অর্থনৈতিক ঝাঁকুনির পরপর কয়েকটি ঠেলা, ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির ধার শোধের সমস্যা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফল্টের ঝুঁকি, বিশ্ব সার্বিক জাতীয় উত্পাদনের হারের মন্দা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্ভাবনা সম্বন্ধে আলোচনার জন্ম দিয়েছে. সঞ্চয়ের উপকরণ হিসাবে ডলার ও সোনার বিষয়ে বোধগম্য কোনও বিকল্প না থাকার কারণে, বৃহত্তম দেশ গুলির ঋণ জর্জর অবস্থা, আঞ্চলিক ভারসাম্যহীণতা অর্থনীতিবিদদের নতুন উন্নতির মডেল খুঁজতে বাধ্য করেছে. "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার বিশ্লেষকেরা তাঁদের পূর্বাভাস ও মন্তব্য প্রকাশ করেছেন.

বর্তমানের পরামর্শদাতারা, "কি করে পয়সা জমানো যায়", এই প্রশ্নের উত্তরে বনেদী উত্তর দিয়ে চলেছেন -  "সোনা করে রাখুন", অথবা একেবারেই দু হাত ছড়িয়ে হতাশা দেখাচ্ছেন. দেখে অনেক মনে হলেও বিকল্প আসলে কিছুই নেই.

কিন্তু চাহিদা থাকলে তার জন্য সরবরাহ আসে. নতুন প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্র হওয়া উচিত্ চিনের, এই বিষয়ে স্থির বিশ্বাস নিয়ে "কালিতা – ফাইনান্স" গ্রুপের আলেক্সেই ভিয়াজভস্কি বলেছেন:

"চিন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতেই পারে, কিন্তু শুধু সেই ক্ষেত্রে, যদি তারা ইউয়ান কে পাল্টে দেয় (অর্থাত্ ইউয়ান কে ডলারের থেকে আলাদা করে). বর্তমানে ইউয়ান ডলারের সঙ্গে খুবই কঠোর ভাবে জড়ানো, আর তাই বিশ্বের সঞ্চয়ের মুদ্রা হতে পারে না. এর জন্য দরকার এটাকে স্বাধীন ভাবে ভাসমান অবস্থায় ছাড়া উচিত্ ও তা সম্পূর্ণ ভাবে বদল যোগ্য হওয়া দরকার. কিন্তু তার সঙ্গে দেশের ভিতরের রাষ্ট্রীয় ঋণের বাজারও উন্নত করা দরকার. তখন বিনিয়োগকারীরা চিনের রাষ্ট্রীয় ঋণ পত্রের জন্য এগিয়ে আসবেন ও এর সঙ্গে ইউয়ানও কিনবেন. তখন সত্যই দিক পাল্টে যেতে পারে ও চিন বিশ্বের নেতৃত্ব স্থানীয় জায়গা দখল করতে পারে".

উল্লেখ যোগ্য হল যে, সমস্ত দারুণ ব্যাপারই এর মধ্যেই আসলে ভেবে বার করা হয়ে গিয়েছে. যা একবার বাস্তবায়িত করা হলেই – এমনকি খুব একটা ভাল করে না করতে পারলেও – ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের মুদ্রার মতো বিশ্বের নানা জায়গাতে একই ধরনের প্রক্রিয়া চালু হয়ে গিয়েছে. এটা যেমন – "সোনার দীনার", আমেরো, সুকরে, আর রুবল, এই সবের কথা উল্লেখ করে ফিনাম ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার ওসিন বলেছেন:

"এটা হতে পারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের স্বীকৃত ঝুড়ির কোন মুদ্রা. এই সম্বন্ধে একাধিকবার বলা হয়েছে. এটা চিনের ইউয়ান হতে পারে, ব্রাজিলের রিয়াল, ইউরো, আমেরো. এই ধরনের জোট এখনই তৈরী হচ্ছে. এটা নিকট প্রাচ্যকেও স্পর্শ করেছে, এটা স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহতেও হতে চলেছে, আর ইউরোপীয় সঙ্ঘেও হয়েছে. আমেরিকা মহাদেশেও এই সমাকলন প্রক্রিয়া চলছে".

দেশ গুলির জাতীয় থেকে জাতির উর্দ্ধে থাকা মুদ্রায় যাওয়া অবশ্যম্ভাবী, এই বিশ্বাস নিয়ে বলেছেন "রেডিও রাশিয়ার" কাছে বিশ্লেষকেরা. একই ভাবে ইউরোপীয় সঙ্ঘের মতো আঞ্চলিক সংগঠনও তৈরী হবেই. আর "নিওকন" কোম্পানীর অর্থনীতিবিদ ও প্রেসিডেন্ট মিখাইল হাজিন নিজের পূর্বাভাসে আরও একটু দূরে চলে গিয়েছেন, তিনি বর্তমানের বিশ্ব অর্থনৈতিক মডেলের পতনের পূর্বাভাস দিয়ে দেশ গুলির আভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বাইরের থেকে আসা বিনিয়োগের ফলে উন্নতির মডেল নিয়ে বলেছেন:

"এই মডেল সত্যই শেষ পর্যায়ে এসেছে. তাত্বিক ভাবে হয়তো কোন বিকল্প মডেল থাকতে পারে. আপাততঃ তা কেউ জানে না, সেই গুলি কি রকমের হবে. আমি মনে করি যে বিভিন্ন মুদ্রার এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মডেল থাকবার সম্ভাবনাকে বাদ দেওয়া যায় না কেউ হয়তো সমাজবাদে ফিরতে পারে, কেউ হয়তো জাতির প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় ধন তন্ত্র গঠন করতে পারে, আর কোথাও হয়তো থাকবে খোলা বাজার".

বর্তমানের অর্থনৈতিক মডেলের দুর্বলতা, যখন বিশ্বের বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গৃহিনীদের ভোগের স্তরের উপরে, তা বোধহয় সমস্ত বিশেষজ্ঞই বুঝতে পারেন. এখন শুধু অপেক্ষার পালা, যখন তারা সকলের বোধগম্য ও গ্রহণ যোগ্য নতুন মডেল প্রস্তাব করতে পারবেন.