তালিবদের বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন চালিয়ে যাওয়া সম্বন্ধে রবিবারে এক টেলিফোন আলাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্থানের রাষ্ট্রপতিরা সম্মতি দিয়েছেন. হামিদ কারজাই তাঁর আমেরিকার সহকর্মীকে ফোন করে ভারদাক রাজ্যে একসাথে তিরিশ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন.

    আমেরিকার সেনারা (তাদের সঙ্গে আরও সাতজন আফগান বিশেষ বাহিনীর লোক ও অনুবাদক) হেলিকপ্টার পতনের ফলে মারা গিয়েছেন, যেটি তালিবদের তথ্য অনুযায়ী মাটি থেকে রকেট ছুঁড়ে ধ্বংস করা হয়েছে. ফলে ৬ই আগষ্ট দিনটি মার্কিন সেনা বাহিনীর জন্য আফগানিস্থানে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনে পরিনত হয়েছে একটু কম দশ বছর ধরে যুদ্ধের ইতিহাসে. কিন্তু এটা ছাড়াও আমেরিকার সামরিক নেতৃত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল. এই বছরের গত সাত মাসে আফগানিস্থানে প্রাণ দিয়েছেন কম করে হলেও সাড়ে তিন হাজারেরও বেশী বিদেশী সৈন্য. তার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশী আমেরিকার. আর এই একটা তথ্যই ওয়াশিংটনে আমেরিকার কৌশলের প্রতি সন্দেহ জাগায়.

    এখন অবধি এই কৌশল ছিল যাতে হিসেব কষে, নিয়মিত চাপ দিয়ে তালিবদের শান্তি আলোচনাতে বসতে বাধ্য করা – অবশ্যই আমেরিকার শর্ত অনুযায়ী. দেখা যাচ্ছে যে, এই ধরনের চেষ্টায় শুধু তালিবেরা আমেরিকার কৌশলকে একেবারেই আমেরিকার কায়দায় ব্যবহার করতে শিখে নিয়েছে – শক্তি প্রয়োগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা, তবে তা তালিব দেরই শর্ত অনুযায়ী. এটা হোয়াইট হাউসকে তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভান করা থেকে সত্যিকারের যুদ্ধ করতে কি বাধ্য করবে? অথবা আগের মতই কৌশল চালু থাকবে?

    এই প্রশ্ন গুলির উত্তর দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক সহকর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পথ খুঁজছে, যা তাদের আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাবর্তনের পরেও যে কোন ধরনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ও যে কোন রকমের শক্তির অবস্থানেই এখানে নিজেদের প্রভাব রাখতে সাহায্য করবে. তারা কথায় বর্তমানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইকে সমর্থন করছে, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও কোন গ্যারান্টি দিতে পারছে না যে, তিনি সেনা বাহিনী চলে যাওয়ার পরেও নিজের পদেই থাকবেন. গত দশ বছর ধরে চলা যুদ্ধের পরেও তালিবদের রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয় নি. উল্টো ভাবে তাদের প্রভাব খালি আমেরিকার ভুলের জন্য বিগত সময়ে বেড়েই চলেছে. একই সময়ে আমেরিকার সেনা বাহিনীর ক্ষতি আফগানিস্তানে আপাততঃ ইরাকের ক্ষতির সঙ্গে মেলানোর মত না হলেও তার কাছাকাছিই হতে চলেছে. এটা বারাক ওবামার নির্বাচন পূর্ববর্তী ইমেজের পক্ষে ক্ষতি কারক. তাই হোয়াইট হাউসের দরকার এখনই কোন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার মতো কোনও পরিবেশ তৈরী হয়, অন্ততঃ এই রকমের পরিস্থিতির একটা ভান করা সম্ভব হয়. আর এখানে সেই সমস্ত তালিবদের ব্যবহার করার লোভ সামলানো কঠিন – সঠিক করে বললে, তাদের সেই অংশ, যাদের বিশ্বের বাইরের দেশের লোকেদের জন্য আমেরিকার লোকেরা বলে আসছে "মধ্যপন্থী"".

    এখানে মনোযোগ দেওয়ার মতো ঘটনা হল, বিগত কিছু কাল ধরে পশ্চিমের সংবাদ সংস্থা গুলি এবং তাদের রাজনীতিবিদেরাও, প্রায় সময়েই তালিবদের আর সন্ত্রাস বাদী বলছেন না. এখন তাদের প্রায়শঃই নাম দেওয়া হয়েছে বিরোধী পক্ষের যোদ্ধা বলে. হতে পারে যে, এই বিবর্তনের কারণ তালিবান আন্দোলন সত্যই আরও মধ্যপন্থী হয়েছে? এটা সে রকম আবার সে রকম নয়ও, এই কথা বলে ভ্লাদিমির সোতনিকোভ যোগ করেছেন:

    "তালিবান আন্দোলন সত্যি বদলাচ্ছে. তারা এখন আর গত শতকের নব্বই এর দশকের শেষের মত নেই, যারা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এসেছিল. নতুন পরিস্থিতিতে তারাও পাল্টেছে ও নতুন ধরনের সামনে লক্ষ্য স্থাপন করেছে, ৯০ এর দশকে, যখন আমেরিকা তালিবদের সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল বাস্তবে, যে কোন ধরনের কাজেই স্বীকৃতী দিয়েছিল, তখন আফগানিস্তান ছিল একটা মাত্র শর্তাধীন, যেন একটি দেশ হিসাবে চলে. তখন কাজও ছিল অন্য. এখন তালিবদের নেতৃত্বের লক্ষ্য অন্য – তাদের প্রয়োজন ক্ষমতায় ফেরা. কারণ তারা আজ নিজেদের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে প্রমাণ করতে চায়, যারা একাই পারে সমস্ত "জঙ্গী" যোদ্ধা নেতাদের শান্ত করতে. তাই এখন হোয়াইট হাউসের কাজ  তালিবদের নেতাদের কাজের সঙ্গে এক হয়েছে – দুই দায়ী পক্ষের আলোচনার ভান করা, যারা তৈরী আছে চরম পন্থী ও সন্ত্রাসবাদীদের একঘরে করতে. কিন্তু এটা বলা যে, তালিবদের আন্দোলন অন্য হয়েছে বাস্তবে, তা মনে হয় না ঠিক হবে. হতে পারে কখনও তা পাল্টাবে. কিন্তু আপাততঃ যখন এই আন্দোলনের নেতারা একই রয়েছে, তখন তারা বড় জোর বাইরে পাল্টাতে পারে, ভিতর থেকে নয়. এখন অনেকেই দেখাতে চাইছেন যে, তালিবেরা পাল্টেছে, দশ বছর আগের পশ্চিমের জোটের সামরিক অনুপ্রবেশের সময়ের থেকে. আর তালিবেরাও এই ধরনের চেষ্টার সঙ্গে খুশী মনে খেলে যাচ্ছে, নাকি খেলিয়ে যাচ্ছে"?