স্টক-এক্সচেঞ্জে প্যানিকঃ পূর্বাভাস আশাব্যান্জক নয়

 বিশ্বের সব স্টক-এক্সচেঞ্জ গত সপ্তাহে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার খুইয়েছে. যখন বিশ্ব আর্থিক সংকটের চূড়ায় অবস্থান করছিল, তখনই শেষবার স্টক-এক্সচেঞ্জ এত ঝক্কি সামলেছে.

বিনিয়োগকারীদের দুর্ভাবনার কয়েকটি কারন আছে. প্রথমতঃ ইউরোপের দেনার সমস্যা ও আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ঋণের সর্বোচ্চমাত্রা বৃদ্ধি. বাঁচা গেছে, যে মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র দেউলিয়া ঘোষিত হয়নি. শেষমুহুর্তে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিক্যানরা আপোষে এসে রাষ্ট্রীয় ঋণের উর্দ্ধসীমা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে. কিন্তু আমেরিকার ঋণ বাড়ার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে. পরন্তু গতকাল ‘Standard & Poor’ ইতিহাসে এই প্রথম আমেরিকার দেনা করবার রেটিং কমিয়ে ‘AAA’ থেকে AA+ করেছে. ইউরোপেও গ্রীসের পেছন পেছন অন্যান্য দেশও ঋণের দায়ে প্রায় সর্বশান্ত হওয়ার অবস্থায়. ইতালি, যে কিনা আমেরিকা ও জাপানের পর দুনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বন্ডের দখলদার, তারও ধার শোধ করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে. ‘আর্থিক বাজার’ প্রোগ্রামের ভাষ্যকার আন্দ্রেই লুসনিকোভ বলছেন –

ইউরোপোর বাজারে অধিকাংশ দেশের সরকারী বন্ড কেউ কিনতে চাইছে না. একবছর আগে ঐ তালিকায় ছিল শুধু গ্রীস, তারপরে এল পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড. ার এখন ইতালি ও স্পেন আর্থিক দিক থেকে কতখানি মজবুত – তা নিয়েও সংশয় জাগছে. সুতরাং পরিস্থিতি মোটেই সুবিধার নয়.

        এই সপ্তাহের শেষে সমস্যাকীর্ণ ইউরোপীয় দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাইপ্রাস. তার কারন হল, সে দেশের ব্যাঙ্কগুলি, যাদের হেফাজতে জাতীয় GDP-র থেকেও অনেক বেশি অর্থ মজুত আছে, তারা গ্রীসের দেউলিয়া হওয়া কোম্পানিগুলির বন্ডের মালিক.

     গতকালও বিশ্বের সব শেয়ার মার্কেটে অধিকাংশ কোম্পানির দাম কমেছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে খেলুড়েরা পরিস্থিতি কতখানি সাংঘাতিক, তা এখনো উপলব্ধি করে উঠতে পারেনি. কয়েক মাস আগেও লোকে বিশ্বাস করছিল, যে বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে, কিন্তু সত্যিই আর্থিক সংকটের পরে সেরে উঠছে. বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দর কভালোভের মতে এশিয়ার বাজার নতুন ট্রেন্ড তৈরি করছে. –

     আমেরিকা ও চীনের বাজারেও আর্থিক উন্নয়নের গতি মন্থর হয়েছে.গত দুই সপ্তাহ ধরে এশিয়ার বাজারগুলিও একই পথ ধরেছে. যদিও ইতিপুর্বে সংকটকালে এশিয়ার বাজারগুলি তাদের দম দেখিয়েছিল বলে উল্লেখ করছেন নর্ড ক্যাপিটাল কোম্পানির প্রধান ভ্লাদিমির রোঝানকোভস্কি. –

আগে যখন এরকম ঘটনা ঘটেছে, তখন এশিয়া স্টক-এক্সচেঞ্জে তাদের সামর্থ্য প্রদর্শণ করেছিল, বিশেষতঃ পেট্রোলের ব্যাপারে. এবারে সেটা ঘটেনি. যখন সব দ্রব্যের বাজারেই ঝড় ওঠে, তখন এশিয়াও ঘাবড়াতে শুরু করে. –

    এখন বোঝা যাচ্ছে, যে পাশ্চাত্যের দেশগুলির নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর মতো দম আর নেই. বিশেষজ্ঞদের দৃঢ় বিশ্বাস, যে শেয়ার মার্কেটের পড়তি চলতেই থাকবে.