সিরিয়ার ব্যাপারে লিবিয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া আপাততঃ মুলতুবী রইলো

 

মস্কো দামাস্কাস প্রশাসনের বিরোধীপক্ষের সাথে আলোচনায় বসা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থাণের উদ্দেশ্যে সংস্কারমুলক কাজ শুরু করার ওপর জোর দিচ্ছে. রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন, যে রাশিয়ার কূটনীতিজ্ঞরা জাতিসংঘে সিরিয়ার জন্য এরকম পরিস্থিতি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন.

 

   আপাততঃ সিরিয়ায় পরিস্থিতি গোলমেলে বলে মন্তব্য করেছেন দমিত্রি মেদমেদেভ Russia Today টেলিচ্যানেল ও জর্জিয়ার প্রথম ককেশাস চ্যানেলকে দেওয়া ইন্টারভিউয়ে. সিরিয়ার প্রশাসকেরা বিরোধীদের ওপর আক্রমণ করার ফলে প্রায় ২০০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হওয়ার পরেই মেদভেদেভ এই মন্তব্য করেছেন. রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবী করে প্রায় ছ-মাস আগে বিরোধীরা প্রতিবাদী আন্দোলন শুরু করার পরে গতসপ্তাহের ঘটনা সিরিয়ায় সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী. মেদভেদেভ বাশার আসাদকে বলেছেন, যে মানুষের উপর নির্যাতন বন্ধ করে সিরিয়ায় রাজনৈতিক পুণর্নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করলেই একমাত্র এই সমস্যার সুরাহা হতে পারে.

 

    আমি ব্যক্তিগত আলাপে এবং চিঠির মাধ্যমে বাশার আসাদকে জানিয়েছি, যে অনতিবিলম্বে দেশে সংস্কার শুরু করা দরকার, বিরোধীপক্ষের সাথে মিটমাট করা প্রয়োজন এবং আধুনিক রাষ্ট্রের পত্তন করা জরুরী. আসাদ যদি তা রকতে ব্যর্থ হন, তবে তার কপালে দুর্ভোগ আছে. আমাদেরওতো এ ব্যাপারে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেছেন মেদভেদেভ.

 

     জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে শলা-পরামর্শ চলাকালীন মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট-বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানী ও পর্তুগাল রাশিয়ার ওপর চাপ দিয়ে সিরিয়ার ব্যাপারে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করার চেষ্টা করেছিল. কিন্তু মস্কো বুঝিয়ে দিয়েছে, যে সিরিয়াতেও যাতে লিবিয়ার মতো পরিস্থিতি সৃস্টি না হয়, সেজন্য সে যথাসাধ্য করবে. ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনের সমর্থনক্রমে রাশিয়া সিরিয়ার ব্যাপারে কোনো কড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দেয়নি. ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘ সিরিয়ায় মানবাধিকার লংঘণ এবং জনসাধারণের উপর অত্যাচারের সমালোচনা করে এক ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছে. দীর্ঘমেয়াদী মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেনকো মনে করেন, যে জাতিসংঘের আহ্বাণের দৌলতে ওদেশে গৃহযুদ্ধ এড়ানো ও সমাজসংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে.

 

     ‘আসাদ দেশে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন. বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য নেই. তাদের সব আলাদা আলাদা আর্থিক ও রাজনৈতিক দাবী. ইতিমধ্যেই ঘটনার বাঁক ঘোরার আভাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে. দেশে সংস্কারের কাজ শুরু করলেই সেটা সম্ভব. সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, তা সিরিয়াকে আগের একনায়কতন্ত্র থেকে বাঁচাতে পারে.’

 

       এই সপ্তাহে বাশার আসাদ দেশে বহুপার্টি গঠনের আইন জারি করেছেন. বিরোধীরা সংস্কারের দাবী করছে, আর তিনি তাদের মূল দাবী মেনে নিয়েছেন. তবে প্রাচ্য বিশারদ ভ্লাদিমির আখমেদভের সন্দেহ, যে এই পদক্ষেপ দেশে স্থায়ীত্ব পুণর্স্থাপণ করতে পারে.

 

    ‘ কিরকম সব রাজনৈতিক পার্টি গঠিত হবে, যখন নতুন আইন অনুসারে ৫০ জন লোক মিলেই একটা পার্টি গঠণ করতে পারে. আর সবচেয়ে বড় কথা, আজ যে সব রাজনৈতিক শক্তি রাস্তাঘাটে আন্দোলন করছে, তারা কি রাস্তা ছেড়ে রাজনৈতিক পার্টি গড়তে রাজি হবে?’

 

             জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার ঘটনাবলীর ওপর কড়া নজর রাখছে. সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য থেকেই তা পরিষ্কার. যদি অদূর ভবিষ্যতে সত্যিকারের সংস্কার সিরিয়ায় না করা হয়, তাহলে পাশ্চাত্য দুনিয়া আবার নতুন করে সিরিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবী জানাবে.