রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা নতুন রিপোর্ট তৈরী করছেন সিরিয়া নিয়ে. তা আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পেশ করা হবে. যাতে এই রিপোর্ট সবচেয়ে বেশী করে বাস্তব ধর্মী হয়, তাই রাশিয়ার রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন দামাস্কাস কে আহ্বান করেছেন তাঁদের দেশে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের যেতে দিতে.

শেষোক্ত দের কাছ থেকেই বেশী করে নির্ভর করছে সিরিয়ার নাটকীয় পরিস্থিতি সম্বন্ধে বাস্তবিক তথ্যের পট চিত্র তৈরী হওয়া. এর আগে রাশিয়াতে এই দেশের অস্থায়ী ভাবে নিযুক্ত কার্যকরী প্রতিনিধি সুলেইমান আবু দিয়াব বিদেশী সংবাদ মাধ্যম গুলির প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, তারা সত্যকে বিকৃত করছেন. সবচেয়ে বেশী কূটনীতিবিদ সমালোচনা করেছেন আরবের টেলিভিশন চ্যানেল "আল – জাজিরা" কে. এই চ্যানেলের থেকেই গত সপ্তাহে বিশ্ব জেনেছে যে, হামা শহরে ভারী মেশিনগানের থেকে গুলি বর্ষণ করে রাষ্ট্রপতি  আসাদের বিরোধী পক্ষের শান্তিপ্রিয় লোকদের মারা হয়েছে. কয়েকদিন আগে সেখানে "রাশিয়া" টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ সংবাদদাতা আনাস্তাসিয়া পাপোভা গিয়েছিলেন. তিনি বিগত পাঁচ মাস ধরে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময়ে প্রথম রুশ সাংবাদিক, যিনি এই দেশে গিয়েছিলেন. "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি উল্লেখ করেছেন:

"সত্যই অনেক ধ্বংস স্তুপ রয়েছে সেখানে, কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পুলিশের থানা ও সরকারি ভবন. দেখাই যাচ্ছিল যে সেখানে গুলি করা হয়েছে মেশিনগান ও শট গান থেকে. জানলা ভাঙা ও বাড়ীর বিরাট একটা অংশ সম্পূর্ণ ভাবেই পুড়ে গিয়েছে, একেবারে ছাই হয়ে গিয়েছে. গাড়ী অনেক ভাঙা, তার মধ্যে পুলিশের ভ্যানও রয়েছে, বোধ হয়, সেই শহরে একটাও পুলিশের গাড়ী আর আস্ত নেই. পুলিশের জুতো, ইউনিফর্ম রাস্তায় পড়ে রয়েছে. একটাই স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে যে, তারাই যোদ্ধাদের মূল লক্ষ্য ছিল. অন্যান্য বাড়ী ঘর, অংশতঃ বসত বাড়ী, একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি, মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি. বেশীর ভাগ ভাঙচুর হয়েছে পুলিশের থানাতে, আদালতে ও পর্যটক পুলিশ দপ্তরে".

রাশিয়ার সাংবাদিকের স্থানীয় জনতার সঙ্গে যোগাযোগের সম্বন্ধে মত খুবই আগ্রহের. তাঁর লক্ষ্য করা বিষয় গুলি প্রসঙ্গতঃ, বিশেষজ্ঞদের জন্য যাঁরা নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্ট তৈরী করবেন, তাঁদের জন্য অদরকারী নাও হতে পারে. তিনি বলেছেন:

"লোকে কিছুটা সন্ত্রস্ত, তাঁরা কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেছেন, অংশতঃ সেই সমস্ত শহরে, যেমন হামা. প্রাথমিক ভাবে তাঁরা প্রশ্ন করেছেন – কোন দেশ থেকে সাংবাদিকেরা এসেছেন? তাঁরা ভয় পান যে, এঁরা হতে পারে "আল- জাজিরা" থেকে আসা লোক. "আল- জাজিরা" কে খুবই অপছন্দ করেন তাঁরা, পশ্চিমের টেলিভিশন চ্যানেল গুলিও তাঁদের পছন্দ নয়, কারণ তাঁরাও ইন্টারনেটে সংবাদ লক্ষ্য করেন ও আশ্চর্য হয়ে যান কি করে এই তথ্যকে উল্টো করে দেওয়া হয়. অংশতঃ, একই ধরনের ছবি দেখানো হয়, কিন্তু তার সম্বন্ধে মন্তব্য একেবারেই বিপরীত. উদাহরণ হিসাবে, প্রায়ই মোবাইল টেলিফোনে তোলা ছবি দেখানো হয়ে থাকে, তলায় লেখা হয় এটা কোন নির্দিষ্ট শহর. কিন্তু স্থানীয় জনতা বলেন যে, তাঁদের এই ধরনের কোন রাস্তাই নেই, এই ধরনের সেতুই নেই, আর তাঁদের জায়গায় রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদই হয় নি. এমন অবধি হয়েছে যে, একটি শহরে যেখানে মিছিল দেখানো হয়েছে, সেখানে ভিডিও তোলা হয়েছে সূর্যের আলোয়, আর এই দিন সেখানে হয়েছে প্রবল বৃষ্টি, প্রসঙ্গতঃ তা শুধু এক ঘন্টার জন্য নয়. তথ্য বিকৃত করা হয়, আর লোকে এটা দেখে বুঝতে পারছেন, তাই তাঁরা সব সময়ে যোগাযোগ করতেও চান না. তাছাড়া সকলেই পরিনামের ভয় পান, তাঁদের হয়তো টেলিভিশনে দেখানো হবে, সম্ভবতঃ তাঁদের কাছে জঙ্গীরা আসতে পারে, আর তাঁদের অবস্থান জেনে যে, তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে ও তাঁর সংশোধনকে সমর্থন করছেন, তাঁদের ভয় দেখাতেও পারে. এটা সব শহরেই একাধিকবার হয়েছে, যেখানে উত্তেজনা ছড়িয়েছে".

বহু আরব রাজনীতিবিদের মতে, সিরিয়া এক নৃশংস মানসিক যুদ্ধের লক্ষ্য হয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরু করিয়েছে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশকে দিয়ে. অংশতঃ, লেবাননের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ফৈসাল আবদেল সাতের মনে করেন যে, কয়েক দিন আগের ইজিপ্টের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুহম্মদ আমরু যে ঘোষণা করেছেন, তা হয়েছে ওয়াশিংটনের নির্দেশেই. মন্ত্রী দামাস্কাস কে একটা চরমপন্থী সম্ভাবনার কথা বলেছেন – হয় রাজনৈতিক সংশোধন হবে সিরিয়াতে, নয়তো বিদেশী অনুপ্রবেশ. তাই সাতের বলেছেন:

"সিরিয়া সম্বন্ধে ইজিপ্টের ঘোষণা অভূতপূর্ব ও আচমকা. এর আগেও এটা সত্য যে, শেখ আল- আঝার ও আরব লীগের সাধারন সম্পাদক নাবিল আল – আরবি মন্তব্য করেছিলেন. কিন্ত সরকারি ভাবে ইজিপ্টের অবস্থানের হঠাত্ পরিবর্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবেই শুধু হতে পারে. বিশেষত সৌদি আরবের রাজার ঘোষণার পর ও সিরিয়া থেকে তাদের ও কুয়েইত দেশের রাজদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে. এই সব দেশের অবস্থান, খুব সম্ভবতঃ, সিরিয়ার পক্ষ থেকে সশস্ত্র দল গুলিকে সক্রিয় ভাবে বাধা দেওয়ার পরে ও দামাস্কাসের পক্ষ থেকে ধীরে সারা দেশের পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার একটা উত্তরও হতে পারে".

"রেডিও রাশিয়ার" সঙ্গে সাক্ষাত্কারে "আল- মুতাউয়াস্সেত" (রুশ ও আরবী ভাষায় মস্কো থেকে প্রকাশিত জার্নাল) এর প্রধান সম্পাদক হুসেইন নাসরুল্লা একই সঙ্গে এই সম্ভাবনা বাদ দিতে পারেন নি যে, এই সপ্তাহে সিরিয়া থেকে কুয়েইত, বাহরিন ও সৌদি আরবের রাজদূত দের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের চাপে পড়েই হয়েছে.