দামাস্কাসের কাজকে তিনটি কথায় সংজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন – ধৈর্য্য. সংশোধন ও আলোচনা. এছাড়া দেশের পরিস্থিতি ভাল হতে পারে না. এই বিষয়ে বুধবারে রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন সিরিয়া বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরে ঘোষণা করেছেন.

    সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে শোনা হয়েছে. সেই তথ্য তৈরী করেছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের সহকারী অস্কার ফার্নান্ডেস – তারাঙ্কো. এই রিপোর্টে অংশতঃ বলা হয়েছে বাশার আসাদ নিজেদের দেশের জনগনের বিরুদ্ধে সামরিক অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন, প্রায় দুই হাজার শান্তিপ্রিয় মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, তের হাজার লোককে জেলে পাঠানো হয়েছে, বহু সহস্র লোক উদ্বাস্তু হয়েছেন. রাষ্ট্রসংঘে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার জাফারি নিজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমের সহকর্মীরা সত্যকে বিকৃত করার চেষ্টা করছেন ও দামাস্কাসে গৃহীত খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গুলিকে লুকিয়ে ফেলতে চাইছেন. তিনি পশ্চিমের দেশ গুলির পক্ষ থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদী দল গুলির সদস্য, যাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে, তাদের দস্যু বলে সিরিয়ার পক্ষ থেকে নাম দিতে চাওয়া ব্যাপারটা অস্বীকার করাকে "কপট আচরণ ও নাক উঁচু দেখানো" বলে নাম দিয়েছেন.

    অবস্থানের এই ধরনের সংঘর্ষ আগে থেকেই অনুমেয় ছিল. একই সময়ে সিরিয়ার বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গত সপ্তাহের ও এবারের বৈঠকে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে পশ্চিমের যুযুধান বক্তব্যের ধার ধীরে হলেও জোর হারাচ্ছে. বাশার আসাদের পক্ষে সময় জয় করা সম্ভব হয়েছে ও তার ফলে তিনি হার স্বীকার করার ভূমিকায় নেই. তার উপরে তিনি তাঁর দেশের বহু লোকের সামনেই বরং জয়ী হতে পেরেছেন, আর তার সঙ্গেই আরব দেশগুলির সহকর্মীদের কাছেও, এই কথা মনে করে প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

    "আসাদের কৃতিত্বও আছে তিনি ঘোষণা করেছেন গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের, সরকার বদল করেছেন, বহু দলীয় শাসনের ঘোষণা করেছেন, তারপরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়েছেন, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন. দ্বিতীয় ব্যাপার অবশ্যই যে, রাশিয়া ও চিন রাষ্ট্র সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছে. কোন সন্দেহ নেই যে, এই পরিস্থিতি আসাদ বিদেশের থেকে সমস্ত সমালোচনা স্বত্ত্বেও ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা করে দিয়েছে. প্রসঙ্গতঃ এখানে যদি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে কোন সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়, তবে তাঁর ভূমিকা এক প্রতিভাবান নেতার মতো করে তুলবে".

0আগামী সপ্তাহে সিরিয়া নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ আবারও নতুন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবে. সেখানে মানবাধিকার রক্ষা ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে রিপোর্ট শোনা হবে. এখানে মূল্যায়ণ অনেকটাই নির্ভর করছে, বাশারের পক্ষে ট্যাঙ্ক কত তাড়াতাড়ি নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, তার উপরে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নতুন বৈঠকের আগে যথেষ্ট সময় রয়েছে যাতে সরকার ও বিরোধী পক্ষ আলোচনা করতে বসতে পারে. এই প্রসঙ্গে দামাস্কাসের এই দুটি পদক্ষেপ নিতেই সুবিধা রয়েছে, যদি তারা নিজেদের দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশের থেকে কোন অনুপ্রবেশ না অনুভব করে. ওয়াশিংটন থেকে গতকাল বাশার আসাদকে পদত্যাগের আহ্বান, অবশ্যই সিরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য কোন রকম আগ্রহী করার কথা নয়. প্রসঙ্গতঃ ওয়াশিংটন নিজেও সক্রিয় ভাবে এই বিরোধে মাথা গলাতে চাইছে না. প্রাথমিক পরিকল্পনায় বোধহয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় সিরিয়ার প্রতিবেশী আরব দেশ গুলিকেই এগিয়ে দিতে তৈরী হয়েছে.