধু মাত্র দুটো চওড়া পর্দার টেলিভিশন নিয়ে পালাচ্ছিল.

    বোঝাই যাচ্ছে যে, এখানে নিজের ভূমিকা নিয়েছে এক পালের ভেড়ার মতো অনুভূতি, কিন্তু শুধু সেটাই নয়, এই কথা উল্লেখ করে ম্যাক্সিম কিসিলিয়েভ বলেছেন:

    "প্রাথমিক ভাবে, মানসিক ভাবে সংক্রমণের কাজ চলে. যখন পাশেই একটা হিংসা উদয় হয়, তখন তা সংক্রামিত করে. ভিড়ের প্রভাব বয়স্ক মানুষের মনেও একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক বোধ জাগিয়ে দেয়, সে বাচ্চাদের মতই না বুঝে কাজ করতে শুরু করে দেয়. অন্য দিকে, আরও একটা দিক রয়েছে, যাকে "সাথীদের চাপ" বলেও বলা যেতে পারে. সেই সমস্ত দলের থেকে চাপ, যারা যেন বলে: যদি তুমি আমাদের লোক, তবে আমাদের সঙ্গেই যাবে. এটার বিরুদ্ধে যাওয়া খুব কঠিন. মানুষের তখন দরকার হয় খুব মানসিক শক্তির, যাতে সে বলতে পারে: আমি এটা তোমাদের মতো করে করবো না, কারণ এটা ঠিক নয়".

    এই লোক সিদ্ধ নিয়মের বাইরে পা ফেলা হল অনেকটা মাদকাচ্ছন্ন হওয়ার মতো, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে মন বিদ্যা বিশারদ স্ভেতলানা উসপেনস্কায়া বলেছেন:

    "বাস্তবে, মানুষ একটা আচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে. এটাকে মাদক ওষুধ খাওয়ার পরের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যায়. সে থামতে পারে না. সে নিয়ম ও বিশৃঙ্খলতার সীমানা বরাবর চলছে, এমন একটা বোধ, তাকে শক্তি যোগায় আর সে নিজের ভিতরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে".

    ফলে এমন কি খুবই বিনীত সঙ্গীত শিল্পীও অন্যদের মতই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বেহালা চুরি করে বসে. পরে, যখন চেতনা ফেরে, সেই যুবক স্বীকার করে যে, "সব সময়েই সে বেহালা শিখতে চেয়েছিল". আর কেউই নিজের জ্ঞানের বোঝা বাড়াতে চায় নি: বইয়ের দোকান গুলি অক্ষতই থেকে গিয়েছিল. এই হল সেই জায়গা যেখানে অজ্ঞানতাই – শক্তি.