ব্রিটেন এক টানা তিন দিন ধরে রাস্তায় গোলমাল ও লুঠতরাজ চলছে. পুলিশ আপাততঃ কম বয়সী দলের কাছে পিছু হঠছে. সরকার জরুরী সঙ্কট বৈঠক করেছে.

    লন্ডন, বার্মিংহ্যাম, লিভারপুল, ব্রিস্টল – ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় শহর গুলি – বর্তমানে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে. বাড়ী ঘর ও গাড়ী জ্বলছে, কম বয়সীদের দল পুলিশের থানা আক্রমণ করছে, বাস ভর্তি লোক ও কাফে আর রেস্তোরার জনগনকে বেধড়ক পেটাচ্ছে, জামা কাপড় খুলে উলঙ্গ করে ছেড়ে দিচ্ছে. পুলিশ এদের ঘোড়ার তলায় পিষছে, লাঠি পেটা করছে, কুকুর দিয়ে তাড়া করাচ্ছে. গ্রেপ্তার হওয়া লোকের সংখ্যা চারশো পেরিয়েছে. কিন্তু আপাততঃ বেশী করে এগিয়ে রয়েছে যারা ভাঙচুর করছে ও লুঠ করে পালাচ্ছে, তারা. সরকার তো দেখে মনে হচ্ছে কূল হারিয়েছে.

    রাস্তার লড়াই ও লুঠপাট বর্তমানে লন্ডনের ধনী ও অভিজাত পাড়াতেও ছড়িয়েছে. শহরের পশ্চিমে নটিং হিল ও কেনসিংটন আর নিরাপদ নেই. অপরাধীদের হাতে ক্ষমতা, সে অস্থায়ী হলেও লন্ডনের বহু জায়গাতেই এখন বাস্তব ঘটনা ও কিছু বড় শহরেও চলছে. সংরক্ষণশীল দের সমর্থক দের মধ্যে যারা ইন্টারনেটে ব্লগ লিখছেন, তাদের বক্তব্য এই বর্তমানের ঢেউয়ের পিছনে রয়েছে মাদক মাফিয়া, "ব্রিটেনকে ক্ষয় করার মতো কর্কট রোগ".

    প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাঁর ইতালিতে অবসর যাপন খুব একটা দ্রুত থামিয়ে আগুণ জ্বালা ও রাস্তায় মারামারি হওয়া লন্ডনে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন নি. প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের সঙ্কট মোকাবিলা করার সংগঠনের বৈঠক, যা কোবরা নামে পরিচিত তা পরিচালনা করেছেন. বৈঠকের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যামেরন সমস্ত গোলমালের যারা নাটের গুরু, তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, "শীঘ্রই ওরা আইনের সমস্ত জোর টের পাবে". প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, সরকার আইন মেনে চলা জনগনের জন্য দেশের রাস্তাঘাট নিরাপদ করবে. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টেরেজা মেই সোমবার পুলিশের নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করেছেন ও আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন. মেই এর উপরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে তিনি গোলমাল করা লোকেদের উপরে জলের কামান ব্যবহারের নির্দেশ দেন. সরকার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জলের কামান ব্যবহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, এই ভয়ে যে, বলা হবে অযৌক্তিক ভাবে বেশী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে.

    পুলিশের উপরে আর ভরসা না রেখে, জনগন নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিয়েছে. লন্ডনের এক জায়গায়, যেখানে অনেক তুরস্কের লোক থাকেন, দোকানের মালিকেরা তাদের বউ, ছেলেমেয়েদের নিয়ে লাঠি সোটা দিয়ে গুণ্ডাদের পিটিয়ে তাড়িয়েছে. কিছু দোকান ও কাফে কাজ করছিল, এই ভাবেই তারা বোঝাতে চেয়েছে যে, গণ্ডগোলে ভয় পায় নি ও নিজেদের জন্য নিজেরাই যথেষ্ট.

    ব্রিটেনের গণ্ডগোলের লোকেরাও, ইজিপ্টের লোকেদের মতই দল পাকানোর জন্য প্রধান অস্ত্র হিসাবে সামাজিক ইন্টারনেট সাইটকেই বেছে নিয়েছে. প্রাথমিক ভাবে টুইটার. মোবাইল ফোনের কেনা বেচার জায়গা গুলি প্রথমেই লুঠ হয়ে গিয়েছে. সর্বাধুনিক সম্ভাব্য সমস্ত সরঞ্জাম দিয়ে নিজেদের সজ্জিত করে শহরের গেরিলা দল গুলির যোদ্ধারা তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করছে, কোথায় আক্রমণ করা হবে, আর পরে কোন পথে পালাতে হবে তাও ঠিক করছে.

    একই সময়ে টুইটার সাইটে একজন প্রভাবশালী সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর লোক ও স্থানীয় পার্লামেন্টের সদস্য নাসের আল – শেখ, ব্রিটেনের গণ্ডগোলের নিন্দা করে বলেছেন যে, আরব দেশ গুলি ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবাদের সমর্থন করে, কিন্তু লন্ডনের ঘটনা তাদেরও ফ্যাকাসে করে দিয়েছে.

0    অন্যান্য শহর ও লন্ডনের আইন মেনে চলা লোকেরা ভয়ে দেখছেন কি ঘটছে. "আমি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ও সমস্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাই আমাকে সেখানের ভাঙচুর মনে করিয়ে দিচ্ছে, শুধু একটাই তফাত, যে, পুলিশ এখানে ততটা নৃশংস নয়. কিন্তু ওই কম বয়সীদের পুলিশ বা লোকের ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপরে কোন রকমের মর্যাদা জ্ঞান নেই. আর এটা এখানে থাকা সমস্ত লোকের জন্যই খুবই দুঃখের", - এই ব্যক্তির কথা জানিয়েছে রয়টার সংবাদ সংস্থা.