লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের যোদ্ধারা ত্রিপোলি শহরকে বাহির বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে, এজ- জাভিয়া শহর দখল করে. মুহম্মর গাদ্দাফি নিজের পক্ষের লোকেদের যুদ্ধের জন্য তৈরী হতে বলেছেন. কামানের গোলা বর্ষণের প্রবল ধ্বণির মাঝখানে শোনা গিয়েছে যে, টিউনিশিয়ার ঝের্বা দ্বীপে মুহম্মর গাদ্দাফির প্রতিনিধিরা বিরোধী পক্ষের সঙ্গে গুপ্ত আলোচনা শুরু করেছে.

    এই হল লিবিয়া থেকে পাওয়া শেষ সংবাদ, প্রসঙ্গতঃ, যা এখনও প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে. অংশতঃ, যদি বিরোধী পক্ষ সোমবারে ঘোষণা করে থাকে যে, তারা ইতিমধ্যেই এজ- জাভিয়া ও গারিয়ান শহরের দখল নিয়েছে, তবে বিবিসি উল্লেখ করেছে যে, যুদ্ধ সেখানে এখনও চলছে. আর এর অর্থ হল, বিরোধী পক্ষ আগে থেকেই জয়োল্লাস শুরু করেছে যে, তাদের পক্ষে ত্রিপোলির চারপাশে বেষ্টনী তৈরী করা সম্ভব হয়েছে. তার উপরে লিবিয়ার প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘোষণা করেছে যে, এই কেন্দ্র গুলির উপরে তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে.

    মুহম্মর গাদ্দাফি নিজে ত্রিপোলি শহরের চারপাশে হামলা শুরু করার পর থেকে প্রথম বেতার তরঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন রেডিও ভাষণে. তিনি শুধু দ্রুত ছুঁচো দের শেষ ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হন নি, উপনিবেশ বাদীদের অবসানের ঘোষণাও করেছেন, এখানে তিনি বিরোধী পক্ষ ও ন্যাটো জোটের উল্লেখ করেছেন.

    এই ভাষণ দেশের সরকারি টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে. বলা হয়েছে যে, এটা টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে এক সরাসরি সম্প্রচার, তাই গাদ্দাফি টেলিভিশনের পর্দায় দেখা দেন নি. এই ভাষণের সময়ে শুধু গাদ্দাফির ফোটো ও শহরের কেন্দ্রের সবুজ চকে জমা হওয়া বর্তমানের প্রশাসনের সমর্থক কয়েক শো লোককে দেখানো হয়েছে. তার উপরে এই ভাষণের অনেকটাই শোনা যায় নি. কিছু উত্স প্রমাণ করছে যে, এটা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য. অন্যরা বলেছে যে, এই ভাষণ টেপ করা হয়েছে মাটির নীচে কোন জায়গায়, যেখানে গাদ্দাফি লুকিয়ে রয়েছেন. ব্যাপারটা হল যে, এই রবিবারে সারা দিনই ন্যাটো জোটের বিমানবাহিনী ত্রিপোলি থেকে লিবিয়া – টিউনিশিয়া সীমান্ত পর্যন্ত অঞ্চলে কার্পেট বম্বিং করেছে. অর্থাত্ বিরোধী পক্ষের রাজধানীর দিকে অগ্রগতির জন্য রাস্তা তৈরী করতে চেয়েছে.

    এর মধ্যেই গত কয়েক মাস ধরে উল্টো দিকে চলেছে বহু সহস্র লিবিয়ার মানুষের স্রোত, যাদের মধ্যে বেশীর ভাগই মহিলা ও শিশু. তাঁরা আশা করেছেন যে, এই গৃহযুদ্ধের থেকে হয়ত পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে টিউনিশিয়াতে. এই কারণে ত্রিপোলির সরকারি প্রতিনিধি মুসা ইব্রাহিম ন্যাটো জোটের লোকেদের টিউনিশিয়ার সঙ্গে সীমান্তে রাস – ঝাদির চেক পোস্টে বোমা বর্ষণ করতে নিষেধ করে সাবধান করে দিয়েছেন. গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই চেক পোস্ট অন্যতম আইন সঙ্গত করিডর হয়ে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে, যা দিয়ে লিবিয়ার লোকেরা টিউনিশিয়াতে যেতে পারে.

    সেখানে ন্যাটো জোটের বোমা বর্ষণের পরে পরিস্থিতি কি রকমের তা জানা নেই. যেমন নেই ঝের্বা দ্বীপের হোটেলে রবিবার রাতে সত্যই কি ত্রিপোলি ও বেনগাজি শহরের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন রকমের আলোচনা শুরু হয়েছে কি না. কোন পক্ষ থেকেই এখনও আলোচনা সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করা হয় নি. এই সম্বন্ধে জানিয়েছে শুধু পশ্চিমের সংবাদ সংস্থা. আর সম্ভবতঃ এটা হতে পারে এটা খেলারই অংশ মাত্র. কারণ লিবিয়ার পরিস্থিতি একে বারেই বোধগম্য নয়. গাদ্দাফি বা তার বিরোধীরা কেউই জয়ী হতে পারছে না. একমাত্র রাশিয়া থেকে আরবী ভাষায় সমস্ত রাত্রি দিন প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল রুসিয়া আল-ইয়াউম এর সম্পাদক আন্দ্রেই ওলিতস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

    "লিবিয়াতে পরিস্থিতি বোধগম্য নয়, তা এখনও অনেক দিনই থাকবে. সেখানে পরিস্থিতি সত্যই দাবা খেলার পাত এর মতো. কবে এটার সমাধান হবে, এখন কোন বিশ্লেষকই তা আগে থেকে বলতে পারছে না".

    লন্ডনে, প্যারিসে, ওয়াশিংটনে আরও বেশী করে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, লিবিয়ার অপারেশন খুবই দামী হয়ে গিয়েছে. তাই একেবারেই বাদ দেওয়া যায় না যে, ত্রিপোলি ও বেনগাজির যোগাযোগ নিয়ে খবর – এটা পশ্চিমের তরফ থেকে দুই পক্ষের উপরেই মানসিক চাপ তৈরী করা. অন্য দিক থেকে গাদ্দাফির ছেলের উল্লেখ করে এক খবর পৌঁছেছে, যে সে নাকি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে. তা আবার সে পক্ষের মধ্য পন্থী অংশের সঙ্গে নয়, ঐস্লামিকদের সঙ্গে. আর যদি ঝের্বা দ্বীপে আলোচনাতে গাদ্দাফির প্রতিনিধিদের উল্টো দিকে ঐস্লামিক চরমপন্থীরা বসে থাকে, তবে এবারে লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের মধ্যেই ফাটল বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে.