বিদায় নেওয়া সপ্তাহটি বিশ্ব বাজারের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না।স্ট্যান্ডার্ডঅ্যান্ড পুর ' সংস্থার সিদ্ধান্তের পরই যুক্তরাষ্ট্রের দেনা করার রেটিং কমিয়ে নেওয়ায়  পুঁজি বাজারে অস্বস্থি শুরু হয়েছে।দেখা দিয়েছে সম্পত্তি বিক্রয়ের প্রবনতা এবং সেই সাথে যোগ হয়েছে বাড়তি ঝুঁকি।বিশ্লেষকদের কাছে যে প্রশ্নটিই এখন ঘুরেফিরে আসছে তা হল,বর্তমান পরিস্থিতি কি তাহলে মন্দার ২য় ঢেউ?। যে বিষয় ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর অনেকবারই আলোচনা করা হয়েছিল।নাকি এটি আবার নতুন মন্দা?।যদি তাই হয় তাহলে কতটা তা অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করবে এবং পৃথিবী কি এই মন্দা মোকাবেলায় তৈরী আছে?।এ বিষয় রেডিও ভয়েস অব রাশিয়া খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছে।

পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে,যা পূর্বেই ছিল।সপ্তাহের শুরুতে মূলত এমন ধারনাই করেছিলেন অনেক অর্থনীতিবিদ।বিশ্ব ঠিক ৩ বছর পূর্বে এমন সময়ের মুখমুখি হয়েছিল।এমনি আগষ্ট মাসের গরম আবহাওয়া ছিল কিন্তু তখন ছিল ২০০৮ সাল।

এ সপ্তাহের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল যে, কি করলে অর্থের মান রক্ষা করা যায়।এর পরিষ্কার উত্তর হচ্ছে স্বর্ন।এই বস্তুটিররেকর্ড পরিবর্তন দাম বেড়েছে। কিন্তু এর কোন বিকল্প নেই।ডলারের নিরাপত্তা বিনিয়োগ যা বর্তমানে বেশ সন্দেহজনক।বর্তমান সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ভীষণ অমিল দেখাচ্ছে।এমনটি বলছিলেন কাজাকিস্তান জাতীয় বাংকের মহাপরিচালক গ্রিগোরী মারচেনকা।তিনি বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সমস্যার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে আবারও মন্দা এসেছে।তাহলে কোথায় যাচ্ছে।হ্যাঁ,মার্কিন ডলার অবশ্য প্রধান মজুদকারী মুদ্রা হলেও অনেকের কাছে এখন আর এর গ্রহনযোগ্যতা নেই।তবে বিশ্বে প্রায় কয়েক ত্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজারে আছে এবং অন্য কোন মুদ্রা রয়েছে যা ডলারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ রূপান্তর করতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মত বৃহত এবং তরল বাজার আর নেই।স্ট্যান্ডার্ডঅ্যান্ড পুর ' সংস্থার সিদ্ধান্তের পরই পুঁজি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।লোকজন সিক্যুরিটিজ মার্কিন ট্রেসারির মধ্যে বিশাল অর্থ বিনিয়োগ শুরু করে”।

গ্রিগোরী মারচেনকা আরও মনে করেন যে,অনেক রাষ্ট্রই ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা সম্পর্কিত কোন চুড়ান্ত ফলাফলা প্রদান করে নি।কিন্তু সেই মন্দাকালিন সমস্যা থেকে এখনও কেটে ওঠা যায় নি।উদাহরন হিসাবে  ইউরোপের কথা বলা হয় তাহলে সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, একটি পদ্ধতিগত পন্থা পর্যন্ত বিকশিত না থেকে ঋণ সঙ্কট সমাধান করা হচ্ছে।গ্রিগোরী মারচেনকা বলছেন, “ইউরোপে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাই আগামী ভবিষ্যতে বজায় থাকবে।এর অর্থ হচ্ছে ইউরোপে সর্বদাই একটা দুঃশ্চিন্তার আশংঙ্কা ঘিরে থাকবে।এরপর হয়ত ইউরোপীয় নেতারা কোন বৈঠকের আহবান করবেন এবং সমস্যা মোকাবেলায় অর্থ তহবিল গঠন করবেন।সবার কাছেই সমস্যার কারণ জানা আছে।গ্রিসকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত হয় নি।তবে সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।গ্রিসের উচিত ছিল নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করার।কিন্তু রাজনৈতিক সমস্যার কারণে ইউরোপ তা করতে পারে নি”।

প্রতিটি অর্থনীতিবিদ বলছেন যে,এই মূহুর্তে ইউরোপ অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চলমান সমস্যা সমাধানের পথ নেই। সেই সাথে প্রত্যাশিত দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতিতেও গঠনগত পরিবর্তন নেই।এমনকি চীনের ইউএন’কে যদি মজুদকারী মূদ্রা ধরা হয় সেক্ষেত্রেও সময়ের প্রয়োজন হবে।