0ভারত ইরানকে একশো কোটি ইউরো দিতে পেরেছে, এর ফলে দেশে ইরানের থেকে খনিজ তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হয়েছে, বলে জানিয়েছে সোমবারে শানা সংবাদ সংস্থা ইরানের জাতীয় খনিজ তেল কোম্পানীর ডিরেক্টর আহমদ গালেবানির বক্তব্যকে উত্স করে. চিনের পরে ভারত ইরানের খনিজ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, এই দেশের জন্য ইরানের উত্পাদনের প্রায় কুড়ি শতাংশ খনিজ তেল প্রয়োজন পড়ে. ভারতের চাহিদার শতকরা ১২ শতাংশ এই দেশ থেকে আমদানী করা হয়ে থাকে. গত শুক্রবার পর্যন্ত ভারত ইরানকে চারশো আশি কোটি ডলার (খনিজ তেলের দাম হিসাবে) দেওয়ার কথা ছিল, আমরা একশো কোটি ইউরো পেয়েছি, যার ফলে আগের চুক্তি অনুযায়ী এই দেশে আমরা খনিজ তেল সরবরাহ করতে পারবো. – বলেছেন ইরানের জাতীয় খনিজ তেল কোম্পানীর কার্যকরী ডিরেক্টর আহমদ গালেবানি. জুলাই মাসের শুরুতে তেহরান ভারতকে খনিজ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল, যদি দিল্লী দ্রুত ইতিমধ্যেই রপ্তানী করা কাঁচামালের জন্য দাম দেওয়ার পথ খুঁজে বের না করতে পারে. সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা সমেত চিঠি ইরানের জাতীয় খনিজ তেল কোম্পানীর তরফ থেকে পাঠানো হয়েছিল ভারতের বৃহত্তম ইরানের খনিজ তেল ব্যবহারকারী মাঙ্গালোর রিফাইনারি ও পেট্রো কেমিক্যালস লিমিটেড কোম্পানী ও এসার অয়েল কোম্পানী কে. আগে যেমন উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভারতকে ইরান ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে চার লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল সরবরাহ করবে ক্রেডিটে, ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এশিয়া ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন ব্যবহার করে ইরানকে তেলের দাম দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল, যা কয়েক মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে করতে বাধ্য হয়েছিল. এর আগে ইরানের সঙ্গে হিসাব মেটানোর জন্য সৌদি আরব ও জাপানের মুদ্রা, ইউরো ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল. ভারত ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে ভারতীয় টাকা দিয়ে দাম দিতেই পারত, কিন্তু দিল্লী চায় না যে, ইরান এই টাকা ব্যবহার করে ভারতীয় কোম্পানীর শেয়ার কিনুক. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরও এক সারি দেশ ইরানকে শান্তি পূর্ণ পারমানবিক প্রকল্পের বাহানায় পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করার বিষয়ে দোষ দিয়েছে. তেহরান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে, ঘোষণা করেছে যে, তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা একমাত্র দেশের বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের লক্ষ্যেই করা হয়েছে. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২০১০ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে. এটা চতুর্থ নিষেধাজ্ঞা, যা নিরাপত্তা পরিষদ তেহরানের আন্তর্জাতিক দাবী না মানার জন্য ও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক গুচ্ছ প্রশ্নের বিষয়ে উত্তর দিতে অসম্মতির জন্য নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যও রয়েছে. ছয় পক্ষের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কারী দল, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্বন্ধে, যার মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ গুলি (রাশিয়া, চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন), আর তার সঙ্গে জার্মানী, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে একসাথে ইরানের কাছ থেকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রকল্প বন্ধ করা সম্বন্ধে দাবী জানিয়েছে, যা পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ বিষয়ে বিপদের কারণ হতে পারে.