সর্বত্র প্রসারিত বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে আজ জরুরী বৈঠকে বসছেন ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যরা. তাঁরা সঙ্কট পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর বিষয়ে আলোচনা করবেন. বুধবারে জরুরী পরিস্থিতি পরিষদের বৈঠকের পরে ডেভিড ক্যামেরন ঘোষণা করেছিলেন যে, পুলিশকে বিক্ষোভ দমনের জন্য রবারের বুলেট ও জলের কামান ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে. ব্রিটেনের জন্য এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটে নি. আর বিচারকেরা এর মধ্যেই ধরা পড়া ভাঙচুর ও লুঠতরাজ চালানো লোকদের প্রাথমিক ভাবে শাস্তি বহাল করেছেন. সরকার আশান্বিত ভাবে জানাচ্ছে: গত রাত দেশে শান্ত ভাবেই কেটেছে, কোন বড় মাপের ঘটনা ঘটে নি.

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন: গ্রেট ব্রিটেনের ঘটনা সারা ইউরোপের নেতাদের জন্যই একটা শিক্ষা হতে পারে.

ইংল্যান্ডের শহর গুলিতে অল্প বয়সীদের বিক্ষোভ পাঁচ দিন ধরে বিশ্বের প্রধান খবর হয়ে রয়েছে. ইউরোপের জন্য, যেখানে অভিবাসিত লোকেদের সমাকলনের প্রশ্ন, কর্মসংস্থান প্রতি বছরের সঙ্গেই আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছে, গ্রেট ব্রিটেনের ঘটনা – এটা একটা সঙ্কেত: এই রকম হতে পারে পুরানো পৃথিবীর যে কোন দেশেই.

আর এটা বলা যেতে পারে ইউরোপীয় সঙ্ঘের প্রতিটি দেশের জন্যই, যারা নিজেদের দেশে বাধ্য হয়ে অথবা স্বেচ্ছায় অভিবাসিত লোকেদের নিয়েছে. ইতালিতে টিউনিশিয়া ও লিবিয়ার লোকেরা বিগত সময়ে একাধিকবার গণ্ডগোলের সূচনা করেছে, কারণ সেখানের সরকার তাদের দেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয় পত্র দিতে অস্বীকার করেছে. IPALMO আন্তর্জাতিক রাজনীতি ইনস্টিটিউটের সহ সভাপতি দারিও রিভোল্টা বিশ্বাস করেন: ইউরোপের যে কোন দেশেই গণ্ডগোল শুরু হতে পারে, তিনি বলেছেন:

"এই বিদ্রোহী লোকেরা কেউ দুর্ভিক্ষে মারা যাচ্ছে না, সকলেই সরকারের ভাতা প্রাপক. কিন্তু নিজেদের চারপাশে অল্পবয়সীরা দেখতে পাচ্ছে ধনী ও বিত্তশালী লোকেদের, যা তারা তাদের সারা জীবনে কখনোই পাবে না. এটাই তাদের মধ্যে সরকার ও সমাজের প্রতি একটা শত্রুতা তৈরী করে দিচ্ছে. অভিবাসন নিজের থেকে কোন খারাপ ব্যাপার নয়. খারাপ তখনই, যখন অল্প সময়ের মধ্যে বিদেশীদের সংখ্যা বেশ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে".

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, ইংল্যান্ডের বিদ্রোহ অর্থনৈতিক সঙ্কট ও বহু সংস্কৃতি সমাকলনের রাজনীতি পতনের ফলে হয়েছে. রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের আন্তর্জাতিক পরিষদের সভাপতি মিখাইল মার্গেলভ উল্লেখ করেছেন যে, "ইউরোপের ঐতিহাসিক বিগত সময়ে প্রতি বোকা সেজে থাকার ফলে এই সব দেশের শহর গুলি প্রাক্তন তৃতীয় বিশ্ব থেকে আসা লোকে ভর্তি হয়ে গিয়েছে, তাদের অনেকেই শুধু ইউরোপের মূল্যবোধের কানাকড়িও দামই দেয় না বরং প্যারিস, ব্রাসেলস, লন্ডন, কোলোনের রাস্তার আচরণ বিধি ও মানে না".

জার্মান পররাষ্ট্র রাজনীতি পরিষদের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার রার নিজেই সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানের বিদ্রোহ পুরনো দুনিয়ার সামাজিক ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ রকমের পেরেস্ত্রোইকা করেই ছাড়বে, তিনি বলেছেন:

"ইউরোপের দেশ গুলিতে প্রতিবাদের ক্ষমতা অনেক বেশী ও গুরুত্বপূর্ণ. এর থেকে সমস্ত রাজনীতিবিদদের নির্দিষ্ট রকমের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ও উচিত্. আমাদের চোখের সামনে বিশ্ব বদলে যাচ্ছে. তা আর আগের মতই নেই, যা গত ২০ বছরে মনে হয়েছে, যখন পশ্চিমের লিবারেল মডেল কে মনে হয়েছে বিতর্কের উর্দ্ধে, স্থিতিশীল, সারা বিশ্বের জন্যই উদাহরণ স্বরূপ. বরং বিগত কিছু বছরে বিশাল সমস্যা তৈরী হয়েছে. পুরনো মতে ব্যবস্থা ধরে রাখা যাচ্ছে না. আর মূখ্য হল – সারা ইউরোপের সমাজের জন্যেই কোন একটা নতুন ন্যায়ের মডেল খুঁজে পাওয়া দরকার. এখন ইউরোপে প্রত্যেক তৃতীয় যুবক, এমনকি তাদের উচ্চ শিক্ষা থাকলেও, কাজ পাচ্ছে না. এর অর্থ হল ব্যবস্থা একেবারে গভীরতম সঙ্কটে পড়েছে".

ইজিপ্টের রাজনীতিবিদ তারেক হেগ্গি বিশ্বাস করেন যে, ইউরোপের ক্ষমতাসীনেরা খুবই নির্দিষ্ট সঙ্কেত পেয়েছেন – বর্তমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাকলনের ব্যবস্থা ও তাছাড়া সমাজের গরীব স্তরের মানুষদের সংযোজনের ব্যবস্থা পাল্টানো দরকার.

ব্রিটেনের ঘটনার একেবারেই আচমকা প্রতিক্রিয়া এসেছে ইরান ও লিবিয়া থেকে. ইরানের নেতা, যিনি প্রায়ই তার দেশের বিরোধী পক্ষের উপরে শক্তি প্রয়োগ করে থাকেন, তিনি ব্রিটেনের পুলিশের "জান্তব ব্যবহারের নিন্দা করেছেন" ও ডেভিড ক্যামেরনকে "জনতার প্রয়োজনের কথা শুনতে বলেছেন". একই রকম ভাবে মুহম্মর গাদ্দাফির অধীনের লোকেরা বক্তব্য প্রকাশ করেছেন. লন্ডনে প্রসঙ্গতঃ এই গুলির প্রতি মনোযোগ দিতে চাওয়া হয় নি: ব্রিটেনের প্রশাসনের সমস্ত সময় ও শক্তি অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা থামানোর দিকেই এখন রয়েছে.