আগামী ১৬ আগষ্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উপকন্ঠে আন্তর্জাতিক এয়ারো-কসমিক প্রদর্শনী “মাক্স-২০১১” শুরু হতে যাচ্ছে।তরুন প্রকৌশলী ও দর্শকদের জন্য এবার থাকছে আকর্ষনীয় বিভিন্ন পর্ব।প্রদর্শনীর ৪০ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা যা মস্কোতেই অবস্থিত।ফলে বিদেশী বিনোয়োগকারীদের আগ্রহ এদের সফল অংশগ্রহনের ওপরই নির্ভর করছে যা মস্কো নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

রাশিয়ার রাজধানী বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে।কারণবশতই মহানগরীকে এর আয়তন আরও বৃদ্ধি করতে হয়েছে।মস্কোর উন্নয়নের নতুন কৌশল যা এখানে একটি আন্তর্জাতিক মূদ্রা কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজকে আরও সহজ করে তুলবে এবং এর অন্যতম একটি পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।নগরীর যোগাযোগ পরিস্থিত যা বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানী থেকে ভিন্ন।এমনটি বলছিলেন মস্কোর বিজ্ঞান ও কারবার রাজনীতি বিভাগের পরিচালক ভিকতর ভালকোভ।তিনি বলছেন, “মস্কো ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্ত নগরী এবং বিশ্বর অন্যতম একটি মহানগরী।মস্কোর প্রশাসনিক দপ্তরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তা শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।দূরবর্তী কোন এলাকায় দ্রুত চিকিত্সার গাড়ি যা দীর্ঘ যানজট ও অসংখ্য গাড়ির ভিড়ে সেখানে সঠিক সময় পৌঁছানো অসম্ভব।এখানে হেলিকপ্টার ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই’’।

সঙ্গত কারণেই মস্কো নগরীর জন্য নতুন হেলিপ্যাড তৈরীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।সুতরাং ‘মাক্সে’ নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এদিকে ‘মাক্স ২০১১’ তে রাশিয়ার নতুন উদ্ভাবিত ২ আসন বিশিষ্ট হালকা হেলিকপ্টার ‘বেরকুত বিল’ প্রদর্শিত হবে।বিদেশী হেলিকপ্টারের সাথে চারিত্রিক বৈশিষ্টগত দিক দিয়ে এটি একদম ভিন্ন এবং দামও ২ গুন কম।

এয়ারো-কসমিক প্রদর্শনী “মাক্স-২০১১” এর বিজনেজ সেন্টারে আগামী ১৮ আগষ্ট মস্কো দিবস পালন করা হবে।ঐ দিন রাজধানীর প্রশাসনের উদ্দেগে আয়োজিত সেমিনার ও গোল টেবিল বৈঠকে সড়ক ও জনপদের নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিমান নির্মাণ কোম্পানী ও কসমিক শিল্পের উন্নয়ন।

এছাড়া মহানগরীর প্রানকেন্দ্রে একটি বিশেষ হেলিপ্যাড কমপ্লেক্স তৈরী করা হবে যেখান থেকে খুব সহজেই রাজধানীর যে কোন বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে।

‘মাক্স’ প্রদর্শনীতে দর্শকরা ১৯৪১ সালের ফ্রন্টলাইন বিমানঘাঁটির অনুরুপ দেখতে পাবেন।মূলত রাশিয়ার বিমান সংস্থার ১০০ বছর ও জার্মানীর ফ্যাসিস্ট কর্তৃক আকাশ পথে মস্কোতে হামলা করার ৭০ বছর পূর্তী উপলক্ষ্যে এটি পুনঃসংস্কার করা হয়েছে।

এছাড়া দর্শকরা মহাকাশচারীদের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো খাবারও খেতে পারবেন।২০ আগষ্ট প্রতিটি দর্শক মহাকাশের খাবেরের সাথে পরিচিতি লাভের সুযোগ পাবেন।

“মাক্স-২০১১” এয়ারো-কসমিক প্রদর্শনীর আয়োজকরা মনে করছেন যে,অন্তত অর্ধ মিলিয়ন দর্শক সমাগম ঘটবে।এখান থেকে মহানগরীর জন্য অতিরিক্ত আয় হবে।বড় কথা হচ্ছে, মস্কো পৃথিবীতে এয়ারো-কসমিক রাজধানী হিসাবে নিজের শেষ্ঠোত্ব ধরে রেখেছে।