এশিয়ার সমস্ত বড় বাজারেই মনে হচ্ছে আতঙ্ক আপাততঃ "পেছিয়ে" দেওয়া হল পরের কোন সময়ের জন্য. বুধবারে শেয়ার বাজার খোলার পরেই চার শতাংশ উঠেছে সূচক. এই ভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যবস্থার গতকালের ঘোষণা, যা করা হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের শান্ত করার জন্য ও আতঙ্ক গ্রস্ত অবস্থায় সমস্ত শেয়ার বেচে দেওয়া বন্ধ করার জন্য, তা বাজার গুলিতে নতুন করে জিততে শুরু করিয়েছে.

তা স্বত্ত্বেও, নতুন করে আবার পতন শুরু হতেই পারে, এই সম্ভাবনা বাদ দেন নি "ত্রোইকা ডায়ালগ" কোম্পানীর ইভগেনি গাভ্রিলেঙ্কোভ, তিনি বলেছেন:

"খুব সম্ভবতঃ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একেবারে নীচের দামে পৌঁছে যাবে. অনির্দিষ্ট অবস্থা রয়ে যাবে – কি রকম গতিতে বিশ্ব অর্থনীতি উন্নতি করবে, কোম্পানী গুলির ভবিষ্যতের লাভ কি ধরনের হবে এই সব বিষয়ে. আসন্ন ভবিষ্যতে বাজারে হয় খুবই ধীর গতিতে উন্নতি অথবা থেমে থাকা দেখতে পাওয়া যেতে পারে".

মঙ্গলবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যবস্থা মূল সুদের হার গুলিকে সম্ভাব্য সবচেয়ে কম মাত্রায় আগামী ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধরে রাখা হবে বলে ঘোষণা করেছে. অর্থাত্ সুদের হার ঋণের ক্ষেত্রে বাড়ে নি, বিনিয়োগের বাজারে সুদের হার আগের মতই রেখেছে. এখান থেকেই এশিয়ার বাজার গুলিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে, যেখানে আগে আমেরিকার বাজারে কার্যরত কোম্পানী গুলির শেয়ার বেচা কেনা করা হয়. একই সঙ্গে এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঘোষণায় কত খানি বেশী বিশ্বাস করে আমেরিকার অর্থনীতিকে উত্সাহ দিতে যাবে, তা বলা খুবই কঠিন.তার ওপরে, যখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রক শেয়ার বাজারে আতঙ্ক ছড়ানো পরিস্থিতিতে বিক্রী করে দেওয়া বন্ধ করতে চেয়েছে, তখন বিনিয়োগকারীরা কিছুটা বিলম্ব করে আবারও শুরু করেছে "রক্ষা করতে পারে" এমন সব বিদেশী মুদ্রা কেনা. ফলে সুইজারল্যান্ডের ফ্রাঙ্কের দাম ডলারের তুলনায় নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড করেছে. আর জাপানের ইয়েন প্রতি ডলারের জন্য মাত্র ৭৭ ইয়েন মাত্রায় পৌঁছেছে. অর্থাত্ বিনিয়োগকারীরা এই সমস্ত উপকরণ গুলিকে বিশ্বের বাজার থেকে "লুটে পুটে" নিচ্ছেন, যা সোনার মতই তাঁদের কাছে মনে হয়েছে ভরসা করার উপযুক্ত.

মঙ্গলবারে সোনার দাম আবারও রেকর্ড করেছে. তার ওপরে এবারেই ২০০৮ সালের পরে প্রথম তা প্ল্যাটিনামের চেয়ে বেশী দামী হয়েছে. এটা বাজারে চাপ সৃষ্টির আরও একটি সূচক.

চিন, যারা গত কয়েক মাস ধরে খুবই সক্রিয় ভাবে নিজেদের ক্রমবর্ধমান বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় সোনা করে রেখেছে, বোধহয় এবারে বাধ্য হবে নিজেদের মুদ্রার হার ধরে রাখার জন্য অনেক অর্থ খরচ করতে. তা ডলারের সঙ্গে তুলনায় দামী হয়েছে, ফলে চিনের রপ্তানী মূল্য প্রতিযোগিতায় হারছে. তার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ – যারা চিনের উত্পাদনের নেতৃস্থানীয় আমদানীকারক, আসন্ন সময়ে, সব বিচার করে মনে হয়েছে, যে চিন থেকে কেনা বন্ধ করতে বাধ্য হবে. মঙ্গলবারে চিন স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, চিনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকে "স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুয়োরস্" সংস্থার করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম ঋণ রেটিং কমানোর ফলে উদ্ভূত ত্সুনামি থেকে বাঁচিয়ে আনা খুবই কঠিন কাজ হবে. এই ঘোষণা করা হয়েছে চিনের উপপ্রধান মন্ত্রী ভান শিশানিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রী টিমোথি গাইটনারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরেই.

জাপানের সরকারের ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব স্থানীয় লোকেরা গত কাল আমেরিকার মন্ত্রীর সাথে আবার পরামর্শ করেছেন. আর চিনের সরকারের প্রধান ভেন জিয়াবাও তাঁর মন্ত্রীসভার বিশ্বের বাজারের পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে সমস্ত আগ্রহী দেশকে নির্দিষ্ট ও দায়িত্বশীল নীতি নিতে বলেছেন বিনিয়োগকারীদের ভরসা সংরক্ষণের জন্য. আপাততঃ খুবই তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে বলা যে, আমেরিকার ঋণের রেটিং কমা নিয়ে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়েছে.