"সিনহুয়া" সংবাদ সংস্থা যেমন জানিয়েছে যে, শুক্রবার ভোর রাতে চিনের দক্ষিণ- পশ্চিমে সিচুয়ান রাজ্যের সিচান মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে পাকিস্তানের "পাকস্যাট- ১ আর" উপগ্রহ সফল ভাবে মহাকাশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে.

    ২০০৮ সালে এই উপগ্রহ পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল চিনের কর্পোরেশন "মহান প্রাচীর" ও পাকিস্তানের মহাকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সর্ব্বোচ্চ স্তরের গবেষণা সংস্থার মধ্যে. এই উপগ্রহ পাঠানো পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের বর্ষপূর্তি ১৪ই আগষ্ট ও চিন পাকিস্তান মৈত্রীর বছরের এক কর্মসূচী হিসাবে করা হয়েছে.

    পাকিস্তানের উপগ্রহের কাজের লক্ষ্য সম্বন্ধে ঘোষিত বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রারম্ভিক সূচনার জন্য এটা পাঠানো হয়েছে.

    চিনে পাকিস্তানের রাজদূত মাসুদ খান বলেছেন, "যোগাযোগের উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো পাকিস্তান ও চিনের মৈত্রীর এক প্রতীকী বিষয় হয়ে থাকবে ও আমাদের সহযোগিতার দিগন্তকে আরও প্রসারিত করবে".

ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই তিরিশটি ট্রান্সপণ্ডার সমেত উপগ্রহের কার্যকরী এলাকা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া, নিকট প্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা ও এমনকি ইউরোপের কিয়দংশ থাকবে. কিছু বিশেষজ্ঞ, যেমন ভারতে, বিশ্বাস করেন যে, এই উপগ্রহ শুধু শান্তিপূর্ণ কাজ কর্মই করবে না. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি এই সম্বন্ধে বলেছেন:

"টাইমস অফ ইন্ডিয়া এর মধ্যেই উল্লেখ করেছে যে, এই "উপগ্রহ" পাকিস্তানকে সামরিক ক্ষেত্রে কিছু স্ট্র্যাটেজিক বৈশিষ্ট্য এবং সীমান্ত পার করে প্রচারের বিষয়ে সুবিধা করে দেবে. ভারতের বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এখন, যখন ঐতিহাসিক ভাবে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সব চেয়ে নীচু স্তরে রয়েছে, তখন চিন পাকিস্তানের একমাত্র ভক্ত ভূ রাজনৈতিক সহচর হয়ে আছে. দুই দেশের পারস্পরিক আগ্রহ স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে: চিন পাকিস্তানকে এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির পথে একমাত্র অন্তরায় হিসাবে দেখতে চায়; আর পাকিস্তানের জন্য এমনকি ভারতের বিরুদ্ধেও একমাত্র নিরাপত্তার গ্যারান্টি হল -  চিন".

ভারতে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, যোগাযোগের উপগ্রহ চিনের পক্ষ থেকে নেওয়া নিজের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার নীতির বাস্তবায়ন ব্যবস্থার আরও একটি পদক্ষেপ. ভারতকে সমুদ্রে ঘিরে ফেলার জন্য কিছু লোকে চিনের পাকিস্তানে, শ্রীলঙ্কায়, বাংলাদেশে ও বর্মায় গভীর সমুদ্রের বন্দর তৈরী করার প্রকল্পের মধ্যে দেখতে পেয়েছেন.

আর এবারে ভারতকে সমুদ্র থেকে ঘিরে ফেলার সঙ্গে যোগ হয়েছে উপগ্রহ, যা ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে কি হচ্ছে তার উপরে নজরদারি করার কাজেও লাগানো যেতে পারে. এই ভাবে, ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা যে রকম নিশ্চিত হয়েছেন যে, উপগ্রহ সত্যই "দিগন্তকে প্রসারিত" করবে, যদিও সম্পূর্ণ সেই অর্থে নয়, যা এই সম্বন্ধে চিনে পাকিস্তানের রাজদূত বলতে চেয়েছেন.

এই ধরনের সন্দেহ কতটা বাস্তব – অবশ্যই তা বিশেষ অর্থবহ নয়. যে কোন ক্ষেত্রেই ভারত, বোঝাই যায় যে, ধার বাকী রাখবে না ও উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে. ফলে এই সব শেষ অবধি শুধু পরবর্তী কালে এই এলাকাতে উত্তেজনাই বৃদ্ধি করবে, যেখানে বিশ্বের একের তৃতীয়াংশ মানুষ থাকে. আর তার মানে হল, আরও সব নতুন ব্যবস্থা তৈরী হবে সেই সমস্ত সমস্যার সমাধানে, যা এই অঞ্চলের মানুষদের প্রকৃত প্রয়োজনের সঙ্গে কোন সম্বন্ধই রাখে না. পাঠক এখানে লক্ষ্য করুন সব কিন্তু শুরু হয়েছে ঐস্লামিক চরমপন্থী পাকিস্তান ও নকল করে পাশ করা চিনের যোগ সাজশে আবারও.